Kashmir and Srinogor Travel

আমরা ডিসেম্বরের ২৩, ২০১৭ তে ঢাকা থেকে কলকাতা যাই স্পাইস জেটে। কলকাতা একরাত থেকে পর, পরদিন ভোরে ইন্ডিগো এয়ারলাইন্সে দিল্লি হয়ে শ্রীনগর যাই। দিল্লিতে আমাদের ৪ ঘন্টার মত যাত্রা বিরতি ছিল। এয়ারপোর্টে বেশ ভালো সময় কেটে যায়।

শ্রীনগর আমরা বিকাল সাড়ে তিনটার দিকে পৌঁছাই, আবহাওয়া খারপ থাকায় প্রায় ৩০ মিনিট আমাদের বিমান আকাশে চক্কর মারে, সাথে বাম্পিং করে। এখানে বলে রাখা ভালো যে, শ্রীনগর ফ্লাইটে হ্যান্ড লাগেজ নেয়া যাবে না। কাজেই পাসপোর্ট এবং টাকা পয়সা সাথের ছোট পার্স বা একদম ছোট ব্যাগে ক্যারি করতে হবে। এইখানে কোন ভুল করা যাবে না, সাথের ব্যাগ যদি মাঝারি আকারের ও হয়, তাহলে ব্যাগ আপনাকে নিতে হবে লাগেজে, কেবিনের ভিতর আপনার সাথে নিতে দিবে না। শ্রীনগর এয়ারপোর্ট এ ছবি তোলা নিষিদ্ধ। ওদের চেকিং ও হয় কয়েকটা লেয়ারে।

এয়ারপোর্টে নেমে ইমিগ্রেশনের কাজ শেষ হয়ে, বাইরে বের হয়ে আসলেই আপনাকে ঘিরে ধরবে হোটেল, হাইজবোট আর কার সার্ভিস এর দালালেরা। তাদের এড়িয়ে যাওয়াই ভালো, কেননা তারা নিজের জন্য কমপক্ষে ৩০% থেকে ৫০% লাভ রেখে আপনাকে দাম অফার করবে।

এয়ারপোর্ট থেকে শহরে দুইভাবে যাবার রাস্তা আমি জানি। এক, প্রিপেইড ট্যাক্সি কাউন্টারে চলে যাবেন, কারোকে জিজ্ঞেস করলে দেখায় দিবে, যার ভাড়া ৭০০ রুপির কম নয়, পথ মাত্র ৮-১২ কিঃমিঃ। বলতে হবে ডালগেট যাবো, এম,এ, ব্রিজ এর অপর পাশে নামব।

আর কম খরচে যেতে চাইলে, এয়ারপোর্ট এর গেট থেকে বের হয়ে টুরিস্ট বাস এর খোঁজ করবেন, যা কিছুটা দূরে অবস্থান করে এবং যা ছাড়তে ১ ঘন্টা বা তার থেকে বেশি সময় নেয়।

আপনি বাসে গিয়ে বসে থাকবেন। এই খানেও কিছু দালাল আসবে, অফার করবে নানারকম। বাস ছাড়লে আপনি বলবেন, ডালগেট, এম,এ, ব্রিজ যাবেন। বাস আপনাকে কাছাকাছি কোথাও নামাবে, ভাড়া ৭০ রুপি পার পারসন। ওইখান থেকে হেঁটে বা ৪০ / ৫০ রুপি দিয়ে অটো নিয়ে আপনি চলে যেতে পারবেন এম,এ ব্রিজ এর অপর পাশে। আসলে এম,এ, ব্রিজ থেকে নেমে বামে যেতে হয়। তাহলে বামে পড়বে নয়নাভিরাম ডালগেট আর ডানে হোটেল এর সাড়ি। ডালগেটে অনেক হাইজবোটও পাবেন। হাউজবোট থেকে সাধারণত নৌকা করে আবার তীরে আসা লাগে। যা আমার কাছে সুবিধাজনক মনে হয় নাই।

রুম বা হাউজবোট আসলে দামাদামি করে নিতে হবে।
এম,এ, ব্রিজ এর কাছে হোটেল নিউ মমতা ভালো এবং নাম করা। যার ভাড়া ৭০০ থেকে ১৫০০ রুপির কাছাকাছি। আর হোটেল ইসফান আছে, যার ভাড়া ৫০০ থেকে ৭০০ রুপি পার নাইট, কিন্তু চাইবে ১,৫০০ রুপি। জানুয়ারী ২০১৮ তে এই ভাড়া ছিল, যা নাকি সুপার অফপিক সিজন ছিল।

কাশ্মীরে সব কিছুর দামাদামি করতে হয়, একমাত্র খাবার হোটেল ছাড়া। এমনি লোকজন খুব ভালো। তারা দাম বেশি চাইলেও বেসিকালী লোক ভালো, they will talk with you willingly but they mean only business. কোন বদমতলব নিয়ে নয়। ব্যতিক্রম থাকতে পারে।

আর যেকোন নতুন জায়গায়ই অন্তত ভাবসাব বোঝার আগে রাত ৯ টার পর বাইরে থাকার দরকার দেখি না।

আমরা ৫ রাত ৬ দিন ছিলাম মাত্র। হোটেল ইসফান থেকে আমাদের প্যাকেজ দেয় দুই জনের জন্য ১৪,০০০ রুপিস। এর মাঝে ৫ রাত হোটেল ছিল। সাথে ব্রেকফাস্ট থাকলেও আমরা তা বাইরে করি, ওদের খাবার পছন্দ না হবার কারণে। প্লাস সাথে পেহেলগাম, গুলমার্গ, সোনমার্গ এবং চতুর্থ দিনে লোকাল সাইট সিইং ছিল। শিকারা রাইড নিজেদের খরচে। তারা কার প্রভাইড করে সারাদিনের জন্য এই ৫ দিনে এবং ওই কারে আমরা হাজবেন্ড ওয়াইফ আর ড্রাইভার হিসাবে শাবির ভাই ছিল। উনিও ভালো মানুষ, উনি ব্রোকেন হার্ট, আমাদের বন্ধুত্ব হয়ে যাবার পর, ওনার লাইফ স্টোরি উনি আমাদের সাথে শেয়ার করেন। কিন্তু উনিও আর সব কাশ্মীরিদের মত, আমাদের বেশি খরচ করানোর জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করে বিফল হন। তবে তা আমাদের বন্ধুত্বে তেমন কোন প্রভাব ফেলে নাই বলে আমরা মনে করি।

শুধু কাস্মীর না, দুনিয়ার যেকোন প্রান্তেই যান না কেন, আমার মতে আপনার সাথে যদি শুধুমাত্র একটা ব্যাকপ্যাক থাকে, যা নিয়ে ২/৩ কিঃমিঃ হাঁটলেও ক্লান্ত বোধ করবেন না, তাহলে আপনার ভ্রমণ হবে আরামদায়ক এবং কম খরচের। এমনকি হোটেল আলারাও ভাবেন যে, এদের সাথে লাগেজ বেশি নাই, তাই এদের ছাড়লে এরা হোটেল খুঁজতেই থাকবে, পেয়েও যাবে। আমারা যাবার আগে শাহবাগ আজিজ সুপার মার্কেটের আন্ডারগ্রাউন্ড থেকে ব্যাকপ্যাক কিনি।

কাশ্মীরের এর ব্যাপারে আর একটা কথা হল, ধরেন আপনি পেহেলগাম যাবেন, ২০০০ টাকা দিয়ে সুজুকি সুইফট সেডান নিলেন, ভালো কথা। কিন্তু পেহেলগামে যাবার পর আপনাকে যেখানে নামিয়ে দিবে, ওইখান থেকে আপনাকে ঘোড়া ভাড়া করে বিভিন্ন স্পটে যেতে হবে, আর এইখানে তারা ইচ্ছামত দাম চায়, যার কাছে থেকে যেমন পারে আর কি। এই খানে টিপস হল, আপনাকে ট্যাক্সি স্ট্যান্ডে নামাবার পর, আপনি উঁচু রাস্তা দিয়ে আবার মেইন রোডে চলে আসবেন, ঠিক যে রোড দিয়ে নিচে নেমেছেন। এইখানেও ঘোড়া পাবেন, তবে এদের থেকে কম দামে ভাড়া করতে পারবেন।

এর বাইরে, আপনি কারো কাছে জিজ্ঞেস করে ট্যাক্সি স্ট্যান্ডে চলে যেতে পারবেন, যেখানে ভাড়ার তালিকা দেয়া আছে গাড়ির মডেল সহ, যে কয় স্পটে যাবেন এবং যে মডেলের গাড়ি নিবেন, সেই মত ভাড়া আসবে এবং তা ফিক্সড। এই খানে আবার দামাদামি করা যাবে না, সব ভাড়া রিটেন অবস্থায় আছে। তবে গাড়ি নিয়ে কিছু প্লেসে যাওয়া যাবে না, যেখানে ঘোড়া যায়, যার মধ্যে মিনি সুইজারল্যান্ড ও আছে। আপনার বাজেট কম থাকলে গাড়ি নিয়ে যান। পেহেলগামে রাতেও থাকা যায় কম খরচে। আর পরেরবার আমরা পেহেলগামে ২/৩ রাত থাকব বলে আশা রাখি। আর মনে রাখবেন, পেহেলগামের কোন প্লেসেই আপনার গাইডের কোন দরকার নাই।

এই নিয়ম আসলে কাশ্মীরের উল্লেখিত বাকি জায়গাগুলিতেও কাজ করে। আপনাকে যেখানে নামাবে ড্রাইভার, সেখানে ঘোড়াআলারা আপনাকে ঘিরে ধরবে, এরা আবার অনেক সময় ড্রাইভারের সাথে মিলিত হয়ে থাকে আগে থেকে, মানে এরা ড্রাইভারকে কমিশন দিয়ে থাকে। আপনাকে যা করতে হবে, আপনি নেমে ২০০ / ৩০০ গজ সামনে এগিয়ে যান, ঘোরেন, দেখেন, চা খান। আর ও সস্তায় আপনি অফার পাবেন। তারপর দামাদামি করে নিয়ে নেন একজনকে। যা চাইবে, তার ১/৩ বা ১/৪ ভাগ দাম বলতে পারেন। তবে এই ঘোড়াআলারা খুবই গরীব।

সোনমার্গ, গুলমার্গ, পেহেলগামে ৩ দিন চলে যায়, মানে একদিনে একটা স্পট কাভার করা যায়। লোকাল সাইট সিইং এ আছে, চাশমেশাহী, পারিমাহাল, নিশাদ গার্ডেন, শালিমার গার্ডেন এবং দরগাহ শরিফ হজরতবাল যেখানে হজরত মুহম্মদ (স:) এর দাড়ি মুবারক রক্ষিত আছে। এর বাইরে টিউলিপ গার্ডেন আছে, যা মে মাসের প্রথম ১০ দিন দেখা যায় সাধারণত।

এই দরগাহতে আবার একটা বিশেষ ব্যবস্থা আছে, কাশ্মীরে বেড়াতে এসে কারও টাকা শেষ হয়ে গেলে, চাদা তুলে সাহায্য করা হয় দেশে ফিরতে। তবে তারা অনেক রকম ভেরিফিকেশন করবে আগে।

ডালগেটের লেকে শিকারা রাইড আছে, যা দামাদামি করে ২/৩ ঘন্টার জন্য ভাড়া করে ঘুরে বেড়ানো যায়। তারা নানারকম মার্কেটে নিয়ে যাবার কথা বলে, তবে আমরা যাই নাই।

গুলমার্গে ঘোড়া না নিলেও চলে, সরাসরি ক্যাবেল কার বা গন্ডোলার কাউন্টারে চলে যাবেন পায়ে হেটে।

সোনমার্গে ঘোড়া নেয়ার দরকার পরে। স্লেজ নিলেও হয়, না নিলেও হয়। আর প্রতিটা জায়গায় আপনাকে ওভারকোর্ট এবং আইস বুট ভাড়া নিতে বলবে তারা। আমরা যদিও কোথাও তা নেই নাই। তবে নেয়াটা ভালো, অন্তত শুধুমাত্র বুট, তাহলে পা পিছলানোর সম্ভাবনা কিছুটা কমে।

এব্যাপারে low Cost Tour Suggestion এর ভিডিওগুলি দেখতে পারেন যার লিংক নিচে দিয়ে দিলামঃ

https://www.youtube.com/channel/UCQZ7ynsYwr8l1SJNfU9zSyQ

কাশ্মীরে আমরা ৩ জন মানুষের সাথে পরিচিত হয়েছি, যারা আমাদের বন্ধুত্ব অফার করে। যার মাঝে একজন বিখ্যাত কাশ্মীরি শাল বিক্রি করে, শওকত ভাই, যার দোকানের ঠিকানা আমি দিয়ে দিলাম নিচে। কাশ্মীরে আমরা এর থেকে কম দামে এত ভালো মানের শাল, থ্রিপিস, লেদার জ্যাকেট আর কোথাও পাই নাই। এইখানে দামাদামি খুব সীমিত আকারে হয়ে থাকে।

দোকানের নামঃ SHOWKAT ARTS & CRAFTS. Khayam Chowk, Nowpora, Srinagar (kmr).
Ph no: 9858 3238 30, 9086 0238 30.

