টক্সিন: একটি নিরব ঘাতক

হঠাৎ করেই ওজন বেড়ে যাচ্ছে , অল্পতেই ক্লান্ত হয়ে পড়ছেন বা সারারত জেগে থাকতে হচ্ছে ঘুম না হবার কারণে অথবা কোন কারণ ছাড়াই প্রচুর ঘামছেন। সাম্প্রতিক সময়ে এ সমস্যাগুলোতে বেশিরভাগ মানুষ ভুগছেন। আর এই সমস্যা থেকে পরিত্রাণ পাবার জন্য একেক জন একেক পন্থা অবলম্বণ করছেন কিন্তু কিছুতেই যেন কোন কাজ হচ্ছে না!

কেন কাজ হচ্ছে না? একবার ও খতিয়ে দেখেছেন কি ?

এই সমস্যার পেছনে মূল কারণ হচ্ছে টক্সিন। টক্সিন শব্দটি অনেকেই শুনেছেন। কিন্তু এর ভয়াবহতা এবং এর সৃষ্টির পিছনের কারণ সম্পর্কে জানেন খুব কম সংখ্যক মানুষ ।

টক্সিন হচ্ছে এক ধরণের জৈব বিষ যা দীর্ঘ সময় নিয়ে শরীরে প্রবেশ করে অভ্যন্তরীণ বিভিন্ন অর্গানগুলোকে আক্রান্ত করে ফেলে। মানবদেহে প্রতি মুহূর্তে টক্সিন তৈরি হয় । শরীর থেকে টক্সিন বের হতে না পারলে তা আমাদের শরীরের প্রতিটি কোষকে আক্রমণ করে বসে যা পরবর্তীতে বিভিন্ন জটিল রোগের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। টক্সিন সাধারণত দূষিত পানি ,অপরিষ্কার – অপরিচ্ছন্নতা, বাসি খাবার,দূষিত বায়ু ইত্যাদির মাধ্যমে শরীরে প্রবেশ করে থাকে ।

টক্সিন কীভাবে তৈরি হয়?

আমাদের শরীরে যে বর্জ্য উৎপন্ন হয় তা মল, মুত্র, ঘাম, নিঃশ্বাস ইত্যাদির সাথে দেহ থেকে বের হয়ে যায়। যদি উৎপন্ন বর্জ্যের পরিমাণ নির্গত বর্জ্যের থেকে বেশি হয় তবে কিছু পরিমাণ এই দূষিত দেহে জমতে জমতে টক্সিনে পরিণত হয়। হজমে সমস্যা থাকলে, মলত্যাগে সমস্যা হলে, ঘাম না হলে ,পরিমিত পানি পান না করলে শরীরে টক্সিন জমতে শুরু করে বা টক্সিন উৎপন্ন হওয়া সহজ হয়ে যায়। এছাড়া কায়িক পরিশ্রমের অভাবেও শরীরে টক্সিন জমে। যারা শাক সবজি কম খান, জাংক ফুড বেশি খান এবং মদ বা সিগারেট পান করেন তাদের শরীরে টক্সিন উৎপন্ন হওয়ার মাত্রা বেশি ।মানবদেহে এমন কোন জায়গা নেই যেখানে টক্সিন জমতে পারে না। সামান্য সর্দি জ্বর থেকে শুরু করে স্ট্রোক, প্যারালাইসিস, ব্রংকাইটিস ছাড়াও বেশিরভাগ শারীরিক রোগের জন্য টক্সিন দায়ী ।

শরীরে টক্সিনের আধিক্য কীভাবে বুঝবেন?

শরীরে অত্যধিক টক্সিন জমা হলে তা শরীর নিজেই তা জানান দেয়। কিছু শারীরিক লক্ষণ রয়েছে যা দেখলে আপনি নিশ্চিত হতে পারবেন আপনার শরীরে টক্সিনের আধিক্য রয়েছে।

(১) কোষ্ঠকাঠিন্য

লারজ ইন্টেস্টাইন প্রত্যহ মলের সঙ্গে শরীরের টক্সিন বের করে দেয়। নিয়মিত মল ত্যাগ না হলে শরীরে টক্সিন জমে এবং ফলস্বরুপ কোষ্ঠকাঠিন্য হয়।

