দাঁড়িয়ে পানি খেয়ে নিজের অজান্তেই শরীরের যে মারাত্মক ক্ষতি ক্ষতি করছেন আপনি !

পানির অপর নাম জীবন। তাই পানি ছাড়া বেঁচে থাকাটা প্রায় অসম্ভব।আমাদের শরীরে প্রায় তিন ভাগের দুই ভাগই পানি। সুস্থভাবে বেঁচে থাকতে তাই পানি পানের বিকল্প নেই। কিন্তু কতটুকু পানি পান করব সারা দিনে? কখন বেশি আর কখন কম পানি পান করা উচিত? পর্যাপ্ত পানি পানের যেমন সুফল আছে, তেমনি অপর্যাপ্ত পানি পানের কারণে পড়তে হয় নানা সমস্যায়। কিন্তু আপনাদের কি জানা আছে পানি পানের সঠিক পদ্ধতি সম্পর্কে? পরিসংখ্যান বলছে, বিশ্বের প্রায় ৪৫-৫০ শতাংশ মানুষেরই এই বিষয়ে কোনও জ্ঞান নেই। ফলে পানি পান করে সবাই তৃষ্ণা তো মেটাচ্ছে কিন্তু সেই সঙ্গে শরীরেরও মারাত্মক ক্ষতি করে ফেলছে। যেমন ধরুন, কখনই দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে পানি পান করা উচিত নয়।

দাঁড়ানো অবস্থায় কখনও পানি পান করবেন না। কারণ এমনটা করলে শরীরে ভিতরে থাকা ছাকনিগুলি সংকুচিত হয়ে যায়। ফলে ঠিক মতো কাজ করতে পারে না। ফলে পানিতে উপস্থিত অস্বাস্থ্যকর উপাদানগুলি রক্তে মিশতে শুরু করবে। ফলে এক সময়ে গিয়ে শরীরে টক্সিনের মাত্রা এতটাই বেড়ে যাবে যে একাধিক অঙ্গের উপর তার খারাপ প্রভাব পরতে শুরু করে।

দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে পানি পান করলে শরীরে আরও নানাভাবে ক্ষতি হয়। চলুন আজ জেনে নিব সেই সম্পর্কে-

১। পাকস্থলীতে ক্ষত সৃষ্টি হয়ঃ দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে পানি পান করলে তা সরাসরি পাকস্থলীতে গিয়ে আঘাত করে। সেই সঙ্গে স্টমাকে উপস্থিত অ্যাসিডের কর্মক্ষমতাও কমিয়ে দেয়। ফলে বদ হজমের আশঙ্কা বৃদ্ধি পায়। সেই সঙ্গে পাকস্থলির কর্মক্ষমতা কমে যাওয়ার কারণে তলপেটে যন্ত্রণাসহ আরও নানা সব শারীরিক অসুবিধা দেখা দেয়।

২। আর্থ্রাইটিসে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা বৃদ্ধি পায়ঃ দাঁড়িয়ে পানি খাওয়ার সঙ্গে আর্থ্রাইটিসের সাথে সরাসরি যোগ রয়েছে। এক্ষেত্রে শরীরের ভিতর থাকা কিছু উপকারি রাসায়নিকের মাত্রা কমতে শুরু করে। ফলে জয়েন্টের কর্মক্ষমতা কমে যাওয়ার কারণে এই ধরনের রোগে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা বৃদ্ধি পায়। যারা ইতিমধ্যেই এই রোগে আক্রান্ত হয়েছেন তারা ভুলেও দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে পানি পান করবেন না।

৩। মানসিক চাপ বেঁড়ে যায়ঃ একাধিক গবেষণায় দেখা গেছে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে পানি পান করলে একাধিক নার্ভে প্রদাহ সৃষ্টি হয়। ফলে কোনও কারণ ছাড়াই মানসিক চাপ বা অ্যাংজাইটি বাড়তে শুরু করে। অকারনে মানসিক চাপ কিন্তু শরীরের জন্য একেবারেই ভাল নয়।

৪। কিডনি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হয়ঃ দাঁড়িয়ে পানি পান করার সময় শরীরের ভিতর থাকা একাধিক ফিল্টার ঠিক মতো কাজ করতে পারে না। ফলে পানীয় জলের মধ্যে থাকা একাধিক ক্ষতিকর উপাদান প্রথমে রক্তে গিয়ে মেশে, তারপর সেখান থেকে কিডনিতে এসে জমা হতে শুরু করে। ফলে ধীরে ধীরে কিডনির কর্মক্ষমতা কমে গিয়ে এক সময় কিডনি ড্যামেজের সম্ভাবনা দেখা দেয়। তাই আজ থেকে ভুলেও দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে পানি পান করবেন না।

৫। জি ই আর ডিঃ দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় পানি পান তা সরাসরি ইসোফেগাসে গিয়ে ধাক্কা মারে। এমনটা হতে থাকলে এক সময়ে গিয়ে ইসোফেগাস এবং পাকস্থালীর মধ্যেকার সরু নালীটি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হয়। ফলে “গ্যাস্ট্রো ইসোফেগাল রিফ্লাক্স ডিজজ” বা ডি ই আর ডি-এর মতো রোগে আক্রান্ত হবার সম্ভাবনা বৃদ্ধি পায়।