দ্বিতীয়জন ইমরান মালিক, উনি কারসার্ভিস দিয়ে থাকেন, যার থেকে এত এত ইনফরমেশন পেয়েছি, কম খরচে কিভাবে কাশ্মীরের আরও রিমোট এলাকাগুলিতে যাওয়া যায়, তবে ২৫/৩০ দিনের ট্যুর হতে হবে। ইনি একমাত্র ড্রাইভার যাকে পেয়েছিলাম, যিনি আমাদের ট্যুরের খরচ কমানোয় সাহায্য করেছিল অনেক। ওনার ফেসবুক আই,ডি, এবং ফোন নাম্বার দিয়ে দিলাম। যারা বাংলাদেশ থেকে যাবেন, আগে থেকে ওনাকে ফোন করে রাখলে, উনি ওনার ইনোভা নিয়ে এয়ারপোর্টে হাজির থাকবেন।

https://www.facebook.com/profile.php?id=100019538358357
ফোন নাম্বারঃ +917006273342

তৃতীয়জন হলেন, আসিফ ভাই, ওনার ছোট একটা রেস্টুরেন্ট আছে, প্লাস উনি অনেক কম খরচে হোটেল এবং হাউজবোট ভাড়া করে দিতে পারেন। ওনার ওই হোটেলে আমরা জাফরানের চা খাই, করেকবার ডিনারও করি। আসার সময় দুই ডিব্বা জাফরানের চা কিনেও আনি, যা আসলেও অসাধারণ ছিল।
ওনার নাম্বারঃ 981888 7817

এনারা হিন্দি এবং ইংরেজীতে কথা বলতে পারেন। তবে কাশ্মীরের ভাষা কাশ্মীরি, যা নাকি পশতু ভাষার কাছাকাছি।

এইসব ক্ষেত্রে চাইলে আমার রেফেরেন্স ব্যবহার করতে পারেনঃ সৈয়দ সুদীপ আহমেদ নামে চিনবে। এনাদের মাধ্যমে বুক করতে চাইলে, কমপক্ষে ৭ – ১০ দিন আগে বুক করতে হবে। এনাদের সুনাম বেশ ভালো, যার ফলে, সারা বছর এনাদের বুকিং হয়ে থাকে। এনারা সীমিত লাভে ভালো সার্ভিস দিয়ে থাকেন।

আর ঢাকা থেকে বুক করতে চাইলে, হোটেল নিউ মমতা বেশ ভালো, এদের ট্রিপ অ্যাডভাইজার রিভিউ ও বেশ ভালো।

আমরা যে হোটেলে ছিলাম, হোটেল ইসফান, এইটা বাজেট হোটেল। ইসফান এবং নিউ মমতা, মেইন ডালগেট থেকে ২০-২৫ মিনিট হাঁটার দূরত্ব, যেই কারনে ভাড়া বেশ কম থাকে। তবে পরে বুঝতে পারি, এই দামে, আরও ভালো হোটেল পাওয়া সম্ভব ছিল।

ভালো হোটেল মানে, এটাচ বাথ, বেডে ব্লাংকেট হিটার থাকবে। রুম হিটার থাকলে ভালো। বাথরুমে গিজার থাকবে। আর হ্যা, রিসিপশনটা ভালো এবং রেসপনসিভ হবে।

ফোন নাম্বার হোটেল ইসফানঃ 7051432097, এইটা হোটেল ইসফানের সেকেন্ড ম্যান শাবির ভাই এর নাম্বার। কাশ্মীরে ফোনেই সব রকমের বুকিং করা যায়, তবে এই ক্ষেত্রে কথা রাখা জরুরী, কারণ বাংলাদেশীদের সুনাম আছে অনেক এই শ্রীনগরের মানুষের কাছে।

হোটেল ইসফানের মালিকের ফেসবুক আইডিঃ

https://www.facebook.com/newgousia.guesthouse

আমার ইউটিউব চ্যানেলের লিংক দিয়ে দিলাম, তবে চ্যানেলটি রেডি হতে আরও সময় লাগবেঃ

https://www.youtube.com/sayedsudipahmed

কাশ্মীরের ছেলে মেয়ে উভয়ই খুব সুন্দর। বিশেষ করে একজন সাধারন মেয়েও আমাদের দেশের ৯০% মেয়েদের থেকে বেশি সুন্দরী বলে মনে হয়েছে আমার কাছে, তাও মেকআপ ছাড়াই মলিন কাপড়েও।

কাশ্মীরের শিশুরা চকলেট পছন্দ করে। আমরা যেখানেই গেছি, আমার ওয়াযিফ তাদের চকলেট দেয়ার চেষ্টা করেছে। তাদের মায়েদের কাছে আমরা জানতে চেয়েছি, তারা কি খেতে পছন্দ করে, তারা বলেছে, তারা সব খেতে পছন্দ করে। হয়ত এই কারণে তারা ছোট বেলা থেকেই অনেক সুন্দর।

দরগাহ শরিফ হজরতবাল এ যাবার সময় আমরা অনেক পরিমাণে পাখির খাবার নিয়ে যাই, তারপরেও সব শেষ হয়ে যায় নিমিষেই। সেখানে অনেক অনেক পায়রা আছে।

সাধারণত যেসব অঞ্চলে বেশি ঠান্ডা পরে, ওইখানের কুকুরদের গায়ে পশম অনেক ঘন হয়, যেমনটা আমরা মানালিতে দেখি, কিন্তু কাশ্মীরে এর ব্যতিক্রম। তাই তারা ঠান্ডায় বেশ কষ্টে থাকে এবং ক্ষুদার্থ থাকে সবসময় আমরা দেখেছি, খাবার দিলেই খায়।

খাবারের দাম রিজনেবেল। ওদের ১:১ এ আমাদের ২ জনের আরামে হয়ে যায় বেশিরভাগ রেস্তরায়।

কাশ্মীরের জনগণ মনে করেন, মিডিয়াতে কাশ্মীরকে যেভাবে উপস্থাপন করা হয়ে থাকে, বাস্তব অবস্থা তার থেকে অনেক ভালো। আমাদের কাছেও তেমনটাই মনে হয়েছে। দিল্লি এয়ারপোর্টে একজন সেনা সদস্য আমাদের বলেন, আপনারা কাশ্মীর কেন যাচ্ছেন, এক গুলি এই দিক দিয়ে ঢুকে (ভেজামে) ওইদিক দিয়ে বের হবে।

এই খানে ৯০% লোক মুসলমান। এনাদের অনেকের সাথে রাজনীতি নিয়ে আমাদের দীর্ঘ আলাপ হয়।

তবে হ্যা, কাশ্মীরে ১১ লাখ সেনা সদস্য মোতায়েন আছে, রিজার্ভে আরও আছে। কাজেই অবস্থা যে একদম স্বাভাবিক, তা বলা যাবে না।

শ্রীনগর এয়ারপোর্টে ফর্মে ফিলাম করতে হয়, আমরা যদি ফিরে না আসি , তাহলে আমাদের পরিবারের কার সাথে যোগাযোগ করতে হবে।

আর সমস্ত শ্রীনগর জুড়ে চোখে পরবে সেনাসদস্যদের সসস্ত্র টহল।

শ্রীনগরের জন্য আলাদা সিম, যা আমরা শ্রীনগর থেকে সংগ্রহ করি।

সবশেষে বলতে চাই, কাশ্মীর একটা ভূস্বর্গ তাতে কোন সন্দেহ নাই, একই সাথে, জায়গাটা আরও ভালো লাগার কারণ এইখানের চমৎকার মানুষজন। মানালী থেকে শ্রীনগর আসলে আমাদের অনেক বেশি ভালো লাগে, যার কারণ আসলে শ্রীনগরের রূপ এবং এখানকার মানুষজন।

আন্দামান এন্ড নিকোবর আইল্যান্ড : ভ্রমন কথা

বংগোপসাগরের কোলে অবস্থিত আন্দামান এন্ড নিকোবর দ্বীপপুঞ্জ। ভারতের ভিসা নিয়েই আন্দামান যেতে হয়। তাই ভিসা পাওয়ার পরপরই প্রস্তুতি নেয়া শুরু করলাম। বাংলাদেশ থেকে সরাসরি বিমানে আন্দামানের রাজধানী পোর্ট ব্লেয়ার যাওয়া যায়। কিন্তু এতে খরচ পড়ে যায় অনেক বেশী। আবার কলকাতা থেকেও যাওয়া যায়। লোকাল রুট হওয়ায় এই পথে খরচ অনেক সাশ্রয়ী। তাই ঠিক করলাম আগে কলকাতায় যাব এবং এরপর কলকাতা থেকে লোকাল ফ্লাইট ধরে পোর্ট ব্লেয়ার।

সবার আগে ঢাকা থেকে কলকাতা মৈত্রী ট্রেনের টিকিট নিশ্চিত করলাম। এই টিকিট, ভ্রমনের ৩০ দিন আগ থেকেই নেয়া যায়। মৈত্রী ট্রেনের প্রচুর চাহিদা আছে। তাই যত আগে পারা যায় নিয়ে নেয়াই ভাল। ৪ ফেব্রুয়ারীর ট্রেনের টিকিট নিয়ে নিলাম। ট্রেনের সিটের ব্যবস্থা করে বিমানের সিটের দিকে নজর দিলাম। 🙂

ট্রেনের সিটের নির্দিষ্ট দাম থাকলেও বিমানের সিটের বেলায় তার উলটো। একেক সময় একেক রকম। যেহেতু আমি ৪ তারিখ কলকাতা পৌঁছাবো সেহেতু ৫ তারিখের ফ্লাইট ধরাই ভাল হবে। অনলাইনে দেখলাম ৫ তারিখ স্পাইস জেট (Spice Jet) সহনীয় রেইটে কলকাতা থেকে পোর্ট ব্লেয়ারের টিকিট দিচ্ছে। তাই আর দেরী না করে তাদের গুলশান অফিসে গিয়ে যাওয়ার টিকিট কিনে নিলাম।

এবার পোর্ট ব্লেয়ার থেকে আসার টিকিট ব্যবস্থা করার পালা। অনেকে ফিরতি টিকিট পরে কাটেন। কিন্তু আমি সেইফ সাইডে থাকতে চাইছিলাম। কারন টিকিটের দামের এবং প্রাপ্তির কোন নিশ্চয়তা নেই। তাই আন্দামানের মোটামুটি একটা ভ্রমন পরিকল্পনা করে ৯ ফেব্রুয়ারী কলকাতায় ফিরে আসব বলে ঠিক করি। ৯ তারিখের ফিরতি ফ্লাইটের জন্য ইন্ডিগোর (Indigo) রেইট ছিল বেষ্ট। এইবার আর তাদের অফিসে না গিয়ে আমি সরাসরি অনলাইনেই তাদের টিকিট নিয়ে নিই।

আন্দামানে ভ্রমনের জন্য অনেকেই ট্যুর এজেন্সির সাহায্য নেন। কলকাতা বা পোর্টব্লেয়ারে এমনকি আপনি বাংলাদেশ থেকেও অনলাইনে ট্যুর এজেন্সি বুকিং দিতে পারবেন। কিন্তু এতে খরচ অনেক বেশী পড়বে। তা ছাড়াও এজেন্সির সাথে গেলে নিজের মত করে উপভোগ করা যায় না বলে আমি মনে করি। তাই নিজেই যাব বলে সিদ্ধান্ত নিলাম।:) যে কথা না বললেই না, TOB’র কয়েকজন সদস্য আমাকে তথ্য দিয়ে অনেক সাহায্য করেছেন। তাদের জন্য আমার বুকভরা কৃতজ্ঞতা!