(২) ওজন বেড়ে যায়

কিছুই খাচ্ছেন না অথচ ওজন বেড়ে যাচ্ছে অথবা হঠাৎ করেই ওজনটা বেড়ে গেল এমনটা অনেকের ক্ষেত্রেই হয়ে থাকে। আবার অনেক চেষ্টা করেও ওজন কমাতে পারছেন না। এমন ক্ষেত্রে বুঝবেন শরীরে টক্সিন জমেছে। সাধারণত চিনি বেশি খেলে, রাসায়নিক খাবার, ক্যানবন্দি খাবার, জাংক ফুড বেশি খেলে এক সময় এই সমস্যার সম্মুখীন হতে হয় ।

(৩) একটুতেই ক্লান্ত

শরীরে টক্সিনের আধিক্যে একটুতে ক্লান্তি ভর করে। রোজকার সাধারণ কাজ করতেই হাপিয়ে উঠছেন, অফিস থেকে ফিরে বিছানা ছেড়ে উঠতে ইচ্ছে করছে না বা শুয়ে থাকলেই যেন ভালো লাগে। এমন হলে বুঝবেন টক্সিনের মাত্রা বেড়ে গেছে। টক্সিন শরীরের স্বাভাবিক রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমিয়ে দেয় বলেই এমনটি হয়।

(৪) চর্ম রোগ

চামড়া বা ত্বক আমাদের দেহ থেকে টক্সিন বের করে দিতে সহায়তা করে। অন্ত্র এবং লিভার যখন খাবারে থাকা টক্সিন বের করে দিতে পারে না , তখনই ত্বক সেই টক্সিন বের করার চেষ্টা করে এর ফলেই ফোঁড়া, র‍্যাশ, বিভিন্ন চর্ম রোগ হয় ।

(৫) মাথা ব্যথা

টক্সিনের অন্যতম লক্ষ্য হল মস্তিষ্কের সেন্ট্রাল নার্ভাস সিস্টেমে বাসা বেঁধে যাওয়া । এর ফলে বিভিন্ন টিস্যু খুব অনুভূতি প্রবণ হয়ে পড়ে। তখন সামান্য কারণেই এই টিস্যুতে যন্ত্রণা দেখা দেয়। এর নাম হল মাইগ্রেন ।

(৬) মুড সুইং

প্রসেসড ফুড, এডিটিভ ফুড এবং কৃত্রিম উপায়ে তৈরি খাবার থেকে এক ধরণের টক্সিন শরীরে ঢোকে যাতে জেনোইস্ট্রোজেন থাকে। এ ধরণের টক্সিন এর প্রভাবে হঠাৎ হঠাৎ করেই মেজাজের পরিবর্তন ঘটে। শুধু তাই নয় এস্পারটেস নামক ধরণের টক্সিন শরীরে প্রবেশ করলে ডিপ্রেশন হয় ।যারা এসব খাবার বেশি খান তারা ডিপ্রেশনের শিকার হন ।

(৬) নিঃশ্বাসে দুর্গন্ধ

প্রসেসড ফুড খাওয়ার ফলে শরীরে অত্যধিক মাত্রায় শর্করা প্রবেশ করে। যাতে ক্ষতিকর ব্যাক্টেরিয়া তৈরি হয় এবং বাড়তে থাকে। তা পরিপাক তন্ত্র তো বটেই সঙ্গে মুখেও বাসা বাধে। ফলে মুখের দুর্গন্ধ থেকে মুক্তি পান না। এছাড়াও অত্যধিক ঢেকুর এবং হজমের সমস্যা হয়ে থাকে।

(৭) পেশিতে ব্যথা ও কালশিটে

কোন চোট লাগেনি কিন্তু শরীরে বিভিন্ন পেশিতে ব্যথা হচ্ছে। সঙ্গে রয়েছে কালশিটে। এটা অত্যধিক টক্সিনের লক্ষণ। খাবার, ঘর পরিষ্কার করার বিভিন্ন জিনিস প্রসাধনী ইত্যাদি ক্রমাগত ব্যবহারের ফলে আমাদের শরীরে স্ট্রেস পড়তে থাকে এবং ডিফেন্স সিস্টেম দুর্বল হয়ে পড়ে। এতে পেশিতে অক্সিজেনের জোগান কমে যায় ,তার ফলেই পেশিতে ব্যথা হয়। সঙ্গে কালশিটে পড়ে যায় ।