ঘন ঘন প্রস্রাবের চাপ হলে যা খাবেন

বিশেষ করে দিনে যদি ৮-৯ বার প্রসাবের প্রয়োজন হয় এবং এরজন্য র্নিঘুম রাত কাটাতে হলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেয়া উচিত।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ব্লাডার যদি প্রয়োজনের অতিরিক্ত কাজ করা শুরু করে তাহলেই ঘন ঘন প্রস্রাবের চাপ আসে। আর এরকমটা নানা কারণে হতে পারে যেমন: অ্যালকোহল সেবন, ক্যাফিন, ডায়াবেটিস, ইউরিনারি ট্রাক্ট ইনফেকশন, পেলভিক রিজিয়ানে কোনো অসুবিধা, কিছু ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রয়া থেকেও হতে পারে।

চিকিৎসকের পরামর্শ ও আধুনিক নানা চিকিৎসার মাধ্যমে এ সমস্যা দূর করা যায় ঠিকই। তবে বোল্ডস্কাইয়ের প্রতিবেদনে বিশেষজ্ঞরা কিছু ঘরোয়া চিকিৎসা দিয়েছেন যা এক্ষেত্রে দারুন কাজ করে। এ ব্যপারে বিস্তারিত নিম্নে আলোচনা করা হলো :

পালংশাক : এই শাকে রয়েছে নানা রকমের পুষ্টিকর উপাদান, যা এই ধরনের রোগ সারাতে বেশ কার্যকরী ভূমিকা রাখে। এছাড়া ডাবের পানিতে পালংশাক চুবিয়ে খেলেও একই কাজ হয়।

চেরি : চেরিতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ফাইবার, যা ব্লাডারের অস্বাভাবিকতা কমায়। এতে ঘন ঘন প্রস্রাবের সমস্যা কমায় এবং কোষ্ঠকাঠিন্য সমস্যাও নিয়ন্ত্রণ করে।

মেথি বীজ : এটি ঘন ঘন প্রস্রাব চাপার অসুবিধা কমায় এবং যে কোনো ধরনের ইউরিনারি ডিজঅর্ডার সারাতে দারুন কাজ করে।

তিল বীজ : এতে রয়েছে প্রয়োজনীয় ফাইবার, মিনারেল, অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট এবং ভিটামিন, যা ঘন ঘন প্রস্রাবের বেগ আসা কমায়।

ছোলা : ছোলায় রয়েছে প্রচুর পরিমাণে পলিফোনোলস, আয়রন এবং ক্যালসিয়াম। এগুলো ব্লাডারের কাজকে স্বাভাবিক করে এই সমস্যা কমিয়ে ফেলে।

কুমড়ার বীজ: কুমড়োর বীজে প্রচুর পরিমাণে ফ্যাটি অ্যাসিড রয়েছে। ফ্যাটি অ্যাসিড, প্রস্টেট এবং ব্লাডারকে ভালো রাখতে সাহায্য করে। তাই এমন সমস্যা হলে এটি খাওয়া শুরু করতে পারেন।

ডালিম : ডালিমের কোয়াগুলি নিয়ে একটা পেস্ট বানিয়ে ফেলুন। এটি খেলে প্রায় সব ধরনের ইউরিনারি সমস্যা কমে যাবে। এতে রয়েছে নানা ধরনের ভিটামিন এবং অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট, যা ব্লাডারের প্রদাহ হ্রাস করে। ফলে স্বাভাবিকভাবেই আর ঘন ঘন প্রস্রাবের চাপ আসবে না। এছাড়া রাতে একাধিকবার ইউরিন চাপার অসুবিধা কমাতেও এটি দারুন কাজ করে।

পাকা কলা:যাঁরা বার-বার প্রস্রাব করেন বা অধিক মাত্রায় যাঁদের প্রস্রাব হয় বা প্রসাব করার সময় জ্বালা অনুভূত হয় তাঁরা দুপুরে খাওয়ার পর কিছুদিন দুটো করে পাকা কলা খেলে উপকার পাবেন।

আঙুর : নিয়মিত আঙুর খেলেও বহুমূত্র রোগে ফল পাওয়া যায়। আঙুর মিষ্টি হওয়া বাঞ্ছনীয়।

অকালে বুড়িয়ে যাওয়া প্রতিরোধে খেতে হবে ২৫টি খাবার

অনেকেরই হয়তো বয়স বেড়ে যাওয়ার পরও হৃদয়টা তরুণ থেকে যায়। ফলে তারা তাদের শারীরিক তারুণ্যও ধরে রাখতে চান। তাদের জন্যই রইল এমন কিছু খাবারের তালিকা যেগুলো ভিটামিন ও প্রোটিন সমৃদ্ধ। এই খাবারগুলো অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এবং নানা পুষ্টি উপাদানে সমৃদ্ধ হওয়ায় ত্বকের তারুণ্য ধরে রাখে। স্থিতিস্থাপকতাও বাড়ায়। ফলে আপনার বয়স বাড়লেও বুড়িয়ে যাওয়ার অনুভূতি খুব বেশি একটা হবে না। এখানে রইল এমন ২৫টি খাবারের তালিকা যেগুলো নিয়মিত খেলে অকালে বুড়িয়ে যাওয়া ঠেকানো সম্ভব।

১. গ্রিন টি
এতে আছে শক্তিশালী ফ্ল্যাভোনয়েড। এটি হাঁটুর জন্য খুবই উপকারী। এবং তরুণাস্থির যেকোনো ক্ষয় রোধ করে। এ ছাড়া এর রয়েছে বিস্তর বুড়িয়ে যাওয়া প্রতিরোধী উপকারিতা।

২. আঙুর
আঙুরে থাকা ফাইটোনিউট্রিয়েন্টও অকালে বুড়িয়ে যাওয়া প্রতিরোধে বেশ কার্যকর। এতে আরো আছে রেজভেরাট্রোল। বিশেষত লাল আঙুরে এই উপাদানটি বেশি থাকে। যা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট হিসেবে কাজ করে।