তো, টিকিট পর্ব শেষ। এইবার তা কাজে লাগানোর পালা। ফেব্রুয়ারীর ৪ তারিখ ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট ষ্টেশন থেকে সকাল ৮ঃ১৫ তে ট্রেন ছাড়বে। কিন্তু ইমিগ্রেশনের জন্য সকাল ৬ টায় উপস্থিত হয়ে গেলাম। সংগে আছে বউ। 🙂 ইমিগ্রেশনের ফর্মালিটিস শেষ করে আমরা যখন ট্রেনে বসলাম তখন ৭ টা বেজে গেছে। এখন শুধু অপেক্ষা ট্রেন ছাড়ার!

ট্রেন ছেড়ে দিল এবং আমরা কলকাতা ষ্টেশনে পৌঁছেও গেলাম। 😉 তখন প্রায় সন্ধ্যা ৫ টা। আবারো ইমিগিশনের স্তর পার হয়ে যখন মার্কুইজ স্ট্রিটের হোটেলে পৌঁছালাম তখন খেয়ে দেয়ে ঘুম ছাড়া আর কোন কিছু মাথায় আসছিলো না। যদিও ইতিমধ্যেই আমার ক্যামেরা হারানো এবং তা ফিরে পাওয়ার মত ঘটনা ঘটে গেছে কিন্তু সেই গল্প এইখানে করছিনা।

পরদিন দুপুর ২ঃ৪০ মিনিটে ফ্লাইট। আমরা সকালেই উঠে গেলাম। প্রয়োজনীয় কাগজ ও টাকা-পয়সা চেক করে নিলাম। হটাৎ মনে হল বাংলাদেশে ফিরে যাওয়ার টিকেট তো নেয়া হয়নি। আর ট্রেনের টিকিট তো আগেই নিতে হবে। বিমানবন্দরে যাওয়ার আগেই ট্রেনের টিকিটের ব্যবস্থা করতে পারলে মন্দ কি? হোটেলের কাউন্টারে এই ব্যাপারে জিজ্ঞেস করতেই তিনি বললেন, টিকিট কাউন্টারে অনেক লম্বা লাইন হয় আবার বিমানবন্দরে যেতেও জ্যাম হতে পারে। ওনার এই কথায় দ্বিধায় পরে গেলাম। অবেশেষে ট্রেনের টিকেট ভাগ্যের হাতে ছেড়ে দিয়ে বিমানবন্দরের উদ্দেশ্যেই রওনা হলাম। পরবর্তীতে আমরা বুঝেছিলাম যে আগে ট্রেনের টিকেটের ব্যবস্থা করতে গেলে প্লেন আমাদের মাথার উপর দিয়ে চলে যেত। 😛 উল্লেখ্য, ভাগ্য আমাদের সহায় ছিল। আমরা আন্দামান থেকে ফিরে এসে ট্রেনের টিকেট পেয়েছিলাম।

বিমানবন্দরে পৌঁছে স্পাইস জেটের বোর্ডিং পাস নেয়ার সময় হল আরেক বিপত্তি। আন্দামানগামী বাংলাদেশি পাসপোর্টধারী দেখে বিমান এজেন্ট যেন হটাৎ ব্যস্ত হয়ে পড়লেন। আমাদের অপেক্ষা করতে বলে অন্য টেবিলে গিয়ে কি যেন কানাকানি করলেন। ঐদিকে আমরা ভাল মন্দ কিছু ভাবতে পারছিনা। তাকিয়ে শুধু ঐ এজেন্টের কর্মকান্ড দেখছি। ইতিমধ্যে তিনি এলেন এবং কোথায় যেন ফোন করে আমাদের আন্দামানে যেতে দেয়া যাবে কিনা তার অনুমতি চাইলেন। এবং অনুমতি মিলল!

এইবার শতভাগ রিল্যাক্স, মনে মনে ভাবলাম। ৪ তারিখ ভোর ৫টা শুরু হওয়া দৌড়াদৌড়ির পর এতক্ষণে একটু অবসর পাওয়া গেলো। জীবনে প্রথমবারের মত বিমানে উঠে বসলাম এবং যথাসময়ে বিমান আকাশে উড়লো। জানালা দিয়ে অপরিবর্তিত আকাশ দেখার বিরক্তি নিয়ে কখন যেন ঘুমিয়ে গেলাম। ঘুম ভাংগলে দেখলাম ল্যান্ডিং এর প্রস্তুতি চলছে। বাইরে তাকিয়ে দেখি, আকাশে কালো মেঘের বিশাল পাহাড়। পাশ কাটতেই নজরে এল, আন্দমানের ছোট অবয়ব! ক্রমশ বড় হয়ে আসছে। আমাদের বিমান জলরাশি পেরিয়ে ছুটে যাচ্ছে আন্দমানের দ্বীপে।

আন্দমান এবং নিকোবর দ্বীপপুঞ্জ প্রায় ৫০০ টিরও বেশি দ্বীপ আছে। তন্মোধ্যে, শুধুমাত্র আন্দমানেই পর্যটক যাওয়ার অনুমতি আছে। নিকোবর সংরক্ষিত এলাকা। আবার আন্দমানেও সব দ্বীপে পর্যটক যায়না বা নিয়ম নেই। তবে যে কয়টি দ্বীপে যাওয়া যায় তাতে আপনি মাস খানেক সময় হাতে নিয়ে গেলেও সব দেখা হবে কিনা তা আমি নিশ্চিত নই। তবে আমরা আদার ব্যাপারী হয়ে জাহাজের খবর না নিয়ে, প্রচলিত ৩/৪ টি দ্বীপ দেখবো বলে ঠিক করলাম। পোর্টব্লেয়ার,হেভলক, নীল আইল্যাণ্ড ও রস আইল্যান্ড। উল্যেখ্য এই সব দ্বীপে যাওয়ার জন্য দুই ধরনের ব্যবস্থা আছে – সরকারী ফেরী, যার ভাড়া কম কিন্তু টিকিট পাওয়া কঠিন এবং বেসরকারী ক্রুজ, যা ভাড়া বেশী এবং টিকিট পাওয়া তুলনামূলক সহজ।

ইতিমধ্যে আমাদের বিমানের ল্যান্ডিং হয়ে গেল। কলকাতা থেকে আন্দমান পৌঁছাতে ২ ঘণ্টা লাগলো। যে কোন বিদেশী নাগরিক আন্দামান ভ্রমন করতে হলে পোর্ট ব্লেয়ারে পৌঁছানোর পর বিশেষ অনুমতি নিতে হয়। এই তথ্য জেনেই গিয়েছিলাম। তাই বিমানবন্দরে নেমেই সেই অনুমতি পত্র নিতে চলে গেলাম। কিন্তু তা করতে গিয়ে দেখলাম এটা আসলে আরেকটা ইমিগ্রিশানের মতই। মানে আমাদের পাসপোর্টে ভারতের সিলতো বটেই পোর্ট ব্লেয়ারের সিলও পড়লো। সেই সাথে একটি ফর্ম পূরণ করতে হল এবং এরপর একটি অনুমতি পত্র দেয়া হল। উল্ল্যেখ্য, এই কাগজই এখন পাসপোর্টের সমতুল্য। আন্দামানের যতদিন থাকি, যেখানেই যাই, এমনকি ফেরত যাওয়ার সময়ও এই কাগজ অতি, অতি এবং অতি আবশ্যক। এই অনুমতি পত্র ছাড়া কোন হোটেলও আপনাকে জায়গা দিবেনা।

অনুমতি নিয়ে এয়ারপোর্ট থেকে বের হয়ে এলাম। কোন হোটেলে উঠবো এখনো জানিনা। প্রসঙ্গত বলে রাখি, আমি এই ট্যুরে কোন হোটেল বুকিং দিইনি। তবে সুবিধাজনক জায়গা বুঝে কলকাতা এবং পোর্ট ব্লেয়ারের ২/১ টা হোটেলের নাম টুকে নিয়েছিলাম। এতে মূলত দুটি সুবিধা হয়েছে ঃ ১) পোর্ট ব্লেয়ারের ইমিগ্রিশনের ফর্মে হোটেলের নাম দিতে পারা গেছে। ২) একটা হোটেল থাকা মানে তার আশে পাশে আরো হোটেল আছে। সুতারাং ঐখানে পৌঁছাতে পারলে নিজের পছন্দ মত হোটেলে বের করা যাবে।

বিমানবন্দর থেকে বের হতে ট্যাক্সি বা অটো ড্রাইভাররা আপনাকে পেয়ে বসবে। ভাড়ার ব্যাপারে আগেই কথা বলে নেয়া ভাল। ট্যাক্সি বলতে ওরা যা বুঝায় তা হল প্রাইভেট কার টাইপের বাহন। আর অটো হল আমাদের ব্যাবি ট্যাক্সি সদৃশ বাহন। চলা ফেরার জন্য অটোই সাশ্রয়ী। আমরা উঠলাম Hotel RNP তে। এয়ারপোর্টের কাছেরই একটি হোটেল। তখন প্রায় সন্ধ্যা।

ফ্রেশ হয়ে আবার বের হলাম। আন্দামানের সবচেয়ে বড় একটি বৈশিষ্ট্য হল নিরাপত্তা। আন্দামানের যে কয়টি দ্বীপেই গিয়েছি তার প্রমানও পেয়েছি। সবাই এইখানে নিশ্চিন্ত মনেই যে কোন জায়গায় চলাফেরা করতে পারে, যে কোন সময়ই। আমরা দুজনও বেশ খানিক্ষন ঘুরলাম । উদ্দেশ্য ছিল লোকালয় ঘুরে ফিরে দেখা। বেশ ছিমছাম, পরিচ্ছন্ন শহর পোর্ট ব্লেয়ার। উচুনিচু পাহাড়ী রাস্তা কোথাও কোথাও হটাৎ উঠে বা নেমে গেছে। পিচ ঢালা রাস্তার দুপাশেই গাছ। কোন কোন গাছে ফল ধরেছে। ভাল করে তাকাতেই দেখি, ফলের নাম আম। ফেরুয়ারিতে আম! পরে খবর নিয়ে জানতে পারলাম, আন্দমানের সারা বছরই গাছে আম থাকে। পরে আমরা পাকা আমও খেয়েছি। 🙂

হোটেলে ফিরে হেভলক যাওয়ার ব্যাপারে খবর নিয়ে যা জানা গেল তা সন্তোষজনক ছিলনা। আমাদের প্ল্যান ছিল বেসরকারী ক্রুজের অগ্রিম টিকিট নিয়ে নেয়া। কিন্তু টিকিট সন্ধ্যার পর আর দেয়া হয়না! তবে সকালে সরাসরি জেটিতে গেলে পাওয়া যেতে পারে। সেই ভরসায় রাতে খাওয়া শেষে ঘুমিয়ে পড়লাম। সকালে ৬ টার আগেই উঠে জেটিতে যেতে হবে। ঘড়িতে এলার্ম দেয়া ছিল। ঠিক সময়ে উঠে ঝটপট রেডি হয়ে গেলাম। একটা মজার তথ্য হল, আন্দামানে সকল হোটেলের চেক আউট টাইম সকাল ৮/৯ টা। 🙂