(৮) শরীরের তাপমাত্রা বেড়ে যাওয়া

শরীরে অত্যধিক টক্সিন জমে গেলে রক্তের সংগে তা লিভারে পৌছায় ।লভার তখন সেই টক্সিন মিশ্রিত রক্ত শোধন করতে অতিরিক্ত খাটে ।এর ফলেই দেহের তাপমাত্রা বেড়ে যায় ।সঙ্গে প্রচুর ঘাম হয় ।

(৯) অনিদ্রা

শরীরে তক্সিন বেড়ে গেলে ঘুমে ব্যাঘাত ঘটে বা ঘুম আসে না। কারণ টক্সিন শরীরের টিস্যুতে জমা হয়, ঠিক মতো ব্লাড সার্কুলেশন হতে দেয় না।

(১০) যকৃতে অসুবিধা

যকৃতে টক্সিন জমা হবার ফলে যকৃতে র মুখ বুজিয়ে দেয়। এতে করে জিহ্বাতে হলুদ দাগ পড়ে থাকে। যদি এমনটা হয় তবে বুঝবেন রক্তে টক্সিন বেড়ে গেছে।

(১১) পেটে অতিরিক্ত মেদ জমা

শরিরে ক্ষতিকারক টক্সিন বেড়ে গেলে শরীর গ্লুকোজ লেবেল ব্যালেন্সড থাকে না। এর সঙ্গে কোলেস্টেরলকে সঠিক ভাবে কাজে লাগাতে পারে না । ফলে পেটে মেদ জমে যায়।

আজ এই পর্যন্তই। পরের পর্বের জন্য একটু অপেক্ষা করতে হবে। খুব শীঘ্রই টক্সিন থেকে পরিত্রাণের উপায় নিয়ে হাজির হয়ে যাব।

জেনে রাখুন রাতে রুটি খাওয়া ভালো না খারাপ

শরীরকে সুস্থ ও রোগমুক্ত রাখতে রুটির বিকল্প হয় না বললেই চলে। রুটিতে থাকা একাধিক পুষ্টিকর উপাদান হার্টের স্বাস্থ্যের উন্নতি ঘটায়। তবে কেউ ওজন কমাতে, কেউবা অভ্যাসের কারণেই রাতে রুটি খেয়ে থাকেন। কিন্তু রাতে রুটি খাওয়ার অভ্যাস কি স্বাস্থ্যকর? একদল বলছেন অবশ্যই। আরেক দলের মত একেবারে ভিন্ন। এক্ষেত্রে পুষ্টিবিজ্ঞানীদের একাধিক গবেষণায় দেখা গেছে রাতে রুটি খেলে শরীরের অন্দরে নিচের পরিবর্তনগুলি ঘটে।

এনার্জির মাত্রা বৃদ্ধি পায়
একাধিক কেস স্টাডি এবং গবেষণায় দেখা গেছে রাতে রুটি খেলে শরীরে শক্তির মাত্রা চোখে পড়ার মতো বেড়ে যায়। ফলে ক্লান্তি দূর হয়ে শরীর একেবারে চাঙা হয়ে ওঠে।

ওজন কমে সাহায্য করে
রুটিতে ক্যালরির পরিমাণ খুব কম থাকে। মাত্র ৭০। তাই রাতে রুটি খেলে ওজন বাড়ার কোনো আশঙ্কা নেই। তাই যারা ওজন কমাতে চান তারা রাতের খাবারে রুটি রাখতেই পারেন।

শরীরে জমা অতিরিক্ত ফ্যাট ঝরায়
একাধিক গবেষণা মতে, রাতে রুটি খেলে শরীরে জমে থাকা অতিরিক্ত ফ্যাট ঝরতে শুরু করে। ফলে ওজন কমে যায়। মূলত রাতে রুটি খেলে ওজন তো বাড়েই না, উল্টে কমতে শুরু করে।