৩. ডার্ক চকলেট
চকলেটা থাকা কোকোয়া বলিরেখা ও ডার্ক সার্কেল থেকে ত্বককে রক্ষা করে।

৪. আখরোট
চুলের স্বাস্থ্যের জন্য খুবই উপকারী আখরোটে আছে কপার। যা চুলকে আরো স্বাস্থ্যবান ও শক্তিশালী করে। এতে আরো আছে ভিটামিন ই।

৫. আনারস
ব্রোমালেইন এর মতো এনজাইমে সমৃদ্ধ আনারস ত্বকের যত্নে বেশ উপকারী। এটি ব্রণ দূর করে এবং ত্বকের তারুণ্য ধরে রাখে।

৬. টমেটো
টমেটোতে থাকা ক্যারোটিনয়েড ত্বককে ক্ষতিকর অতিবেগুনি রশ্মি থেকে রক্ষা করে এবং ত্বকের তামাটে ভাব দূর করে।

৭.অ্যাভোকাডো
ত্বককে কোমল ও নমনীয় করে অ্যাভোকাডো। এতে থাকা ওমেগা ৯ ফ্যাটি এসিড ত্বকের শুষ্কতা প্রতিরোধ করে।

৮. ওট বা জই
এতে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ফ্রি র‌্যাডিকেলস এর বিরুদ্ধে লড়াই করে। এ ছাড়া ত্বকে বলিরেখা পড়াও ঠেকায় ওট।

৯. তরমুজ
এতেও রয়েছে প্রচুর অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট যা ত্বকে বলিরেখা পড়া ঠেকায়।

১০. গাজর
এতে থাকা ফাইটোনিউট্রিয়েন্ট দেহে ফ্রি র‌্যাডিকেলস এর মাধ্যমে ক্ষয় হওয়া প্রতিরোধ করে।

১১. ব্লুবেরি
এটি ভিটামিন সি এবং ই-তে ঠাসা। বেরির মধ্যে এটিই বুড়িয়ে যাওয়া প্রতিরোধে সবচেয়ে বেশি কার্যকর।

১২. লাল বাঁধাকপি
নিয়মিত লাল বাঁধাকপি খেলে অকালে বুড়িয়ে যাওয়া প্রতিরোধ করে। এতে থাকা ভিটামিন সি ত্বকের তারুণ্য ধরে রাখে।

১৩. কিউই
এটি হাড়ের স্বাস্থ্য উন্নত করে এবং স্বাস্থ্যকর গাড় গড়ে তোলে। এ ছাড়া দেহে ফ্রি র‌্যাডিকেল নিষ্ক্রিয় করতে ভুমিকা পালন করে।

১৪. মৌরি
আঁশসমৃদ্ধ এই খাদ্যটি দেহেকে বিষমুক্ত করতে এবং হজমে সহায়ক ভুমিকা পালন করে।

১৫. লেবু এবং গরম পানি
প্রতিদিন সকালে খালি পেটে এক গ্লাস হালকা গরম পানি এবং লেবুর রস খেলে ত্বকের আর্দ্রতা বজায় থাকে। এবং ত্বকের ঔজ্জ্বল্য বাড়ে।

১৬. কিডনি বীন বা শিম
পটাশিয়াম এবং জিঙ্ক সমৃদ্ধ এই শিম হৃৎপিণ্ডের স্বাস্থ্যের জন্য বেশ উপকারী।

১৭. অলিভ অয়েল
এতে থাকা পলিফেনলস এবং ভিটামিন ই দুটোই বুড়িয়ে যাওয়া প্রতিরোধে বেশ কার্যকর।

১৮. নারকেলের পানি
একে বলা হয় বুড়িয়ে যাওয়া প্রতিরোধের সেরা পানীয়। এতে থাকা ভিটামিন এবং খনিজ পুষ্টি উপাদান ত্বককে সজীব রাখে।

১৯. স্ট্রবেরি
ভিটামিন সি-তে ঠাসা এটি। যা দেহে কোলোজেনের উৎপাদন বাড়ায়। আর এতে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট আপনার দেহ মনকে চনমনে করে তারুণ্যে অনুভূতি এনে দিবে।

২০. আপেল
ভিটামিন সি’র সমৃদ্ধ উৎস। যা ত্বকের কোষগুলোর জন্য খুবই উপকারী। প্রতিদিন একটি করে আপেল খেলে বুড়িয়ে যাওয়া ঠেকাবে এবং তারুণ্য বোধ করবেন।

২১. শ্বেতবীজ বা শণবীজ
এতে থাকা লিগনাস কোলোস্টেরল এর মাত্রা কমিয়ে রাখতে বেশ সহায়ক।

২২. দারুচিনি
এটি কোলোজেনের উৎপাদন বাড়ায় যা আবার ত্বকের স্থিতিস্থাপকতা বাড়ায়।

২৩. আদা
জিনজারোল সমৃদ্ধ আদার প্রদাহরোধী কার্যকারিতা বিশাল।

২৪. ব্রোকোলি
এটি ডায়াবেটিস ও স্থূলতায় আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি কমায়। কারণ এটি দেহে মাইটোকন্ড্রিয়াল ম্যালফাঙ্কশন প্রতিরোধ করে।

২৫. মাছ
ওমেগা-৩ ফ্যাটি এসিড সমৃদ্ধ মাছ হার্টের স্বাস্থ্যের জন্য বেশ উপকারী।
সূত্র : এনডিটিভি