চেক আউট করে বের হতেই অটো পেয়ে গেলাম। ফিনিক্স জেটিতে পৌঁছাতে ১০ মিনিটের মত লাগলো। পৌঁছালাম বটে কিন্তু এরপর কোথায় যেতে হবে বা টিকিট কোথায় পাওয়া যাবে ইত্যাদি তো জানিনা। একজনকে সরকারী ফেরীর কথা জিজ্ঞেস করতেই একটি কাউন্টার দেখিয়ে দিল। গিয়ে জানা গেল হেভলকের টিকিট নেই। জানা কথা। এখন প্রাইভেট ক্রুজই ভরসা। আন্দামানে দ্বীপগুলোতে বেশ কয়েকটি প্রাইভেট ক্রুজ চলাচল করে। অনলাইনেই তাদের চলাচলের সময় ও রুট সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়।আমি আগেই Green Ocean 2 ও Makruz নামক দুইটি ক্রুজ বিকল্প হিসেবে নির্বাচন করে রেখেছিলাম। তাই সরকারী ফেরী যখন হাতছাড়া হয়ে যায় আমি Green Ocean 2 কাউন্টারের খুঁজতে থাকি। কিন্তু কোন হদীস পাওয়া গেল না।

ঐদিকে সময় বয়ে যাচ্ছে। নির্দিষ্ট সময় পর সকালের সকল নৌযান চলে যাবে আর দুপুরের আগ পর্যন্ত কোন ক্রুজ নেই। কয়েকজনকে জিজ্ঞেস করেও Green Ocean 2 কাউন্টার পেলাম না। পুরো ট্যুরে এই একবারই নিজেদের দিকবিদ্বিগশূন্য মনে হল। ইতিমধ্যে মনে মনে ভেবে নিয়েছি যে ক্রুজ না পেলে হোটেলেই ফিরে যাব এবং পরের দিনের টিকিট আগেই কেটে নিব। এই ক্ষেত্রে আমাদের একটি দ্বীপ কম ঘোরা হবে যেহেতু একটি দিন অপচয় হয়ে যাবে।

হঠাৎ একটি লাইন দেখতে পেলাম। এগিয়ে জিজ্ঞেস করতেই জানতে পারলাম এই লাইন ধরে গেলেই সকল ক্রুজের কাউন্টারের দেখা মিলবে। লাইনে দাঁড়িয়ে সামনে এগুলাম এবং একজন নিরাপত্তা প্রহরীর কাছ থেকে Green Ocean 2 এজেন্টের দেখা পেলাম। সময় নষ্ট না করে টিকিটে নিয়ে নিলাম। হাতে মাত্র ১০-১৫ মিনিট সময়। সকাল ৭ঃ১৫ মিনিটে হেভলকের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যাবে। ব্যাগ ও সিকিউরিটি চেক শেষে ক্রুজে চড়ে বসলাম।

হেভলকে পৌঁছাতে ২ ঘন্টার মত লাগলো। নামার পর জেটি গেইট থেকে বের হতেই অনেক ট্যাক্সি বা অটো ড্রাইভারের ভিড় কাটিয়ে অটো ষ্ট্যান্ডে চলে এলাম। ওইখানে সিরিয়াল থাকে। একজন অটো চালকের সাথে কথা বলে নিলাম। যেহেতু আমার কোন হোটেল বুকিং নেই তাই উনি আমাকে হোটেল দেখিয়ে দিবেন আমার পছন্দ হওয়ার আগ পর্যন্ত। এই ক্ষেত্রে আমি আমার বাজেট জানিয়ে দিলাম। কিছুদূর যেতেই হঠাৎ মনে হল আমার তো পরের দিন নীল আইল্যান্ড যাওয়ার কথা! ক্রুজের টিকিট আগেই নিয়ে নেয়া উচিত।

আবার এলাম জেটিতে। হেভলক থেকে নীল আইল্যান্ড যাওয়ার জন্য Green Ocean 2 এবং নীল আইল্যান্ড থেকে পোর্ট ব্লেয়ার ফিরে আসার Makruz এর টিকিট নিয়ে ফেললাম। এই বার নিশ্চিন্ত থাকা যাবে। 🙂 প্রসংগত বলে রাখি, ক্রুজের টিকিটের দাম দূরত্ব ও শ্রেনী অনুসারে গড়ে ১০০০-১২০০ রুপি জনপ্রতি।

যাই হোক আমরা আবার এসে অটোতে বসলাম। অটো চালক আমাদের হোটেল দেখাতে লাগলেন এবং ৩ নম্বর হোটলটি আমাদের পছন্দ হল। কথা বলে উঠে পড়লাম। ভাড়া ১৭০০ রুপি প্রতি রাত। অন্যান্য ট্যুরিষ্ট প্লেসের মত এইখানেও হোটেল ভাড়া ভাগ্যের উপরো নির্ভর করে। অনেক সময় কম টাকায়ও ভাল হোটেল পাওয়া যায়। আবার উল্টোটাও হতে পারে। আমরা যেখানে উঠেছি সেটা মূলত একটি রিসোর্ট টাইপের। সবার জন্য আলাদা আলাদা ঘর। ঘরের সামনে ছোট বারান্দামতন জায়গায় চেয়ার টেবিল পাতা। রিসোর্টের পুরো চত্বরটাই নারিকেল গাছে ঢাকা। আমাদের রুমের পাশ দিয়েই একটা পায়ে হাটা পথ চলে গেছে। সেই পথ ধরে ২/১ মিনিট হাটলেই সমূদ্র!

আন্দামানে খাবার খরচ ও গাড়ি ভাড়া একটু বেশি। তবে সকল জায়গার খাবার মেনু এবং দাম প্রায় একই ছিল। একটু ধারনা যদি পেতে চান তাহলে বলবো, প্লেইন রাইস ৭০-৮০ রুপি ( এর নিচে নেই এবং পরিমান যথেষ্ট) এবং মাছ ২০০-২৫০ রুপি থেকে শুরু। সব হোটেলের নিজস্ব ডাইনিং আছে। চাইলেই ওদের ডাইনিং বা বাইরেও খাওয়া যায়। আর গাড়ি ভাড়া ৩/৪ কিলো রাস্তার জন্যই ১০০/১৫০ রুপি চেয়ে বসে তারা। গাড়ি/অটোতে ওঠার আগে অবশ্যই দরদাম করে নিবেন।

হোটেলে wifi ও ব্যাবহার করতে পারবেন। তবে এই ক্ষেত্রে প্রতি ঘণ্টার জন্য স্থান ভেদে ১০০-১৫০ রুপি পড়ে। 🙂 তবে ১৫ মিনিট, ৩০ মিনিট এইভাবে বিভিন্ন ভাগে দাম নির্ধারন করা আছে। স্থানীয়দের মতে, কথা বলার জন্য এয়ারটেলের নেটওয়ার্ক ভাল। ২৪ ঘন্টা বিদ্যুৎ সরবরাহ আছে এবং সকল হোটেলেই এসি/নন-এসি দুই ধরনের রুমই আছে।

ফ্রেশ হয়েই বেরিয়ে পড়লাম। ঘরের কাছের সমুদ্র পাড়ে চলে এলাম। আকাশ মেঘলা ছিল ঐদিন। সমুদ্রে জোয়ার চলছিল। কিছু পর্যটক এদিক সেদিক অলস সময় কাটাচ্ছে। আমরাও নিজেদের মত করে উপভোগ করছি। হটাৎ মনে হল গুড়ি গুড়ি বৃষ্টি পড়ছে। সাথে বাতাসও ছিল ভালই। পরে জানতে পারলাম আমরা আসার আগের দুই দিন হেভলকে ভালই বৃষ্টি হয়েছে। আরো কিছুক্ষন থাকার পর ফিরে এলাম। দুপুরে খেয়েদেয়ে বের হওয়ার প্ল্যান আছে।

হেভলক হল আন্দামানের সবচেয়ে জনপ্রিয় দ্বীপ। প্রচুর পর্যটক এখানে আসেন। বেশীরভাগই ইউরোপীয়ান।স্কুবা ডাইভিং, সী-ওয়াকিং, মাছ ধরা সহ নানা রকম কর্মকান্ডের জন্য হেভলক জনপ্রিয়। এখানে চাইলে দিন প্রতি হিসেবে মোটরসাইকেল ভাড়া নেয়া যায়। এতে করে নিজের ইচ্ছা মত ঘুরে বেড়ানো যায়। তবে নিজের ড্রাইভিং লাইসেন্স আবশ্যক। পুরো দ্বীপ জুড়েই প্রচুর নারিকেল গাছ। তাই বলে, ১ টাকায় আট মণ নারিকেল পাওয়া যাবেনা। দাম হিসেব করলে আমাদের দেশের মতই পড়ে। বিজনেস ইজ বিজনেস, ইওর অনার। 🙂

আমরা একটা অটো ভাড়া করে ঘুরে আসি কালাপাথর বীচ থেকে। ঘোরার মত অনেক জায়গা আছে।সমুদ্রতটেই বালিতে ডেবে থাকা বড় বড় কালো পাথর দেখেই আমরা বুঝে নিলাম এই বীচের নামকরণের কারন। আকাশ তখনো মেঘাচ্ছন্ন। সাগরের নীল জলরাশি আছড়ে পড়ছে তীরে। সমূদ্রতীরে হরেক রঙের শামুক, কাঁকড়া নিজেদের মত করে ঘোরাফেরা করছে। এই প্রসংগে বলে রাখি, আন্দামানে ঝিনুক বা শামুক ইত্যাদি কুড়ানো নিষেধ আছে। তাই এর থেকে বিরত থাকাই ভাল।

দেখতে দেখতে সন্ধ্যা ঘনিয়ে এল। আমরা ফিরে এলাম আমাদের অস্থায়ী কুটিরে।রাতের খাওয়া শেষে রাতের সমুদ্র দেখার বাসনা মেটাতে চলে এলাম ঘরের পাশের বীচে। গিয়ে দেখি ভাটা পড়ে গেছে। পানি অনেক দূর চলে গেছে। দেখা যায় না! তখন রাত ১০ টা বা তারও বেশী। তারপরো, আন্দামান শতভাগ নিরাপদ, এই কথায় বিশ্বাস রেখে আমরা আরো কিছুক্ষণ এদিক-ওদিক হাঁটাহাঁটি করে ফিরে এলাম হোটেলে। পরের দিনের গন্তব্য নীল আইল্যান্ড।

যথাসময় (সকাল ১১ঃ৩০ মিনিটে) ক্রুজ ছেড়ে দিল নীলের উদ্দেশ্যে। একঘন্টা লাগলো পৌঁছাতে। নীল আইল্যান্ডেই বেশী ভাল লেগেছে।নীল আইল্যান্ড হল আন্দামানের সবচেয়ে ছোট দ্বীপ। এখানকার পানির অনেক রং হয়। কিছুদূর পর পর রঙ পরিবর্তন চোখে পড়ে। জিজ্ঞেস করে জানা গেল, পানির নিচে থাকা কোরালের কারনেই এমনটা হয়। স্থান ভেদে কোরালের ভিন্নতার কারনে সূর্যের কিরনে পানির নানান রঙ দেখা যায়। যাই হোক, জেটি থেকে বের হয়ে আবারো ট্যাক্সি ও অটো চালকদের ভিড় কাটিয়ে সামনে চলে এলাম। একজন অটোচালকের সাথে কথা বলে উঠে গেলাম। এবারো আগের মতই চুক্তি হল। হোটেল পাওয়ার আগ পর্যন্ত তিনি থাকবেন সাথে। প্রথম হোটেলেই পছন্দ হয়ে গেলো।

নাম কালাপানি। 🙂 এটাও নারিকেল গাছে ঘেরা আংগিনা। ভাগ্যক্রমে আবারো সমুদ্র পেয়ে গেলাম রুমের পাশেই। ভাড়া ১০০০ রুপি প্রতি রাত। ফ্রেশ হয়ে এবং দুপুরের খাওয়া শেষ বের হলাম নীল দ্বীপ দর্শনে। একটি ইন্টারেষ্টিং তথ্য হল, আন্দামানে বাংলা ভাষাভাষী মানুষ প্রচুর। কথা বলে জানতে পারলাম, এনাদের পূর্বপুরুষরা বাংলাদেশেরই অধিভাষী ছিলেন।ততকালীন রাজনীতির পরিক্রমায় উনারা বাস্তুহারা হন এবং তখন থেকে আন্দামানে জ়ীবিকা নির্বাহ করেন।