হজমের উন্নতি ঘটে
রুটিতে থাকা ফাইবার শরীরে প্রবেশ করামাত্র হজম ক্ষমতা বাড়াতে শুরু করে। সেই সঙ্গে গ্যাস-অম্বল এবং বদ-হজমের মতো সমস্যাও কমিয়ে দেয়। এখানেই শেষ নয়, রাতে ভাতের চেয়ে রুটি তাড়াতাড়ি হজম হয়। ফলে বদ-হজমের আশঙ্কা কমে।

রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণ
রুটির গ্লাইসেমিক ইনডেক্স খুব কম হওয়ায় খাওয়ামাত্র রক্তে সুগারের মাত্রা বেড়ে যাওয়ার কোনো আশঙ্কা থাকে না। ফলে ডায়াবেটিকরা নিশ্চিন্তে সকাল-বিকেল রুটি খেতে পারেন।

মস্তিষ্কের ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা কমে
একাধিক গবেষণা মতে, রাতে নিয়মিত রুটি খেলে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে থাকে। ফলে হঠাৎ করে প্রেশার বেড়ে যাওয়ার কারণে হার্ট অ্যাটাক এবং স্ট্রোক হওয়ার আশঙ্কা কমে। সেই সঙ্গে রুটিতে উপস্থিত একাধিক উপকারি উপাদান ব্রেন পাওয়ার বাড়াতে বিশেষ ভূমিকা রাখে।

ত্বকের জন্য উপকারি
রুটিতে প্রচুর মাত্রায় জিঙ্ক রয়েছে। এটা ত্বকের সৌন্দর্য বৃদ্ধির পাশাপাশি বলিরেখা কমাতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। তাই রাতে রুটি খাওয়া ত্বকের জন্যও ভালো।

ক্যান্সার রোগ প্রতিরোধ
রুটিতে উপস্থিত সেলেনিয়াম ও ফাইবার একাধিক ক্যান্সার রোগের প্রকোপ কমাতে বিশেষ ভূমিকা রাখে। বিশেষত, যাদের পরিবারে এমন রোগের ইতিহাস আছে, তারা রাতে রুটি খেতেই পারেন।

চুলের যত্নজেনে নিন কিভাবে আলু দিয়ে সাদা চুলকে কালো করবেন?

এ সমস্যার সমাধান করতে পারে খুবই সাধারণ একটি প্রাকৃতিক উপাদান, আর তা হলো আলু! কীভাবে আলুর সাহায্যে সাদা চুল কালো করে ফেলবেন, তার বিস্তারিত মেটা গার্লি ওয়েবসাইটের এই পরামর্শ একবার দেখে নিতে পারেন।

যেভাবে তৈরি করবেন

প্রথমে পাঁচটি আলুর খোসা ছাড়িয়ে নিন। এবার একটি প্যানে দুই গ্লাস পানি নিন। এখন এতে আলুর খোসা দিয়ে গরম করুন। পানি ফুটতে শুরু করলে পাঁচ মিনিট রান্না করুন। এবার চুলা থেকে নামিয়ে ঠান্ডা করুন। এর পর একটি বাটিতে এই মিশ্রণ ছেঁকে আলুর খোসা ফেলে দিন। আপনি চাইলে এর মধ্যে দুই-এক ফোঁটা রোজমেরি অথবা ল্যাভেন্ডার অয়েল দিতে পারেন।

যেভাবে ব্যবহার করবেন

প্রথমে চুল ভালো করে ধুয়ে নিন। এবার এই মিশ্রণ দিয়ে মাথায় হালকাভাবে ম্যাসাজ করুন। আধা ঘণ্টা রেখে দিন। এরপর পানি দিয়ে চুল ধুয়ে ফেলুন। দেখবেন, কয়েক দিন ব্যবহারেই আপনার সাদা চুল কালো হয়ে যাবে।

বিনা পয়সার যে খাবারটি আজীবন যৌবন ধরে রাখে, নতুন চুল গজায়!!