অকালে বুড়িয়ে যেতে না চাইলে এই খাদ্যগুলো বর্জন করুন

আমাদের প্রায় সকলেই নিজের আসল বয়স লুকিয়ে দেখতে আরো তরুণ হতে চাই। এ জন্য নিজেদের চেহারা-সুরতের দেখভাল করা থেকে শুরু করে চুল ও ত্বকের যত্নও নিয়ে থাকি আমরা। এ ক্ষেত্রে আসলে আপনি প্রতিদিন কী খাচ্ছেন সেটাই বড় কথা। জেনটিক্স বা বংশগতি, ধূমপান, রোদের তাপ, পরিবেশ এবং নানা কারণে আপনি অকালে বুড়িয়ে যেতে পারেন।

আপনি প্রতিদিন যেসব খাবার খান সেসব আপনাকে দেখতে পাঁচ বছর বেশি তরুণও করে তুলতে পারে আবার পাঁচ বছর বেশি বুড়িয়েও দিতে পারে। এমন কিছু খাদ্য রয়েছে যেগুলো আপনার বুড়িয়ে যাওয়ার গতিকে দ্রুততর করতে পারে। এসব খাবার আপনার চেহারায় বলিরেখা পড়া, ত্বকের শুকিয়ে যাওয়া দ্রুততর করতে পারে এবং এমনকি ব্যথাও তৈরি করতে পারে।

এখানে এমন কিছু খাবারের তালিকা দেওয়া হলো যেগুলো আপনার বুড়িয়ে যাওয়ার গতিকে দ্রুততর করবে।

১. এনার্জি ড্রিঙ্কস
এনার্জি ড্রিঙ্কে উচ্চমাত্রায় সুগার থাকে। আর এতে থাকা এসিড দাঁতের ক্ষয় করে দ্রুত এবং দাগও ফেলে দেয়। এতে থাকা সোডিয়াম উপাদান দেহে পানি শূন্যতাও তৈরি করতে পারে।

আর এই পানিশূন্যতা ত্বককে দ্রুত বুড়িয়ে দেওয়ার একটি বড় কারণ।
২. সেঁকা পণ্য
বেকারিতে তৈরি খাদ্যপণ্য সব সময়ই দূরত্ব বজায় রাখতে হবে। সেঁকা পণ্যে থাকে উচ্চমাত্রার অ্যাডেড সুগার এবং ফ্যাট। যা খেলে ওজন বেড়ে যাওয়া এবং দাঁতের স্বাস্থ্য নষ্ট হয়ে যাওয়ার মতো সমস্যা তৈরি হতে পারে। এতে থাকা সুগার অস্বাস্থ্যকর জীবাণুদের উৎসাহ যোগায় এবং প্রদাহ সৃষ্টি করে। যা বুড়িয়ে যাওয়ার গতি দ্রুততর করতে পারে।

৩. চিনি
চিনি পুরো দেহের জন্যই ক্ষতিকর। এটি প্রদাহ তৈরি করে যা পরিষ্কার এবং সুন্দর ত্বক তৈরিতে বাধা সৃষ্টি করে। এ ছাড়া চিনি ত্বককে কোমল ও নমনীয় রাখার জন্য দায়ী কোলাজেন ও ইলাস্টিন ধ্বংস করে। যেসব খাবার আপনাকে দ্রুত বুড়িয়ে দেবে সেসব খাবারের মধ্যে এটি শীর্ষস্থানীয়।

৪. উচ্চ গ্লিসেমিক ইনডেক্সযুক্ত কার্বোহাইড্রেটস
ওটস, পাস্তা এবং শস্যদানাজাতীয় খাদ্য ত্বকের বুড়িয়ে যাওয়ার গতি দ্রুততর করে। এছাড়া ব্রণ এবং রক্তের শিরা-উপশিরায় স্ফীদি ঘটিয়েও এটি ত্বকের বারোটা বাজাতে পারে। সার্বিকভাবে আপনার বুড়িয়ে যাওয়ার গতিও বাড়াতে এসব খাবার।

৫. অ্যালকোহল
অতিরিক্ত মদপানের ফলে দেহে ফ্রি র‌্যাডিকেল সৃষ্টি হয়। যা ত্বকের বুড়িয়ে যাওয়ার গতি দ্রুততর করে।

৬. উচ্চ লবণযুক্ত খাদ্য
উচ্চ-সোডিয়ামযুক্ত খাবার দেহে পানি জমাতে এবং স্ফীতি ঘটাতে পারে। দেহে পানি বেড়ে গেলে ত্বক ফোলা এবং ক্লান্তির ছাপ পড়তে পারে। আবার লবণাক্ত খাবার দেহের আর্দ্রতা কমিয়ে বুড়িয়ে যাওয়ার গতি দ্রুততর করতে পারে। এই ধরনের খাবার আপনাকে দেখতে বুড়ো করে তুলতে পারে।

৭. প্রক্রিয়াজাতকৃত খাবার
উচ্চ প্রক্রিয়াজাত খাবার আমাদের স্বাস্থ্য ধ্বংস করতে পারে। এসব খাবারে ভিটামিন, খনিজ পুষ্টি এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের ঘাটতি থাকে প্রচুর। ফলে বুড়িয়ে যাওয়ার গতি সহজেই দ্রুততর করে।

৮. কফি
সকালে ঘুম থেকে উঠেই কফি পান করলে বুড়িয়ে যাওয়ার গতি বেড়ে যাবে। সুতরাং প্রতিদিন এক বা দুই কাপের বেশি কফি খাবেন না। আর পানি খাবেন বেশি বেশি।

কোন প্রকার ব্যায়াম কিংবা ডায়েট বাদে দেহের মেদ ঝরাতে প্রতিদিন ঘুমাতে যাবার আগে এই মিশ্রনটি খান