নীল দ্বীপে বেশ কয়েকটি পর্যটন স্পট আছে। তবে আমরা গেলাম, ন্যাচারাল ব্রীজ, ধর্মতলা বীচ ও সানসেট বীচে। ন্যারাচাল ব্রীজ হল বড় একটা বৃত্তাকার কোরাল। স্থানীয়রা একে ন্যাচারাল ব্রীজ বলে। এখানে যাওয়ার আগে অনেক গাইড এসে ভীড় করলো। তাদের গাইড হিসেবে তাদের নেয়ার জন্য প্ররোরচিত করতে লাগলো। ওইসবে কান না দিয়ে নিজেই শেষ পর্যন্ত গিয়েছি এবং পরে বুঝেছি যে, ভালই করেছি।

সানসেট বিচে সূর্যাস্ত দেখে ফিরে এলাম। পরের দিন পোর্টব্লেয়ারে ফেরার পালা। নীল আইল্যান্ড থেকে পোর্টে ব্লেয়ারে যেতে অন্য সকল নৌযানে ২ ঘণ্টা লাগলেও Makruz সময় নেয় মাত্র ১ ঘন্টা! পোর্ট ব্লেয়ারে এসে আগের হোটেলেই উঠলাম। বিকেলে সেলুলার জেল ঘুরে এলাম। সন্ধ্যার পর সময় কাটালাম মেলানি পার্ক ও আশেপাশে ঘোরাফেরা করে। আন্দামান ভ্রমন প্রায় শেষের পথে। আন্দামানের প্রতিটি দ্বীপেই অনেক কিছু করার আছে, দেখার আছে। সবই নির্ভর করবে বাজেট ও সময়ের উপর। তাই শেষ হইয়াও হইল না শেষ মন নিয়ে পরের দিনের কলকাতার ফ্লাইট ধরতে হল আমাদের।

আমাদের বিমান যখন পোর্ট ব্লেয়ার ছেড়ে আসছিল ততক্ষণে আন্দমানে আরেকটি সুন্দর দিন শুরু হয়ে গেছে। আমরা ফিরে আসছি ইট-সিমেন্টের যান্ত্রিক জীবনে। আর আন্দামানের রঙ্গীন সমুদ্র ব্যস্ত রয়েছে নতুন অথিতিদের অভ্যর্থনা জানাতে!

খরচঃ ২ জনের একসাথে

আমরা চার রাত চার দিন ছিলাম।

হোটেল+খাওয়া+ঘোরাফেরা = ২০ হাজার রুপি (প্রায়)
বিমান ভাড়া > কলকাতা – পোর্টাব্লেয়ার – কলকাতা= ২৫ হাজার টাকা (আপ-ডাউন)
ঢাকা – কলকাতা বাই ট্রেন – ৫ হাজার টাকা
কলকাতা – ঢাকা বাই ট্রেন – ২৬২০ রুপি

জালিয়ার দ্বীপ হবে দেশের প্রথম ট্যুরিজম পার্ক

jalia-dip

পাহাড় আর নদী ঘেরা নয়নাভিরাম প্রাকৃতিক সৌন্দর্ষের আঁধার নাফ নদীর জালিয়া দ্বীপটিকে ঘিরে গড়ে উঠছে দেশের প্রথম বিশেষায়িত ট্যুরিজম পার্ক। ২৯১ একর ভূমির এই দ্বীপকে আন্তর্জাতিকমানের ট্যুরিজম পার্কে রুপ দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

দেশে একশ’ বিশেষায়িত অর্থনৈতিক অঞ্চল (এসইজেড) গড়ে তোলার মহাপরিকল্পনার অংশ হিসেবে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা)এই পর্যটন কেন্দ্র গড়ে তুলছে। ২০১৮ সালে দ্বীপটিতে পর্যটকদের যাওয়ার উপযোগী করতে চায় বেজা।

ট্যুরিজম পার্কে পাঁচ তারকা হোটেল, ঝুলন্ত সেতু, ৯ দশমিক ৫ কিলোমিটার ক্যাবল কার নেটওয়ার্ক, রিসোর্ট, ভাসমান জেটি, শিশু পার্ক, ইকো-কটেজ, ওসানেরিয়াম, ওয়াটার রেস্টুরেন্ট,ভাসমান রেস্টুরেন্টসহ বিনোদনের বিভিন্ন আয়োজন রাখার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। এ বিষয়ে বেজার নির্বাহী চেয়ারম্যান পবন চৌধুরী বাসসকে বলেন,নাফ ট্যুরিজম পার্কটি হবে বাংলাদেশের প্রথম ট্যুরিজম পার্ক,যা বিনোদন জগতে নতুন দিগন্ত উম্মোচন করবে এবং এখানে থাকবে সুস্থ বিনোদনের সব ব্যবস্থা।

ট্যুরিজম পার্কটি সফলভাবে বাস্তবায়ন হলে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ মিলে প্রায় ২০ হাজার মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে বলে তিনি জানান। ২০১৮ সালের মধ্যে একটি ঝুলন্ত সেতু নির্মাণ এবং চলতি বছরেই ভূমি উন্নয়ন কাজ শেষ হবে বলে আশা প্রকাশ করেন পবন চৌধুরী।

বেজার নির্বাহী চেয়ারম্যান বলেন, নাফ ট্যুরিজম পার্ক দেশি-বিদেশি পর্যটকদের ভ্রমণকে পূর্ণাঙ্গ রূপ দেবে। থাইল্যন্ড, মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুরের পর্যটন স্পটে যে ধরনের বিনোদন সুবিধা রয়েছে, তার তুলনায় আরো উন্নতমানের অবকাঠামো সুবিধা এখানে রাখা হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন। নাফ ট্যুরিজম পার্ক উন্নয়নে আড়াই হাজার কোটি টাকার ওপরে বিনিয়োগ করার পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানান তিনি।

উল্লেখ্য, নাফ ট্যুরিজম পার্কের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের জন্য গত বছর জার্মানিভিত্তিক ইউনিকনসাল্ট নামের একটি কোম্পানিকে দিয়ে সমীক্ষা করিয়েছিল বেজা। ওই সমীক্ষায় বলা হয়েছে,২০১৯-২০ অর্থবছরে কক্সবাজারে কমপক্ষে ২৫ লাখ পর্যটক ভ্রমণে যাবে। এর মধ্যে কমপক্ষে ৩০ শতাংশ যাবে নাফ ট্যুরিজম পার্কে। সম্প্রতি জালিয়া দ্বীপ ঘুরে দেখা গেছে সেখানে শোভা বর্ধন বাড়াতে বৃক্ষ রোপন করা হচ্ছে। বিদ্যুতায়নের কাজ শুরু হয়েছে।

এছাড়া ভূমি উন্নয়নের কাজ শুরু করতে ঠিকাদারকে কার্যাদেশ প্রদান করেছে বেজা। দ্বীপের চারদিকের বাঁধ নির্মাণের নকশা সম্পন্ন হয়েছে। শিগগিরই এই কাজের দরপত্র আহবান করা হবে।

ঢাকা থেকে জালিয়ার দ্বীপের দূরত্ব ৪৫৬ কিলোমিটার এবং চট্টগ্রাম থেকে ১৮৫ কিলোমিটার। তবে কক্সবাজার বিমানবন্দর থেকে এর দূরত্ব ৬০ কিলোমিটার। এই দ্বীপ থেকে সেন্ট মার্টিনস দ্বীপে যেতে এক ঘণ্টা সময় লাগে।

জালিয়ার দ্বীপটি নাফ নদীর মাঝখানে অবস্থিত। এর একপাশে মিয়ানমার,অপর পাশে বাংলাদেশের নেটং পাহাড়। এই দ্বীপে দীর্ঘদিন স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তিরা মাছের চাষ করতেন। তবে বেজার নির্বাহী চেয়ারম্যান পবন চৌধুরীর উদ্যোগে দ্বীপটি দখলমুক্ত করা হয়। এখন সেখানে রাস্তাঘাট ও দ্বীপে যাওয়ার জন্য একটি সেতু নির্মাণ করা হয়েছে।

কক্সবাজার শহরের কলাতলী থেকে টেকনাফের সাবরং পর্যন্ত সাগরের কোলঘেষে ৮০ কিলোমিটার মেরিন ড্রাইভ (বিশ্বমানের সড়ক) ধরে পর্যটকরা সাগরের উত্তাল ঢেউ এবং পাহাড়ের সৌন্দর্ষ উপভোগ করতে করতে নাফ ট্যুরিজম পার্কে পৌঁছাতে পারবেন।

বাংলাদেশে ২৯টি অসম্ভব সুন্দর জায়গা ! আপনার বিশ্বাস হবেনা এরকম সুন্দর স্থান বাংলাদেশেও আছে

১. সাজেক ভ্যালি, রাঙ্গামাটি

Sajek Valley...

Photo by Afzal Nazim

  ২. সাজেক ভ্যালিSajek Valley
Photo by Tareq Mahmud  

৩. রাঙ্গামাটির সাজেক ভ্যালির পাহাড়ের উপরের দৃশ্য।

Beautiful BangladeshPhoto by Imran Bin Mazhar 

৪. বান্দরবান

I wanna climb the hills because I wanna vanish in clouds and their music
Photo by Md. Abdullah Mahmud 

৫. কাপ্তাই লেক, রাঙ্গামাটি

Kaptai lakePhoto by Sheikh Mehedi Morshed Taef  

৬. শুকনাছড়া ফলস, রাঙ্গামাটি।

The Shuknachara Falls
Photo by MD. Saiful Islam 

৭. রাইখং লেক, পুকুয়ারপাড়া, রাঙ্গামাটি

Raikhong LakePhoto by Tuheen BD 

৮. রাইখং ফলস, পুকুয়ারপাড়া, রাঙ্গামাটি

Waterfalls
Photo by Tuheen BD

৯. নীলগিরি রিসোর্ট, বান্দরবান

Nilgiri Resort @ Bandarban

১০. নীলগিরি বান্দরবান থেকে সূর্যাস্ত

sunrise at Nilgiri, BandarbanPhoto by Ishtiaque Ovee 

১১. সাঙ্গু নদী, বান্দরবান

Shangu, Bandarban
Photo by Exploring Bangladesh 

১২. কিউক্রাডং এর চূড়া থেকে

Goodmorning KeokaradangPhoto by Faisal Akram 

১৩. বান্দরবানের বগা লেকের কাছ থেকে মিষ্টি পাহাড়

Morning at Bandarban 2Photo by D.M Hasan-Uz- Zaman

১৪. বান্দরবানের বগা লেক

Boga Lake
Photo by Anwar Hussain

১৫. বান্দরবানের চিম্বুক পাহাড়

Bandarban Chimbuk Range Hill View From NilgiriPhoto by Sharif Ripon 

১৬. জাদিপাই পাড়া, বান্দরবান

Jadipai Para
Photo by Shahadat Rahman Shemul 

১৭. জাদিপাই ফল, বান্দরবান

Jadipai Fall, Bandorban, BangladeshPhoto by Roy Udoy 

১৮. নাফাখুম ফল, বান্দরবান

Nafakhum, BandarbanPhoto by Razequl Zibon 

১৯. থানচি, বান্দরবান

Pan Thanchi 1
Photo by Sabbir Khan

২০. আমিয়াখুম ফল, বান্দরবান

Amiakhum WaterfallPhoto by Md. Rasedul Hasan 

২১. রিজুক ফল, বান্দরবান

Rijuk falls ((Bandarban).............