image_133107_0

সমস্যা সমাধান ও রোগ নিরাময়ের জন্য আমরা কত কিনা করি। চিকিৎসা করতে গিয়ে বেশ ক্ষতি ডেকে আনি নিজেদের জন্যই। কষ্ট লাঘবে তখন পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার বিষয়টা মাথায় থাকে না। বিশেষ করে টাইফয়েড জ্বর, ডায়রিয়া, কলেরার মতো পেটের রোগে অ্যান্টিবায়োটিকও চলে আকছার।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াযুক্ত ওই সব ওষুধগুলির দামও অনেক সময় নিম্ন আয়ের মানুষের নাগালের বাইরে হয়ে যায়। অথচ আমাদের হাতের কাছেই কিছু ভেষজ গাছ রয়েছে, যেগুলি অত্যন্ত অল্প দামে বা একটু খুঁজলে বিনামূল্যেও পাওয়া যায়, আমরা জানি না। অনেক সময় জেনেও, বিশ্বাস হয় না। তেমনই একটি ভেষজ উদ্ভিদ হল থানকুনি।
থানকুনি আমাদের অতিপরিচিত পাতা। পুকুরপাড় বা জলাশয়ে হামেশাই দেখা মেলে। কথায় বলে, পেট ভালো থাকলে মনও ফুরফুরে থাকে। চিকিত্‍সকরাই বলছেন, থানকুনি পাতার এমন ভেষজ গুণ রয়েছে, মিয়মিত খেতে পারলে, পেটের অসুখে কোনও দিনও ভুগতে হবে না। শরীর-স্বাস্থ্য তো সতেজ থাকেই, ছোট থেকে খাওয়াতে পারলে বুদ্ধিরও বিকাশ হয়। দেখে নেওয়া যাক, যৌবন ধরে রাখতে ও সুস্থ থাকতে থানকুনি পাতার ভেষজ গুণগুলি।
১. পেটের রোগ নির্মূল করতে থানকুনির বিকল্প নেই। নিয়মিত খেলে যে কোনও পেটের রোগ থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। একই সঙ্গে পেট নিয়ে কোনও দিনও সমস্যায় ভুগতে হয় না।
২. শুধু পেটই নয়, আলসার, এগজিমা, হাঁপানি-সহ নানা চর্মরোগ সেরে যায় থানকুনি পাতা খেলে। ত্বকেও জেল্লা বাড়ে।
৩. থানকুনি পাতায় থাকে Bacoside A ও B। Bacoside B মস্তিষ্কের কোষ গঠনে সাহায্য করে ও রক্ত চলাচল বাড়ায়। থানকুনি পাতা নিয়মিত খেলে স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধি পায়।
৪. থানকুনি স্নায়ুতন্ত্রকে সক্রিয় রাখতে সাহায্য করে।
৫. মৃতকোষের ফলে চামড়ায় অনেক সময়ই শুষ্ক ছাল ওঠে। রুক্ষ হয়ে যায়। থানকুনি পাতার রস মৃতকোষগুলিকে পুনর্গঠন করে ত্বক মসৃণ করে দেয়।
৬. পুরনো ক্ষত কোনও ওষুধেই না সারলে, থানকুনি পাতা সিদ্ধ করে তার জল লাগালে সেরে যায়। সদ্য ক্ষতে থানকুনি পাতা বেটে লাগালে, ক্ষত নিরাময় হয়ে যায়।
৭. থানকুনি পাতা চুল পড়া আটকে দেয়। এমনকি নতুন চুল গজাতেও সাহায্য করে।
৮. বয়স বাড়লেও, যৌবন ধরে রেখে দেয় থানকুনি পাতার রস। প্রতিদিন একগ্লাস দুধে ৫-৬ চা চামচ থানকুনি পাতার রস মিশিয়ে খেলে, চেহারায় লাবণ্য চলে আসে। আত্মবিশ্বাসও বেড়ে যায়।
৯. দাঁতের রোগ সারাতেও থানকুনির জুড়ি মেলা ভার। মাড়ি থেকে রক্ত পড়লে বা দাঁতে ব্যথা করলে একটা বড় বাটিতে থানকুনি
পাতা সিদ্ধ করে, তারপর ছেঁকে নিয়ে সেই জল দিয়ে কুলকুচি করলে উপকার পাওয়া যায় চটজলদি।