খাওয়া কমিয়েছেন, রোজ ব্যায়ামও করছেন। তবু ভুঁড়ি কমাতে পারছেন না? তলপেটে চেপে বসা থলথলে চর্বির বোঝা কী করে কমাবেন, তা নিয়ে ভেবে অস্থির? চিন্তা নেই। আমরা দিলাম সহজ টিপস। নিয়মিত মেনে চললেই কাজ হবে ম্যাজিকের মতো।

আমাদের প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় যে পরিমাণ রাসায়নিক থাকে, তা আমাদের শরীর খারাপ করার পক্ষে যথেষ্ট। পাশাপাশি রয়েছে বর্তমানের সেডেন্টারি লাইফস্টাইল। দুইয়ে মিলে কমে যায় শরীরের মেটাবলিজম রেট। ফলস্বরূপ দেখা দেয় শরীরের অবাঞ্ছিত মেদ। বাড়ে টক্সিন সঞ্চয়।

এ সবের থেকে মুক্তি দিতে পারে শুধুমাত্র একটা পানীয়। রোজ রাতে শোওয়ার আগে এই পানীয় নিয়ম করে খেলে মেদ কমবেই কমবে। নিয়ন্ত্রণে থাকবে হাইপারটেনশন, ডায়াবেটিস, ভালো থাকবে হৃদযন্ত্রও।

উপাদানঃ দারুচিনি 1 টেবিল চামচ, আপেল সিডার ভিনেগার এক টেবিল চামচ, লেবুর রস এবং পানি…।।

 

জেনে রাখুন মাইক্রোওয়েভ ওভেন ব্যবহারের ৭টি স্বাস্থ্য ঝুঁকি

মাইক্রোওয়েভ ওভেনের সাথে আমরা পরিচিত হলেও মাইক্রোওয়েভ কী তা আমরা অনেকেই জানি না।মাইক্রোওয়েভ হচ্ছে এক প্রকার চৌম্বক তাড়িত বিকিরণ বা রেডিয়েশন এটার বৈদ্যুতিক ও চৌম্বকীয় তরঙ্গ মাইক্রোওয়েভ ওভেনের ভেতরে চলাচল করে।

মাইক্রোওয়েভ ওভেন আমাদের আধুনিক জীবনের সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। এটি ছাড়া আমরা রান্নার অনেক কিছুই তৈরি করতে পারিনা। খাবার গরম করা থেকে শুরু করে রান্না করা, কেক বানানো পর্যন্ত এটা আমাদের প্রতিদিনের প্রয়োজনীয় একটি জিনিস হয়ে উঠেছে। কিন্তু তারপরও আমরা মাইক্রোওয়েভ ওভেনের স্বাস্থ্য ঝুঁকি এড়াতে পারিনা। অনেকেরই হয়তো জানা নেই এর ব্যবহারে অনেক স্বাস্থ্য ঝুঁকি রয়েছে। এটা খাবার পুষ্টিগুনকে নষ্ট করে দেয় এবং এর উচ্চ তাপমাত্রা খাবারকে ক্যান্সার তৈরি করার বস্তুতে পরিনত করে।

তাই এখানে মাইক্রোওয়েভ ওভেনে রান্না করার কিছু ক্ষতিকর দিক তুলে ধরছি-

খাদ্যের ভিটামিন নষ্ট করে-

যেসব খাবারে ভিটামিন বি১২ আছে যেমন মাছ,কলিজা ইত্যাদি যখন মাইক্রোওয়েভ অভেনে রান্না করা হয় তখন তা নষ্ট করে ফেলে।এছাড়া খাদ্যের ভিটামিন সি ও উচ্চ তাপে নষ্ট হয়ে যায়। মাইক্রোওয়েভ ওভেনের উচ্চতাপে ভিটামিন নষ্ট হয়ে ভিটামিন শূন্য একটি খাবার আমাদের হাতে আসে। এটা মাইক্রোওয়েভ ওভেনের একটি বেশ বড় খারাপ দিক।

বুকের দুধের পুষ্টিমূল্য নষ্ট করে-

যখন বুকের দুধ মাইক্রোওয়েভ ওভেনে গরম করা হয় তখন এটি সমস্ত পুষ্টিমূল্য হারায় এবং এতে থাকা ব্যাকটেরিয়া প্রতিরোধক বা এন্টিবডিগুলো মরে যায়।

খাদ্যের সামগ্রিক পুষ্টি বিনাশ-

মাইক্রোওয়েভ ওভেনের উচ্চ তাপ বিকিরনের ফলে খাদ্যের সব ধরনের পুষ্টিগুণ নষ্ট হয়ে যায়। এটা খাবারের প্রোটিন, ভিটামিন ও খনিজ পদার্থ নষ্ট করে দেয়।

খাদ্যে ক্যান্সার সৃষ্টিকারক উপাদান তৈরি করে-

যখন মাইক্রোওয়েভ ওভেনে প্লাস্টিকের বাটিতে খাবার গরম ও রান্না করা হয় তখন সেই প্লাস্টিক বাটি থেকে বিষাক্ত ক্যান্সার সৃষ্টিকারক উপাদান ছড়িয়ে খাবারে প্রবেশ করে।

রক্তের উপাদানের মাত্রায় পরিবর্তন-

মাইক্রোওয়েভ ওভেনের উচ্চ তাপে গরম করা দুধ ও সবজি রক্তের লোহিত কণিকার(RBC)মাত্রা কমায় এবং শ্বেত কণিকার(WBC) মাত্রা বাড়ায়। এছাড়া কোলেস্টেরলের মাত্রাও বৃদ্ধি করে।