Photo by Khondoker Jannatul Ferdous  

২২. তাজিংডন, বান্দরবান

Tajingdong
Photo by Dr. Muntasir Moin  

২৩. রাতারগুল জলাভূমির বন, সিলেট

Ratargul
Photo by Wild Priest 

২৪.  সিলেটের রাতারগুল জলাভূমির বনের আরেকটি দৃশ্য

04Photo by Arefin Chisty  

২৫.  সিলেটের রাতারগুল জলাভূমির বন

A Refreshing Moment at Ratargul Swamp Forest II
Photo by Abdullah Al Mamun Chowdhury 

২৬. জাফলং, সিলেট

JaflongPhoto by  Neerod 

২৭. বিছনাকান্দি, সিলেট

Bichana Kandi _ sYlhet
Photo by Nilesh Rony 

২৮. আরণ্যক রিসোর্ট, রাঙ্গামাটি

Rangamati, Bangladesh

২৯. পানতুমাই, সিলেট

Sylhet

স্বপ্নপুরী দার্জিলিং: দার্জিলিং যাবেন কিভাবে? কোনপথে?

DarjeelingTeaGardens

দেশ দেখে বেড়ানোটা আনন্দের। কিন্তু সেটা যদি হয় আর্থিক সঙ্গতির মধ্যে, তবেই তা সম্ভব। বিভিন্ন মানুষের দেশ দেখে বেড়ানো বিভিন্ন রকম। বিলাসবহুল জীবনযাপন যারা করেন তারা একটু আভিজাত্যের ছাপ রেখেই দেশ-বিদেশ ভ্রমণ করে বেড়ান। কিন্তু সবার সঙ্গতি তো আর সমান নয়। আর সমান নয় বলেই কি দেশ-বিদেশ ভ্রমণ করা যাবে না?
যাবে। অবশ্যই যাবে। চারদিক থেকে নিজের আভিজাত্যকে একটু কাটছাঁট করে নিলেই তা সম্ভব। স্বল্প খরচে, অল্প আরামে মনটাকে মানিয়ে নিতে পারলেই আমাদের চোখের সামনে খুলে যাবে সৃষ্টির অনেক অজানা দুয়ার। আর সেই দুয়ার খুলেই চলুন চট করে বেড়িয়ে আসা যাক, হিমালয়ের কোল ঘেঁষে দাঁড়িয়ে থাকা ছবির মতো সুন্দর স্বপ্নপুরী দার্জিলিং থেকে।
derjeeling

কিভাবে যাবেন?
প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে বিভোর নগরী পাহাড়ে ঘেরা অপূর্ব চিরহরিৎ ভূমির দার্জিলিংয়ে স্থলপথে রাজধানী ঢাকা থেকে সরাসরি দার্জিলিং যেতে চাইলে উত্তরবঙ্গের বুড়িমারি সীমান্ত অতিক্রম করে যাওয়াটাই সবচেয়ে সুবিধাজনক। ঢাকার গাবতলী থেকে প্রতিদিন অসংখ্য যাত্রীবাহী বাস চলাচল করে উত্তরবঙ্গের বুড়িমারী সীমান্তের উদ্দেশে। ঢাকার ভারতীয় দূতাবাস থেকে পাসপোর্টে নির্দিষ্ট সময়ের ভিসা নিয়ে রাত ১০টার সুপার সেলুন চেয়ার কোচে উঠে পড়–ন বুড়িমারী সীমান্তের উদ্দেশে। ভাড়া জনপ্রতি আর কত সামর্থের মধ্যেই। ভোর ৭টা নাগাদ আপনি অনায়াসে পৌঁছে যাবেন বুড়িমারী চেকপোস্টে। ইমিগ্রেশন অফিসের কাছেই সব বাস থামে। প্রাতঃরাশ সম্পন্ন করে ইমিগ্রেশনের দায়িত্বে নিয়োজিত ব্যক্তির সঙ্গে সম্পন্ন করে নিন ভ্রমণ কর ও কাস্টমসের সব প্রক্রিয়া। অবশ্য আপনি চাইলে ঢাকা থেকেই ভ্রমণ কর প্রদান করে যেতে পারেন সোনালী ব্যাংকের যে কোন শাখায়। বুড়িমারী অতিক্রম করে ওপারে চ্যাংড়াবান্দা সীমান্তে পৌঁছে একইভাবে সম্পন্ন করে নিন আপনার ইমিগ্রেশন ও কাস্টমসের সব প্রক্রিয়া। ও ভালো কথা, আপনার বহনকৃত ইউএস ডলার চ্যাংড়াবান্দায় অবস্থিত সরকার অনুমোদিত ডিলারদের কাছ থেকেই ভারতীয় মুদ্রায় পরিবর্তন করে নেবেন। অন্যথায় পরবর্তী সময়ে টাকা ভাঙাতে আপনাকে বেশ বেগ পেতে হবে।
চ্যাংড়াবান্দা থেকে সরাসরি ময়নাগুড়ির বাস ধরে দেড় ঘণ্টায় পৌঁছে যাবেন শীর্ষেন্দু-সমরেশের উপন্যাসখ্যাত শিলিগুড়ি জিপ স্টেশনে। ভাড়া জনপ্রতি ৭০ ভারতীয় রুপি। সেখান থেকে ঝটপট ১২০ ভারতীয় রুপির বিনিময়ে সংগ্রহ করে নিন দার্জিলিংগামী কমান্ডার জিপের টিকিট। হাতে শীতের পোশাক নিয়ে বসে পড়–ন আপনার নির্ধারিত আসনে। ব্যস, মাত্র আড়াই ঘণ্টায় আপনি পৌঁছে যাবেন মেঘের দেশ স্বপ্নিল ভুবনের দার্জিলিংয়ে।
তাছাড়া কলকাতা থেকে যেতে চাইলে আপনাকে শিয়ালদহ রেলওয়ে স্টেশন থেকে সন্ধ্যা ৭টা ১৫ মিনিটের দার্জিলিং মেল ধরতে হবে। টিকিট সংগ্রহ করবেন ট্যুরিস্টদের জন্য নির্ধারিত কাউন্টার ফেয়ারলি প্যালেস থেকে। অতঃপর প্রায় ৫৭৬ কিলোমিটার অর্থাৎ ১৪ ঘণ্টার এক ট্রেন ভ্রমণ করে পরদিন সকাল ১০টা নাগাদ নিউ জলপাইগুড়ি স্টেশনে পৌঁছে যাবেন। স্টেশন থেকে প্রাতঃরাশ সম্পন্ন করে রিকশাযোগে চলে আসুন শিলিগুড়ি জিপ স্টেশনে। ১০-১২ রুপি ভাড়া পড়বে।  সেখান থেকে ওই কমান্ডার জিপে চড়ে পৌঁছে যেতে পারেন স্বপ্নপুরী দার্জিলিংয়ে।

darjeeling

কোথায় থাকবেন?
পুঞ্জীভূত মেঘের কণা ভেদ করে আঁকাবাঁকা পথের ধারে পুরো দার্জিলিং শহরে রয়েছে অসংখ্য আবাসিক হোটেল। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হোটেলে প্রতিদিনের থাকা এবং খাওয়াসহ জনপ্রতি ভাড়া প্রায় ৮৫০-১২০০ রুপি করে। প্রায় প্রতিটি হোটেলেই রয়েছে দর্শনীয় স্থানসমূহ ঘুরে বেড়ানোর জন্য আকর্ষণীয় জিপ, সার্বক্ষণিক গরম পানির ব্যবস্থা, ঠাণ্ডা প্রতিরোধে ওষুধসহ যে কোন মুহূর্তে যে কোন সমস্যার তাৎক্ষণিক সেবা।

খাবার-দাবার
ট্যুরিস্টদের জন্য হোটেলগুলোতে সব ধরনের খাবারের ব্যবস্থা করা হয়। ফলে পুষ্টিকর ও রুচিসম্মত খাবার নিয়ে দুশ্চিন্তার কিছু নেই। বাংলাদেশ থেকে প্রতিবছর অসংখ্য ট্যুরিস্টের আগমনের ফলে এখানকার হোটেল মালিকরা বাংলাদেশীদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থায় একেবারে বাঙালি রুচিসম্মত খাবার-দাবারের জোগান দিয়ে থাকেন। ব্রেকফাস্ট, লাঞ্চ এবং ডিনার ছাড়াও হোটেল কর্তৃপক্ষ ভোরবেলায় বেড-টি এবং ডিনারের আগে ইভনিং-টি’র ব্যবস্থাও করে থাকেন।

কোথায় বেড়াবেন?
ছোট বড় মিলিয়ে বেড়ানোর জন্য প্রায় ১৭টি আকর্ষণীয় স্থান রয়েছে দার্জিলিং জুড়ে। পৃথিবীর সবচেয়ে উঁচুতে অবস্থিত রেলওয়ে স্টেশন ‘ঘুম’ ছাড়াও আরও যেসব দর্শনীয় স্থান দেখে আপনার আনন্দময় অভিজ্ঞতা অর্জিত হবে তা হচ্ছে;
সমুদ্র-পৃষ্ঠ থেকে প্রায় ১০,০০০ ফুট উঁচু পাহাড়ের চূড়া থেকে অপূর্ব  সুন্দর সূর্যোদয় দেখা। পৃথিবীর বিখ্যাত প্রার্থনা-স্থান ঘুম মোনাস্ট্রি। ছবির মতো অপূর্ব সুন্দর স্মৃতিসৌধ বাতাসিয়া লুপ বিলুপ্ত-প্রায় পাহাড়ি বাঘ Snow Lupard খ্যাত দার্জিলিং চিড়িয়াখানা। পাহাড়ে অভিযান শিক্ষাকেন্দ্র  ‘হিমালয়ান মাউন্টেনিয়ারিং ইন্সটিটিউট’।
সর্বপ্রথম এভারেস্ট বিজয়ী তেনজিং-রক- এর স্মৃতিস্তম্ভ। কেবল কারে করে প্রায় ১৬ কিলোমিটার এক পাহাড় থেকে অন্য পাহাড়ে ভ্রমণ।
হ্যাপি ভ্যালি টি গার্ডেনে বসে তাৎক্ষণিকভাবে পৃথিবীখ্যাত ব্ল্যাক টি পানের অপূর্ব অভিজ্ঞতা।
যুদ্ধবিধ্বস্ত শরণার্থী কেন্দ্র  তিব্বতিয়ান সেলফ হেলপ্ সেন্টার। সমুদ্র-পৃষ্ঠ থেকে প্রায়  ৮,০০০ ফুট উঁচুতে অবস্থিত মনোরম খেলাধুলার স্থান দার্জিলিং গোরখা স্টেডিয়াম।
নেপালি জাতির স্বাক্ষর বহনকারী দার্জিলিং মিউজিয়াম। পৃথিবীর বিখ্যাত বৌদ্ধ বিহার জাপানিজ টেম্পল ব্রিটিশ আমলের সরকারি নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র  কাউন্সিল হাউস ‘লাল কুঠির’ অসাধারণ শৈল্পিক নিদর্শন খ্যাত ‘আভা আর্ট গ্যালারি’। শতবর্ষের প্রাচীন মন্দির ‘দিরদাহাম টেম্পল’। এসব নিদর্শন ছাড়াও আপনার মনের চিরহরিৎ জগতকে শুধু আনন্দময় নয়, এক নতুন জীবনের যাত্রা শুরু করাতে চলে যেতে পারেন পাথর কেটে তৈরি ‘রক গার্ডেন’ এবং গঙ্গামায়া পার্কে উপরোল্লিখিত দর্শনীয় স্থানগুলো ছাড়াও আপনার হদয় গহিন থেকে রোমাঞ্চিত করবে মহান সৃষ্টিকর্তার বিশাল উপহার হিমালয় কন্যা ‘কাঞ্চন-জংঘা’, বিশুদ্ধ পানির অবিরাম ঝর্ণাধারা ‘ভিক্টোরিয়া ফলস্’ এবং মেঘের দেশে বসবাসরত এক সুসভ্য জাতির সংস্কৃতি।

darjeeling-04

কেনাকাটা
দার্জিলিং শহরের লাডেন-লা রোডের কোল ঘেঁষে রয়েছে অসংখ্য ছোট-বড় মার্কেট। দৈনন্দিন জীবনের ব্যবহার্য প্রায় সব জিনিসই আপনি পেয়ে যাবেন আপনার ক্রয়- ক্ষমতার মধ্যে। সবচেয়ে ভালো পাবেন শীতের পোশাক। হাতমোজা, কানটুপি, মাফলার, সোয়েটারসহ যে কোন প্রকারের লেদার জ্যাকেট পেয়ে যাবেন আপনার পছন্দমতো মূল্যে। তাছাড়া ১০০ থেকে ৫০০ রুপির মধ্যে পেয়ে যাবেন অসাধারণ কাজ করা নেপালি শাল এবং শাড়ি যা আপনার পছন্দ হতে বাধ্য। প্রিয়জনকে উপহার দিতে সর্বনিু ২০ রুপি থেকে ২৫০ রুপির মধ্যে পেয়ে যাবেন বিভিন্ন অ্যান্টিক্স ও নানাবিধ গিফট আইটেম, যা আপনার প্রিয়জনের ভালোবাসা কেড়ে নিতে সক্ষম। তাছাড়া আকর্ষণীয় লেদার সু আর বাহারি সানগ্লাস তো আছেই। কেনাকাটা করতে গিয়ে প্রতারিত হওয়ার আশংকা একেবারেই নেই। তবে হোটেলগুলোতে কিছু নেপালি তরুণ-তরুণী ভ্রাম্যমাণ ফেরি করে শাল, শাড়ি বিক্রয় করে থাকে। তাদের কাছ থেকে না কেনাটাই উত্তম।