জানুন ৫ টি “কোলেস্টোরলযুক্ত” খাবার সম্পর্কে যা আপনাকে সুস্থ রাখবে

অতিরিক্ত কোলেস্টোরল যক্ত খাবার দেহের জন্য ক্ষতিকর তা আমরা সকলেই জানি। কিন্তু আপনি জানেন কি? এমন কিছু কোলেস্টোরলযুক্ত খাবার রয়েছে যা স্বাস্থ্যের জন্য ভালো এবং যেগুলো না খেলেই বরং শারীরিক নানা সমস্যায় পড়তে পারেন আপনি। অবাক হচ্ছেন? অবাক হলেও এটি সত্যি।

এইসকল ভালো কোলেস্টোরল সমৃদ্ধ খাবার আপনার সুস্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত জরুরী।

১) বাদাম

কাঠবাদাম, হ্যাজেল নাট, ওয়ালনাট ধরণের বাদামগুলো পলিআনস্যচুরেটেড ফ্যাট সমৃদ্ধ হয়ে থাকে। আর এই বাদামগুলো দেহের খারাপ কোলেস্টোরল কমাতে বিশেষভাবে সহায়ক। সুতরাং ভালো কোলেস্টোরল সমৃদ্ধ এই বাদামগুলো রাখুন খাদ্য তালিকায়।

২) অমেগা৩ ফ্যাটি অ্যাসিড সমৃদ্ধ খাবার

সামুদ্রিক মাছ কোলেস্টোরল থাকা সত্ত্বেও আপনার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এতে রয়েছে ওমেগা৩ ফ্যাটি অ্যাসিড যা ভালো কোলেস্টোরল। ওমেগা৩ ফ্যাটি অ্যাসিড সমৃদ্ধ খাবার খারাপ কোলেস্টোরল কমানোর পাশাপাশি উচ্চ রক্তচাপের সমস্যাও দূর করে।

৩) অলিভ অয়েল বা জলপাইয়ের তেল

তেল মানেই খারাপ কোলেস্টোরল তা অনেকেরই ধারণা। কিন্তু সাধারণ তেলের পরিবর্তে অলিভ অয়েল ব্যবহার আপনার স্বাস্থ্যঝুঁকি অনেকাংশে কমিয়ে দেয় এবং আপনাকে সুস্থ ও নীরোগ রাখতে সহায়তা করে।

৪) তিসী

তিসী অনেকেরই প্রিয় একটি খাবার। অনেকে মনে করেন তিসীর ফ্যাট স্বাস্থ্যের জন্য ভালো নয়। কিন্তু তিসীতে রয়েছে ভালো কোলেস্টোরল যা দেহের খারাপ কোলেস্টোরলের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে বিশেষ ভুমিকা পালন করে থাকে। এছাড়াও ডায়বেটিস নিয়ন্ত্রণ, হৃদপিণ্ডের নানা সমস্যা এমনকি ক্যান্সার প্রতিরোধেও তিসীর জুড়ি নেই।

৫) ডার্ক চকলেট

অনেকের কাছেই চকলেট মানেই খারাপ খাবার এবং স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। কিন্তু ডার্ক চকলেট স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত উপকারী একটি ভালো কোলেস্টোরল সমৃদ্ধ খাবার। হৃদপিণ্ড, মস্তিষ্ক এবং ত্বকের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় প্রতিদিন অল্প ডার্ক চকলেট খাওয়ার অভ্যাস আপনাকে করবে দীর্ঘজীবী।

জেনে নিন মধু ও দারুচিনি মিশ্রণ নিয়মিত খাওয়ার ৯টি স্বাস্থ্যগত উপকারিতা

প্রাকৃতিক উপাদান সমূহ তার নিজ নিজ গুণে গুণান্বিত। মধুর স্বাস্থ্যগত উপকারিতা সম্পর্কে কম বেশি আমরা সবাই জানি। এই মধু যখন দারুচিনির সাথে মিশে যায় তখন এটি আরোও স্বাস্থ্য সম্পন্ন হয়ে উঠে।
বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গিয়েছে মধু ও দারুচিনির মিশ্রণ স্বাস্থ্যের জন্য বেশ উপকারি। হৃদরোগ থেকে শুরু করে ওজন কমানো পর্যন্ত প্রায় সবকিছুতে মধু-দারুচিনির মিশ্রণ তুলনাহীন। মধু-দারুচিনির মিশ্রণের স্বাস্থ্যগত উপকার নিয়ে জানিয়েছেন পুষ্টিবিদ আনিকা শাহ্‌জাবিন। আসুন জেনে নেই, দারুচিনি ও মধুর স্বাস্থ্যগত উপকারসমূহ।