হৃদস্পন্দনের পরিবর্তন- মাইক্রোওয়েভ ওভেন থেকে রেডিয়েশন নির্গত হয়। যাদের অনিয়মিত হৃদস্পদন ও বুকের ব্যাথা রয়েছে তাদের মাইক্রোওয়েভ ওভেনে তৈরি খাবার খাওয়া উচিত নয়।

রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমায়-

মাইক্রোওয়েভ অভেনে তৈরি করা পুষ্টিবিহীন ও এন্টিঅক্সিডেন্ট বিহীন খাবার নিয়মিত ভাবে খাওয়ার ফলে তা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার উপর প্রভাব ফেলে।

তাই মাইক্রোওয়েভ অভেন ব্যবহার না করাই উত্তম তবে যদি ব্যবহার করতেই হয় তবে কম তাপমাত্রা ব্যবহার করা উচিত। কোন ধরনের যান্ত্রিক ত্রুটিযুক্ত ও ব্যবহৃত ওভেন ব্যবহার করা কোনোভাবেই উচিত নয়। –

প্রতিদিন কিশমিশ খাওয়ার অভ্যাস সমাধান করবে ৮ টি শারীরিক সমস্যা

কিশমিশ আমরা সাধারণত রান্নার কাজেই বেশি ব্যবহার করে থাকি। এমনিতে খাওয়া হয় অনেক কম। অনেকের ধারণা শুধু কিশমিশ খেলে দাঁতের ক্ষতি হয় অনেক। কিন্তু এটি ভুল ধারণা। কিশমিশ খাওয়া আমাদের স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত জরুরী। নানা ধরণের শারীরিক সমস্যা থেকে মুক্তি দিতে পারে প্রতিদিন কিশমিশ খাওয়ার অভ্যাস। তবে ডায়বেটিস রোগীদের ক্ষেত্রে কিশমিশ থেকে দূরে থাকাই ভালো।

১) মস্তিষ্কের কর্মক্ষমতা বাড়ায়
কিশমিশে রয়েছে বোরন যা মস্তিষ্কের কর্মক্ষমতা বৃদ্ধিতে সহায়তা করে। বোরন মনোযোগ বৃদ্ধিতে বিশেষ ভাবে কার্যকরী একটি উপাদান। মাত্র ১০০ গ্রাম কিশমিশ থেকে প্রায় ২.২ মিলিগ্রাম বোরন পাওয়া সম্ভব।

২) উচ্চ রক্ত চাপের সমস্যা নিয়ন্ত্রণে রাখে
কিশমিশের পটাশিয়াম উচ্চ রক্তচাপের সমস্যা নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে এবং অতিরিক্ত সোডিয়াম রক্ত থেকে দূর করে উচ্চ রক্তচাপের সমস্যা প্রতিরোধ করে।

৩) কিশমিশ কলেস্টোরলের সমস্যা কমায়
কিশমিশে খারাপ কলেস্টোরল রয়েছে ০%। এছাড়া কিশমিশের স্যলুবল ফাইবার খারাপ কলেস্টোরল দূর করে কলেস্টোরলের সমস্যা প্রতিরোধে সহায়তা করে। ১ কাপ কিশমিশ থেকে প্রায় ৪ গ্রাম পরিমাণে স্যলুবল ফাইবার পাওয়া যায়।

৪) চোখের সুরক্ষা করে
প্রতিদিন কিশমিশ খাওয়ার অভ্যাস বার্ধক্যজনিত চোখের সমস্যা সমাধান করে। কিশমিশের অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এবং পলিফেলন ম্যাকুলার ডিগ্রেডেশন প্রতিরোধ করে চোখের সুরক্ষায় কাজ করে।

৫) অ্যাসিডিটির সমস্যা সমাধান করে
কিশমিশের ম্যাগনেসিয়াম ও পটাশিয়াম আমাদের পাকস্থলীর অতিরিক্ত অ্যাসিড যা অ্যাসিডিটির সমস্যা তৈরি করে তা দূর করতে সহায়তা করে।

৬) কলোরেক্টাল ক্যান্সার প্রতিরোধ করে
ফাইবার সমৃদ্ধ খাবার কলোরেক্টাল ক্যান্সার প্রতিরোধে সবচাইতে বেশি কার্যকরী। মাত্র ১ টেবিল চামচ কিশমিশ আপনাকে প্রায় ১ গ্রাম পরিমাণ ফাইবার দিতে পারে। এছাড়াও কিশমিশের টারটারিক অ্যাসিড হজম সমস্যা দূর করে পরিপাকতন্ত্রের সুরক্ষা করে।

৭) রক্তস্বল্পতার সমস্যা দূর করে
আমরা সকলেই জানি দেহে আয়রনের অভাবের কারণে রক্তস্বল্পতার সমস্যা শুরু হয়। কিশমিশে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে আয়রন। ১ কাপ কিশমিশে রয়েছে প্রায় ৬ মিলিগ্রাম আয়রন যা আমাদের দেহের প্রায় ১৭% আয়রনের ঘাটতি পূরণ করতে সক্ষম।

৮) দাঁত ও মাড়ির সুরক্ষা করে
অনেকে ভাবতে পারেন কিশমিশে চিনি রয়েছে যা দাঁতের জন্য ক্ষতিকর। কিন্তু চিনির পাশাপাশি কিশমিশে রয়েছে ওলিনোলিক অ্যাসিড যা মুখের ভেতরে ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া জন্মাতে বাঁধা দেয় এবং ক্যাভিটি প্রতিরোধে কাজ করে।

সকালে খালি পেটে পানি খাওয়ার উপকারীতা কি?