ঝুঁকি
মানুষের জীবনটাই একটা বড় ঝুঁকি। তার পরেও সাবধানতা অবলম্বন করে ঝুঁকি এড়িয়ে স্বাচ্ছন্দ্যে বেঁচে থাকার প্রয়াস পেয়েছে মানুষ দীর্ঘকাল। দার্জিলিং ভ্রমণেও ছোটখাটো কিছু ঝুঁকি রয়েছে। মাঝে-মাঝেই পাহাড়ি অঞ্চলে  ছোটখাটো ধস নামে। তবে সেটা বেশি হয় বর্ষা মৌসুমে। শীত বা গরমে সে ঝুঁকিটা একেবারেই নেই। আর গরম জামাকাপড় ব্যবহারে অবহেলা না করলে ঠাণ্ডা লাগার ঝুঁকিটাও কমে যায় একেবারেই। তাছাড়া হোটেল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সবরকম বিষয়ে পরামর্শ করে চলাফেরা করলে স্থানীয় দালাল বা হারিয়ে যাওয়ার আশংকা থেকেও আপনি পেয়ে যাবেন পুরোপুরি মুক্তি।

Darjeeling2

মোট খরচ
স্বল্প খরচে, অল্প আরামে মনটাকে মানিয়ে নিতে পারলে শীত মৌসুমে মাত্র ১০,০০০ টাকার মধ্যেই আপনি সেরে নিতে পারেন স্বপ্নপুরী দার্জিলিং দেখার যাবতীয় কার্যক্রম। ভালো কথা, এ হিসাবটা শুধু  বুড়িমারী সীমান্ত পথের। কলকাতার শিয়ালদহ হয়ে গেলে এ হিসাব বেড়ে দাঁড়াবে সর্বসাকুল্যে ১৫০০০ টাকায়। আমাদের দেশে রয়েছে অসংখ্য ট্যুরিজম কোম্পানি, যারা দার্জিলিংসহ বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে প্যাকেজ ট্যুরের আয়োজন করে থাকে।

আশপাশে
দার্জিলিং শহর থেকে কিছুটা দূরে নেপাল শহরের নিকটবর্তীতে অবস্থান করছে মিরিক লেক ও পশুপতি মার্কেট। সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৫টার মধ্যে জনপ্রতি ৪৫০ রুপি ভাড়ার মধ্যে আকর্ষণীয় জিপে ঘুরে আসতে পারেন। সেজন্য অবশ্য আরও একটি দিন বেশি অতিবাহিত করতে হবে দার্জিলিং শহরে। তবুও যাত্রার দিন থেকে নিয়ে সর্বমোট ৫ দিনেই সবকিছু ঘুরে-ফিরে আসতে পারবেন আপনার প্রিয়জনদের মাঝে অপূর্ব স্বপ্নিল অভিজ্ঞতা নিয়ে।

darjeeling-hillside-3

মেঘ ছুঁয়ে যাওয়া বর্ষার নীলাচল

ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত
 বান্দরবান: ভরবর্ষায় পাহাড় সাজে রাজকন্যার মতো। চলে মেঘ পাহাড়ের খেলা। তাদের সঙ্গ দেয় সবুজ বৃক্ষরাজি। বিশুদ্ধ শান্তির পরশ থাকে চারদিকে। প্রকৃতি যেন সবটুকু উজাড় করে দিয়ে পেখম মেলে বসে সৌন্দর্য বিকাশে।

আর বর্ষায় রূপসী বান্দরবানের অন্যতম পর্যটন এলাকা নীলাচলের সৌন্দর্য থাকে ভিন্ন। সাদা মেঘ ছুঁয়ে যায় বর্ষার নীলাচলে। দূর আকাশের মেঘ ভেসে আসে নীলাচলের চূড়ায়। ইচ্ছে হলেই ছুঁয়ে দেখতে পারে পর্যটকরা!

যান্ত্রিক জীবনের নানা কর্মব্যস্ততার ফাঁকে কিছুটা প্রশান্তি পেতে এ বর্ষাতেই ঘুরে আসুন বান্দরবানের অন্যতম আকর্ষণীয় পর্যটন স্পট নীলাচলে। কারণ বর্ষার ছোঁয়ায় পাহাড়গুলো যেন ফিরে পায় নতুন প্রাণ, চারিদিকে ঢাকা পড়ে সবুজের আবরণে।

বর্ষায় নীলাচল ভ্রমণের আরেকটি সুবিধা হচ্ছে এ মৌসুমে পর্যটকদের ভীড় কিছুটা কম থাকে। হানিমুন, আনন্দ ভ্রমণ ও পরিবার নিয়ে ঝামেলাহীন পরিবেশে ঘুরতে যাওয়ার আদর্শ স্থান হতে পারে নীলাচল। তাই সবুজে মোড়ানো প্রাকৃতিক সৌর্ন্দয্য এবং মেঘ ছুঁয়ে দেখার ইচ্ছে হলে নীলাচল ভ্রমণে এ বর্ষা ঋতুকেই বেছে নিন।

বান্দরবান শহর থেকে মাত্র ৫ কিলোমিটার দূরে সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ২ হাজার ফুট উ‍ঁচুতে নীলাচলের অবস্থান। দূর থেকে দেখতে মনে হবে আকাশের নীল রংয়ের আচল পাহাড়ে ছড়িয়ে রয়েছে। এ কারণেই পাহাড়টির নামকরণ করা হয়েছে নীলাচল। পাহাড়টি থেকে এক নজরে চোখে পড়বে বান্দরবান শহর ও পার্শ্ববর্তী এলাকার সৌন্দর্য।

নীলাচলে সম্প্রতি নতুন আকর্ষণ হিসেবে যোগ হয়েছে ‘ঝুলন্ত নীলা’ ‘নীহারিকা’ এবং ‘ভ্যালেন্টাইন’ পয়েন্ট নামে বেশ কিছু স্পট। পাহাড়ের ভাজে ভাজে তৈরি করা হয়েছে এ স্পটগুলো। এক একটি স্পট একেবারেই আলাদা আলাদা। একেক জায়গা থেকে পাহাড়ের দৃশ্যও একেক রকম। যেখান থেকে নীলাচলের ভিন্ন ভিন্ন সৌন্দর্য উপভোগ করা যায়।

মুহূর্তেই মন প্রাণ ভরে উঠবে মুগ্ধতায়। বিশেষ করে নীলাচলে সূর্যাস্তের দৃশ্য ভ্রমণ পিয়াসুদের মনে আনে স্বর্গীয় অনুভূতি। কথিত আছে, নীলাচলের নির্মল বাতাস রোগ নিরাময়ের টনিক হিসেবে কাজ করে।

চারিদিকের পাহাড়গুলোর ঢালুতে দেখতে পাবেন তঞ্চঙ্গ্য, বম সম্প্রদায়ের বেশ কয়েকটি পাহাড়ি গ্রাম। পাহাড়ি গ্রামগুলো দেখতে চাইলে পায়ে হেঁটে পাহাড়ের পাদদেশে চলে যেতে পারেন। তবে সাবধান, বর্ষায় পাহাড়ি রাস্তা বেশ বিপদজনক।

এছাড়া পূর্ণিমার রাত যদি নীলাচলে কাটাতে চান তাহলে সেভাবেই দিনক্ষণ ঠিক করে বেরিয়ে পড়–ন। জোৎস্না রাতে নীলাচলের সৌন্দর্য এনে দেবে অন্যরকম রোমাঞ্চকর অনুভূতি।

বান্দরবান শহর থেকে ভাড়ায় চালিত বেবি ট্যাক্সি, চান্দের গাড়ি, জিপ নিয়ে ১৫-২০ মিনিটে নীলাচল যাওয়া যায় খুব সহজেই। ভাড়া গুণতে হবে ৪০০-৮০০ টাকা। নীলাচলে পাহাড়ের ঢালুতে রয়েছে ৩টি নীল রঙের দৃষ্টিনন্দন কটেজ ও জেলা প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত দুই কক্ষ বিশিষ্ট একটি রেস্টহাউজ। কটেজগুলো ভাড়ায় পাওয়া যায়, আর রেস্ট হাউজে রাত্রিযাপন করতে হলে আগেই নিয়ে নিতে হবে জেলা প্রশাসনের অনুমতি।

নীলাচলে রয়েছে স্কেপ নামের একটি আকর্ষণীয় রেস্টুরেন্ট। যেখানে সাধারণ পর্যটকদের জন্য সূর্যাস্ত পর্যন্ত অবস্থান করার অনুমতি রয়েছে। তবে রিসোর্টের অতিথিরা সর্বক্ষণ থাকার সুযোগ পাবেন সেখানে।

স্কেপ রিসোর্টের পরিচালক জাকির হোসেন জানান, নীলাচল স্কেপ রিসোর্টে অতিথিদের জন্য তিনটি কটেজ নির্মাণ করা হয়েছে। প্রত্যেকটিতে ২টি করে মোট ৬টি কক্ষ রয়েছে। প্রতি কক্ষের ভাড়া ৩ হাজার টাকা। অগ্রিম বুকিং ও সরাসরি যেকোন তথ্য পেতে যোগাযোগ করতে হবে ০১৭৭৭৭৬৫৭৮৯ নম্বরে।

কীভাবে যাবেন
ঢাকার ফকিরাপুল, কমলাপুর ও সায়দাবাদ থেকে শ্যামলী পরিবহন, সেন্টমার্টিন পরিবহন ও বিআরটিসির এসি ও নন এসি বাস সর্ভিস রয়েছে। ভাড়া ৬শ থেকে ১ হাজার ২শ টাকার মধ্যে।

এছাড়া সড়ক, রেল কিংবা আকাশ পথে চট্টগ্রাম হয়ে সহজেই যাওয়া যায় বান্দরবান। চট্টগ্রামের বহদ্দারহাট বাস টার্মিনাল থেকে পূরবী, পূর্বাণী পরিবহনের বাস সার্ভিস রয়েছে সকাল ৬ থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত। ভাড়া ১১০-১৩০ টাকার মধ্যে।

প্রয়োজনীয় যেকোন তথ্য জানতে চাইলে নীলাচল পর্যটন স্পটের দায়িত্বে থাকা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (এনডিসি) সঙ্গেও ০৩৬১-৬২৫০৬ ও ০১৭১৪২৩০৩৫৪ নম্বরে যোগাযোগ করতে পারেন।

 

ভয়ংকর সৌন্দর্যের পাহাড়ি পথে

রাত এগারটা দশে কমলাপুর থেকে গাড়ি ছাড়ে। মাঝরাতে কুমিল্লায় এক বিখ্যাত রেষ্টুরেন্টে ব্রেক। তেল ছাড়া পারাটা আর গরু গোস্ত ভূনা! অবশ্য মুখে দিতেই কম্ব সারা, বহুক্ষণ চিবিয়েও যেন গলা দিয়ে নামে না। যাক বাবা কি আর করা, পকেট থেকে খোয়া গেল বেশ কিছু টাকা ! সকাল ৮টা ২০ মিনিটে খাগড়াছড়ির দিঘীনালা বন বিহারের সামনে পৌঁছে  যাই। শ্রমিক নেতা সুনিল দা— মান্ধাতা আমলের চান্দের গাড়ি নিয়ে আগে থেকেই রেডি।