১। পিত্ত থলিতে সংক্রমণ

পিত্ত থলির সংক্রমণ রোধ করে থাকে মধু-দারচিনির মিশ্রণ। মধু দারুচিনিতে অ্যাণ্টি ব্যাক্টোরিয়াল উপাদান আছে যা পিত্ত থলিকে বাইরে ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণের হাত থেকে রক্ষা করে।

২। হৃদরোগ

হার্ট সুস্থ্য রাখার জন্য দারুচিনি ও মধুর পানির বিকল্প নেই। প্রতিদিন সকালে এক গ্লাস মধু ও দারুচিনি মিশ্রিত পানি পান করলে হৃদরোগ থেকে দূরে থাকা যায়। এটা আপনার রক্তের কোলেস্টেরলের মাত্রা কমিয়ে হৃদরোগের সম্ভাবনা কমিয়ে দেবে অনেকখানি।

৩। বাত/আর্থারাইটিস

এক জরিপে দেখা গিয়েছে মধু দারুচিনির পানি পান করার ফলে খুব অল্প সময়ের মধ্যে বাতের ব্যথা কমে গেছে। এক গ্লাস গরম পানিতে দুই টেবিল চামচ মধু আর এক টেবিল চামচ দারুচিনির গুঁড়ো মিশিয়ে নিন। এই পানি প্রতিদিন নিয়ম করে সকালে ঘুম থেকে উঠে আর রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে পান করুন। কয়েক সপ্তাহের মধ্যে এটি আপনার বাতের ব্যথা কমিয়ে দিবে।

৪। ওজন কমাতে

ওজন কমাতেও মধু দারুচিনির জুড়ি নেই। এক সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে দারুচিনি ও মধু খুব দ্রুত চর্বি কমায়। প্রতিদিন দারুচিনি গুঁড়ো ও মধু দিয়ে ফোটানো এক গ্লাস পানি খালিপেটে পান করুন। এটি আপনার ওজন কমাতে সাহায্য করবে।

৫। কোলেস্টরল

এক কাপ চায়ের সঙ্গে দুই টেবিল চামচ মধুর সঙ্গে তিন টেবিলচামচ দারুচিনি গুঁড়ো মিশিয়ে পান করুন এটি আপনার রক্তে কোলেস্টরলের মাত্রা ১০ শতাংশ কমেয়ে দিবে। রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণেও এর জুড়ি নেই।

৬। নিঃশ্বাসে দুর্গন্ধ

কসুম গরম পানিতে মধু ও দারুচিনি মেশান। প্রতিদিন সকালে এটি পান করুন। এটি আপনার মুখের দুর্গন্ধ দূর করে দেবে।

৭। রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা

নিয়মিত মধু আর দারুচিনির গুঁড়ো খেলে আপনার শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে। শরীরের ভেতরে অঙ্গ প্রত্যঙ্গগুলো বিভিন্ন রকমের ব্যাকটেরিয়া ও ভাইরাসের সঙ্গে যুদ্ধ করে আপনাকে সুস্থ থাকতে সাহায্য করে।

৮। ব্রণ দূর করতে

মধু দারুচিনি পেষ্ট ব্রণের ওপর লাগান। এটা দ্রুত ব্রণ দূর করতে সাহায্য করবে। মধুতে অ্যান্টি ব্যাক্টোরিয়াল এবং দারুচিনিতে অ্যান্টি ইনফ্লামাটোরি উপাদান আছে যা ব্রণ দূর করে থাকে।

৯। চুল পড়া রোধে

অলিভ অয়েলের সাথে ১ টেবিল চামচ মধু, ১ চা চামচ দারুচিনির গুঁড়া মিশিয়ে পেষ্ট তৈরি করে নিন। এটি চুলের ফাঁকা জায়গায় লাগান (যেখান থেকে চুল পড়ে গেছে সেখানে)। ১৫ মিনিট পর কুসুম গরম পানি দিয়ে চুল শ্যাম্পু করে ফেলুন। এটি নতুন চুল গজাতে সাহায্য করবে।