জল চিকিৎসা নামে একটি চিকিৎসা পদ্ধতি জাপনী মেডিকেল সোটাইটি খুঁজে বের করেছে যা শতভাগ সুস্থতা প্রদানে সক্ষম বলে দাবি করেন তারা।

সকালে ঘুম থেকে উঠে খালি পেটে চার গ্লাস পানি পান করা স্বাস্থ্যের জন্য ভালো।

তাহলে পানি পান করা কি আসলেই স্বাস্থ্যের জন্য ভালো? আর যদি ভাল হয়, তাহলে কেন ভাল? কীভাবে উপকার পাওয়া যায় সকালে পানি পানে? আর কি পরিমাণই বা পানি পান করতে হবে?

চিকিৎসকদের মতে, সকালে ঘুম থেকে উঠে খালি পেটে পানি পান করা স্বাস্থ্যের জন্য ভাল। ভারতে প্রাচীন যোগগুরু বা ঋষিরা তাদের সাধনায় তারা খালি পেটে পানি পানকে একটি গুরুত্বপূর্ণ অনুষঙ্গ হিসেবে স্থান দিয়ে আসছেন। জাপানেও চিকিৎসা পদ্ধতি খালি পেটে পানি পান করা। একটু নিয়ম মেনে পানি পান করলে শরীরের জন্য আরও ভালো হবে।

প্রথম দিকে এটা অনেক বেশি মনে হলেও কিছুদিন এভাবে পানি পান করলে বিষয়টি সহজেই আয়ত্ত হয়ে যায় এবং উপকারও টের পাওয়া যায়। পানি খাওয়ার অল্প কিছুক্ষণ আর অন্য কিছু মুখে না দেওয়াই ভালো। এ উপায়ের কোনও পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নেই এবং এটি পরিপাক ক্রিয়ার জন্য খুবই উপকারী। গবেষকেরা বলেছেন, সকালে খালি পেটে পানি কেবল পাকস্থলী পরিষ্কারই নয়, শরীরের বিভিন্ন রোগের ঝুঁকি থেকেও বাঁচাতে সাহায্য করে।

# খালি পেটে পানি পানের সুফল
প্রথমত, এই অভ্যাস মলাশয়কে ঠিকঠাক ও সচল রাখতে সাহায্য করে। পরিপাক ক্রিয়া থেকে সঠিকভাবে নানা পুষ্টি উপাদান গ্রহণে শরীরকে সাহায্য করে। ভাল হজমশক্তি আপনা থেকেই অনেক স্বাস্থ্য সমস্যা সমাধানে আসে।

দ্বিতীয়ত, পর্যাপ্ত পানি ত্বক উজ্জ্বল ও সুন্দর রাখে। রক্ত থেকে টক্সিন ও বিভিন্ন বিষাক্ত উপাদান দূর করতে পানি সাহায্য করে। এ ছাড়াও নতুন রক্তকোষ এবং মাসল সেল জন্মানোর প্রক্রিয়াতেও সাহায্য করে পানি । ওজন কমিয়ে রাখতেও পর্যপ্ত পরিমাণে পানি পান খুবই উপকারী ।

# কি পদ্ধতিতে পানি পান করবেন
১. ঘুম থেকে উঠেই ১৬০ মিলি লিটারের গ্লাসের ৪ গ্লাস পানি পান করবেন।

২. পানি পানের ৪৫ মিনিটের মধ্যে কোনও খাবার খাবেন না।

৩. ৪৫ মিনিট পর নাস্তা করবেন এবং পানি পান করবেন।

৪. নাস্তা করার ১৫ মিনিট পর, দুপুরে এবং রাতের খাবারের ২ ঘন্টার ভিতরে কোনও খাবার বা পানি পান করবেননা।

৫. যারা বয়ষ্ক বা অসুস্থ এবং ৪ গ্লাস পানি পান করতে অক্ষম প্রথম দিকে অল্প অল্প করে পানি পানের অভ্যাস করবেন। এরপর ধীরে ধীরে পরিমাণ বাড়াতে চেষ্টা করবেন।

৬. উপরের চিকিৎসা পদ্ধতিটি উল্লেখিত রোগ বা অসুখসমূহের নিরাময় করবে এবং যাদের এসব নেই তারাও সুস্থ জীবনযাপন করতে পারবেন।

# রোগ বা অসুখ ভেদে এবং কতদিন পানি পান করবেন

১. উচ্চ রক্তচাপ (৩০ দিন)
২. বুক জ্বালাপোড়া (১০ দিন)
৩. ডায়াবেটিস (৩০ দিন)
৪. কোষ্ঠকাঠিন্য (১০ দিন)
৫. ক্যান্সার (১৮০ দিন)
৬. যক্ষা (৯০ দিন)
৭. বাত ব্যথার রোগিরা উপরে চিকিৎসাটি প্রথম সপ্তাহে ৩ দিন, এবং দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকে প্রতিদিন চালিয়ে যাবেন।

এই চিকিৎসা পদ্ধতিতে কোনও পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া নেই, তবে প্রস্রাবের পরিমাণ পূর্বের তুলনায় বেড়ে যেতে পারে। এটি দৈনন্দিন জীবনের সাথে যোগ করলে অন্যান্য রোগ থেকেও সুস্থ থাকা যাবে। পানি পান করুন, সুস্থ ও কর্মঠ থাকুন।