অতঃপর কিছুটা সময় বনবিহারে সৌন্দর্য দর্শন। সেল ফোনে মফিজ ভাইয়ের তাড়া, একটু তাড়াতাড়ি আসেন না ভাই, বাজারসদাই করে যেতে হবে সাজেক ভ্যালি। চান্দের গড়ি স্টার্ট দিয়ে দশ মিনিটের মধ্যেই পৌঁছে যাই গেস্ট হাউসে, সাফসূতর, নাশতা আর বাজারসদাই চলে সমান তালে। চাল-তেল-মুরগি গাড়িতে তোলে নিই।

সবকিছু পিছনে ফেলে গাড়ি ছুটছে সাজেক ভ্যালি! খাগড়াছড়িকে বিদায় দিয়ে রাঙ্গামাটির বাঘাইছড়ি আর্মি ক্যাম্পে পৌঁছে ব্রেক। খুব সময় লাগলো না নাম-ঠিকানা এন্ট্রি করতে! অথচ ২০০৪ সনে যখন যাই, তখন প্রায় ঘন্টাখানেক জেরা করে তারপর অনুমতি পাই। গঙ্গারাম মুখ নন্দরাম পাড়া পেরিয়ে নিরিবিলি পাহাড়ি আঁকাবাঁকা পথে গাড়ি চলে, যতই এগিয়ে যাই, ততই সামনের পাহাড় যেন দূরে সরে যায়। কখনো চারপাশের মায়াময় প্রকৃতির রূপে আছন্ন হয়ে পড়ি।

কাচালং নদী পেড়িয়ে মাচালং বাজারে খনিকটা সময় বিরতি। কচি ডাবের পানি আর পাহাড়ি বালিকা তরুণীদের সঙ্গে চলে অম্ল-মধুর খুনসুটি। সাজেক পৌঁছার ঠিক ৫ কি.মি. আগে পথের এমন  সৌন্দর্য যে, সেখানে গাড়ি ব্রেক না করে উপায় কী। চলে একেক জনের ইচ্ছে মত সেল্ফি। টঙ দোকান থেকে বাংলা কলা পেটে পুরে আবার চলতে শুরু করি। একটা সময় মনে হল যেন আকাশটাকে ধরে ফেলছি। তবে ধরার আগেই পৌঁছে যাই সাজেকের প্রথম পাড়া রুইলুইতে। প্রথম দেখাতেই চোখ কপালে। জনপ্রতি বিশ টাকায় টিকেট কেটে ঢুকে পড়ি ভেতরে। কৃত্রিম আর প্রাকৃতি— এই দুয়ের মিশ্রণে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী এখানটায় এনে দিয়েছে এক অন্যরকম রূপ। দেখলে মনে হবে, সাজেক ভ্যালি যেন কোন উন্নত দেশের পাহাড়ি জনপথের প্রতিচ্ছবি ।
pic_ma1_507298822
আমাদের রাতে থাকার জন্য ঠাঁই  হয় সাজেক ক্লাব হাউজে । কাঁধের-পিঠের ঝোলা রেখে বের হয়ে পড়ি সাজেক দর্শনে। কখন খেতে আসব জানতে চাইলে, রসুই ঘর থেকে খবর আসে ঘুরতে থাকেন মনের সুখে!  ফলে পেটে কিছু দিতে ঢু মারি চায়ের দোকানে। চানাচুর, বিস্কুট, সঙ্গে এক কাপ লিগার চা। তারপর বিমুগ্ধ নয়নে সাজেকের রূপ দেখি আর বিগত দশ বছর আগের স্মৃতি হাতড়ে ফিরি । সরকার চাইলে কী-না পারে, তার উৎকৃষ্ট প্রমাণ এই সাজেক ভ্যালি। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ২,৭০০ ফিট উচ্চতার সাজেক ভ্যালি এখন দেশের অন্যতম দর্শনীয় পর্যটন কেন্দ্র। দৃষ্টির শেষ সীমা পর্যন্ত সাজেকের ঢেউ খেলানো পাহাড়ের সৌন্দর্য। বসন্তের ছোঁয়ায় পাতা ঝরা গাছগুলো যেন একেকটি শিহরণ জাগানো ছবি। সাজেকের আইকন বিজিবি পরিচালিত রূন্ময় কটেজটি সাজেকের রূপের পসরায় যোগ করেছে আশ্চর্যরকম ভাল লাগা। পাহাড়ের গায়ে পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন পিচ ঢালা পথ গিয়ে শেষ হয়েছে বিজিবি ক্যাম্প পর্যন্ত। সাজেক ভ্যালি হলো বাংলাদেশের সব চাইতে বড় ইউনিয়ন। দূর্গম সাজেক আজ পরিণত হয়েছে সৌখিন ভ্রমণ পিপাসুদের তীর্থে

ছুটি কংলাকের পথে। ঝিপে মাত্র ১০ মিনিটের পথ, এরপর ১৫ মিনিটের চড়াই-উৎরাই। কংলাক সাজেকের সবচেয়ে উঁচু সিপ্পু পাহাড়ে অবস্থিত। শুধু সাজেক ভ্যালি নয় পুরো রাঙ্গামাটির  জেলার মধ্যে উচুতম পাহাড়। এর উচ্চতা সমুদ্রপৃষ্ঠ হতে প্রায় ২৮০০ ফিট।

কংলাকের প্রকৃতি যেন আরো একটু বেশিই উদার। হয়তো কংক্রিটের আলিঙ্গনে এখনো নিজেকে জড়ায়নি, তাই। পাহাড়ের চূড়া থেকে ঢেউ খেলানো পাহাড়ের বুকে এক পায়ে দাঁড়িয়ে থাকা সারি সারি কমলার বাগান। নয়নাভিরাম সৌন্দর্যের আধার সাজেক ভ্যালি পুরনো সেগুন গাছ, বাঁশ বন আর প্রাচীন বটবৃক্ষের মায়াবি পরশে ঘেরা। সাজেকের রুইলুই ও কংলাক পাড়ায় মোট ৯৬টি পরিবারের বসতি। এদের বেশির ভাগই লুসাই, পাংখোয়া ও ত্রিপুরা সম্প্রদায়ের জনগোষ্ঠী। প্রতিটি বাড়িই সাজানো গুছানো। বাড়ির আঙ্গিনায় ফুটে আছে নানান রঙের ফুল। সাজেকের হেডম্যান লাল থ্যাঙ্গগা লুসাইর সঙ্গে কথা বলে আদিবাসিদের সম্পর্কে জানা হলো। রুইলুই ও কংলাক এই দুই পাড়ার আদিবাসিরা অধিকাংশই ইংরেজি শিক্ষিত। পাশেই ভারতের মিজোরাম প্রদেশের সঙ্গে তাদের যোগাযোগ বেশি। অধিকাংশ বসিন্দা পড়ালেখাসহ হাটবাজার পর্যন্ত মিজোরাম থেকেই করে থাকেন। তাদের পোশাক ও আচার-আচরণ আধুনিক। অত্যন্ত বিনয়ী স্বভাবের আদিবাসি মানুষগুলো এক কথায় বন্ধুবৎসল। পুরো বিকেলটা কংলাক পাড়ার সিপ্পু পাহাড়ের চূড়ায় কাটিয়ে সন্ধ্যায় ফিরি ক্লাব হাউজে।

রাতে হবে বার-বি- কিউ, সঙ্গে ক্রিকেটে ভারত হেরেছে সেই আনন্দে মাওকা ডেন্স! রাত নয়টা, শুরু হয় আয়োজন। সবাই অনন্দে প্রাণ খুলে নাচলও অনেক রাত পর্যন্ত। রাত প্রায় একটা পর্যন্ত চলা আনন্দ-উল্লাস শেষে যাই ঘুমাতে। উঠতে হবে ৪.৩০ মিনিটে, দেখতে হবে পুব আকাশের প্রান্ত থেকে সূর্যোদয়ের দৃশ্য। কিন্তু হায়! চাইলেই কি আর ঘুমানো যায়! নাক ডাকা শিল্পিদের শুরু হয় হরেক কিসিমের কর্কশ আওয়াজ তোলার কেরামতি।

দে-ছুটের বন্ধুরা সাজেক রিসোর্টের পাশে দাঁড়িয়ে তাকিয়ে আছি পূর্ব দিগন্তে। ৫টা ২০মিনিট, আকাশে সূর্যের লালীমা কিন্তু মিজোরাম পাহাড় ডিঙিয়ে সূর্য দেখা দিতে সময় নেয় বেশ খানিক। আমরাও নাছোড়বান্দা। সকাল ৫.৪০ মিনিটে অবশেষে সেই কাঙ্ক্ষিত সূর্যোদয়। ধীরে ধীরে মিজোরাম পাহাড়টাকে নীচে রেখে লাল টকটকে সূর্য উঁকি দেয় আকাশে। সেই সূযোদয়ের দৃশ্যের বর্ণনা ভাষায় দেয়ার ক্ষমতা নেই আমার। দার্জিলিংয়ের টাইগার হিল থেকেও দেখেছি, এবার আমাদের নিজ ভূখণ্ড সাজেক থেকেও দেখলামম, অপরূপ।

কীভাবে যাবেন
সাজেক রাঙামাটি জেলায় হলেও যোগাযোগের সুবিধা খাগড়াছড়ি দিয়ে। ঢাকা থেকে বাসে সরাসরি খাগড়াছড়ির দীঘিনালা বাজার। সেখান থেকে চান্দের গাড়িতে সাজেক ভ্যালি। বাস ভাড়া ৫৮০ টাকা। চান্দের গাড়ি রিজার্ভ ৪,০০০ টাকা। পরের দিন ফেরার জন্যে গাড়ি রেখে দিলে সেক্ষেত্রে ৬,৫০০ থেকে ৭,০০০ টাকা।

কোথায় থাকবেন
কম টাকায় বিশাল বহর নিয়ে থাকতে চাইলে সাজেক ক্লাব হাউস, ভাড়া মাথা পিছু ২০০ টাকা। তবে পুরো হাউস রিজার্ভ করতে চাইলে অল্প কিছু টাকা বেশি গুণে থাকা যাবে আয়েশি ঢঙে। এছাড়া রয়েছে সেনাবাহিনী পরিচালিত সাজেক রিসোর্ট ও বিজিপি পরিচালিত সাজেকের আইকন রুন্ময় কটেজ। অগ্রীম বুকিং ও মৌসুম অনুযায়ী রুম ভাড়া জানার জন্য নেটে সার্চ দিলেই যাবতীয় তথ্য পাওয়া যাবে।

কী খাবেন
যদি সাজেকে দু-তিনদিন থাকার ইচ্ছে থাকে তাহলে খাগড়াছড়ি দিঘীনালা হতে বাজার সদাই করে নেয়া ভাল এছাড়া  বেশ কিছু রেষ্টুরেন্টও রয়েছে।

টিপস
অতিরঞ্চিত কিছু করা হতে বিরত থাকুন।
দলে  কম সংখ্যক সদস্য রাখুন।
আদিবাসিদের সঙ্গে যথা সম্ভব মার্জিত আচরণ করুন।
প্রকৃতি ও পরিবেশের ক্ষতি হয় এমন কোন বর্জ্য যেখানে সেখানে ফেলবেন না।

মূল আকর্ষণ
দীঘিনালা হতে সাজেক যাওয়ার পথের সৌন্দর্য দেখতে চাইলে মাঝে মধ্যেই গাড়ি ব্রেক করবেন। এমনও হতে পারে সাজেক পর্যটন কেন্দ্রের চাইতে সাজেক যাওয়ার পথের নয়নাভিরাম সৌন্দর্য আপনাকে বেশি মুগ্ধ করবে।