নিয়মিত পানি পান প্রাত্যহিক জীবনযাপনের অংশ করে নিন,। এতে আগের থেকে নিজের শরীরকে লাগবে অনেক ফুরফুরে। চীনারা খাবারের সঙ্গে কিন্তু ঠাণ্ডা পানির বদলে গরম চা পান করে। খাওয়ার পরপরই ঠাণ্ডা পানি তৈলাক্ত খাদ্যকে কঠিন করে তোলে। পরিপাক ক্রিয়াকেও করে ধীরগতি করে তোলে।

খাওয়ার পর তাই স্যুপ বা হালকা গরম পানি পান করা অপেক্ষাকৃত নিরাপদ। তাই সুস্থ থাকতে নিয়মিত খালি পেটে পানি পানের চর্চা চালিয়ে যেতে থাকুন। আর ফলাফল নিজেই অনুভব করতে পারবেন।

১ টি মাত্র সবজি দূর করবে ক্যান্সার, ডায়বেটিস ও অন্যান্য অনেক শারীরিক সমস্যা!

বিটার মেলন যার বাংলা নাম করল্লা এমন একটি সবজি যা দূর করতে পারে কান্সা, ডায়বেটিস এবং অন্যান্য অনেক মারাত্মক সব শারীরিক সমস্যা। যদিও এর তেতো স্বাদের কারণে কারো মুখে রোচে না, কিন্তু শুধুমাত্র স্বাদের কথা ভেবে স্বাস্থ্যের কথা একেবারে ভুলে বসলেও চলে না।
দ্য নেভাডা সেন্টার অফ আল্টারনেটিভ অ্যান্ড অ্যান্টি এইজিং মেডিসিনের বিশেষজ্ঞ, ডঃ ফ্রাংক শ্যালেনবার্গার এম.ডি দেখতে পান এই করল্লার রয়েছে ক্যান্সারের কোষ বৃদ্ধির প্রতিরোধ ক্ষমতা। এবং তিনি তার রোগীদের এই প্রাকৃতিক ক্যান্সার নিরাময়ের সবজিটি খাওয়ার পরামর্শ দিয়ে থাকেন ক্যান্সারের কোষ বৃদ্ধি প্রতিরোধের জন্য। তিনি তার নতুন গবেষণায় দেখতে পান করল্লার রস পানিতে মাত্র ৫% মিশ্রিত হয় যা প্রমাণ করে এটি অগ্ন্যাশয়ের ক্যান্সারের বিরুদ্ধে কাজ করে। করল্লার প্রায় ৯০%- ৯৮% পর্যন্ত ক্যান্সারের কোষ ধ্বংসের ক্ষমতা রয়েছে। দ্য ইউনিভার্সিটি অফ কলোরাডোর একটি গবেষণায় দেখা যায় করল্লা অগ্ন্যাশয়ের টিউমার প্রায় ৬৪% কমিয়ে আনতে সক্ষম।
এছাড়াও ডঃ শ্যালেনবার্গার তার গবেষণায় দেখতে পান, উচ্চ রক্ত চাপের সমস্যা, অ্যাজমা, ত্বকের ইনফেকশন, ডায়বেটিস এবং পাকস্থলীর নানা সমস্যা প্রতিরোধ করতে পারে শুধুমাত্র এই একটি সবজি ‘করল্লা’। খুব কম ক্যালরি সমৃদ্ধ করল্লায় রয়েছে পটাশিয়াম, বেটাক্যারোটিন, ম্যাগনেসিয়াম, ম্যাংগানিজ, হাই ডায়াটেরি ফাইবার, ভিটামিন বি১, বি২, বি৩ ও সি, ফোলায়েট, জিংক এবং ফসফরাস।
করল্লা দূর করে আরও ৭ টি শারীরিক সমস্যা

১) পরীক্ষিত ভাবে প্রমাণিত যে করল্লা স্ট্যামিনা ও এনার্জি লেভেল বাড়ায়।
২) গর্ভধারণের প্রাথমিক সময়ে নারীরা করল্লা নিয়মিত খেলে শিশুদের নিউট্রাল টিউব ডিফেক্ট হতে রক্ষা করে।
৩) করল্লার নানা পুষ্টি উপাদান রক্তের সুগারের মাত্রা কমায় এবং টাইপ-২ ডায়বেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখতে সহায়তা করে।
৪) করল্লার রস নিয়মিত পান করার ফলে দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি পায় এবং নানা ধরণের ইনফেকশনের হাত থেকে রেহাই পাওয়া যায়।
৫) হজমে সমস্যা এবং কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা দূর করতেও করল্লার জুড়ি নেই।
৬) করল্লার রস লিভার পরিস্কারে সহায়ক এবং লিভারকে টক্সিনমুক্ত রাখতে সহায়তা করে। এছাড়াও এটি রক্ত সঞ্চালনের মাত্রা উন্নত করে।
৭) নিয়মিত করল্লার রস পানের অভ্যাস সোরাইসিসের অবস্থা উন্নত করে এবং ফাঙ্গাস জনিত সমস্যা থেকে মুক্তি দেয়।
যেভাবে খেতে পারেন করল্লা

বাজার থেকে ভালো করল্লা কেনার পর ঠাণ্ডা পানিতে ভালো করে ধুয়ে নরম ব্রাশ দিয়ে আলতো ঘষে পরিষ্কার করে নিন।
১) যে কোনো আমিষ খাবারের সাথে বা অন্যান্য সবজির সাথে ভাজি করে খেতে পারেন।
২) করল্লার শুকনো গুঁড়ো তৈরি করে রেখে আইসড ও দুধ চায়ে মিশিয়েও পান করতে পারেন।
৩) আচার তৈরি করে খেতে পারেন।
৪) শুধু করল্লার রস দিয়ে জুস তৈরি করে পান করতে পারেন।