Kashmir and Srinogor Travel

আমরা ডিসেম্বরের ২৩, ২০১৭ তে ঢাকা থেকে কলকাতা যাই স্পাইস জেটে। কলকাতা একরাত থেকে পর, পরদিন ভোরে ইন্ডিগো এয়ারলাইন্সে দিল্লি হয়ে শ্রীনগর যাই। দিল্লিতে আমাদের ৪ ঘন্টার মত যাত্রা বিরতি ছিল। এয়ারপোর্টে বেশ ভালো সময় কেটে যায়।

শ্রীনগর আমরা বিকাল সাড়ে তিনটার দিকে পৌঁছাই, আবহাওয়া খারপ থাকায় প্রায় ৩০ মিনিট আমাদের বিমান আকাশে চক্কর মারে, সাথে বাম্পিং করে। এখানে বলে রাখা ভালো যে, শ্রীনগর ফ্লাইটে হ্যান্ড লাগেজ নেয়া যাবে না। কাজেই পাসপোর্ট এবং টাকা পয়সা সাথের ছোট পার্স বা একদম ছোট ব্যাগে ক্যারি করতে হবে। এইখানে কোন ভুল করা যাবে না, সাথের ব্যাগ যদি মাঝারি আকারের ও হয়, তাহলে ব্যাগ আপনাকে নিতে হবে লাগেজে, কেবিনের ভিতর আপনার সাথে নিতে দিবে না। শ্রীনগর এয়ারপোর্ট এ ছবি তোলা নিষিদ্ধ। ওদের চেকিং ও হয় কয়েকটা লেয়ারে।

এয়ারপোর্টে নেমে ইমিগ্রেশনের কাজ শেষ হয়ে, বাইরে বের হয়ে আসলেই আপনাকে ঘিরে ধরবে হোটেল, হাইজবোট আর কার সার্ভিস এর দালালেরা। তাদের এড়িয়ে যাওয়াই ভালো, কেননা তারা নিজের জন্য কমপক্ষে ৩০% থেকে ৫০% লাভ রেখে আপনাকে দাম অফার করবে।

এয়ারপোর্ট থেকে শহরে দুইভাবে যাবার রাস্তা আমি জানি। এক, প্রিপেইড ট্যাক্সি কাউন্টারে চলে যাবেন, কারোকে জিজ্ঞেস করলে দেখায় দিবে, যার ভাড়া ৭০০ রুপির কম নয়, পথ মাত্র ৮-১২ কিঃমিঃ। বলতে হবে ডালগেট যাবো, এম,এ, ব্রিজ এর অপর পাশে নামব।

আর কম খরচে যেতে চাইলে, এয়ারপোর্ট এর গেট থেকে বের হয়ে টুরিস্ট বাস এর খোঁজ করবেন, যা কিছুটা দূরে অবস্থান করে এবং যা ছাড়তে ১ ঘন্টা বা তার থেকে বেশি সময় নেয়।

আপনি বাসে গিয়ে বসে থাকবেন। এই খানেও কিছু দালাল আসবে, অফার করবে নানারকম। বাস ছাড়লে আপনি বলবেন, ডালগেট, এম,এ, ব্রিজ যাবেন। বাস আপনাকে কাছাকাছি কোথাও নামাবে, ভাড়া ৭০ রুপি পার পারসন। ওইখান থেকে হেঁটে বা ৪০ / ৫০ রুপি দিয়ে অটো নিয়ে আপনি চলে যেতে পারবেন এম,এ ব্রিজ এর অপর পাশে। আসলে এম,এ, ব্রিজ থেকে নেমে বামে যেতে হয়। তাহলে বামে পড়বে নয়নাভিরাম ডালগেট আর ডানে হোটেল এর সাড়ি। ডালগেটে অনেক হাইজবোটও পাবেন। হাউজবোট থেকে সাধারণত নৌকা করে আবার তীরে আসা লাগে। যা আমার কাছে সুবিধাজনক মনে হয় নাই।

রুম বা হাউজবোট আসলে দামাদামি করে নিতে হবে।
এম,এ, ব্রিজ এর কাছে হোটেল নিউ মমতা ভালো এবং নাম করা। যার ভাড়া ৭০০ থেকে ১৫০০ রুপির কাছাকাছি। আর হোটেল ইসফান আছে, যার ভাড়া ৫০০ থেকে ৭০০ রুপি পার নাইট, কিন্তু চাইবে ১,৫০০ রুপি। জানুয়ারী ২০১৮ তে এই ভাড়া ছিল, যা নাকি সুপার অফপিক সিজন ছিল।

কাশ্মীরে সব কিছুর দামাদামি করতে হয়, একমাত্র খাবার হোটেল ছাড়া। এমনি লোকজন খুব ভালো। তারা দাম বেশি চাইলেও বেসিকালী লোক ভালো, they will talk with you willingly but they mean only business. কোন বদমতলব নিয়ে নয়। ব্যতিক্রম থাকতে পারে।

আর যেকোন নতুন জায়গায়ই অন্তত ভাবসাব বোঝার আগে রাত ৯ টার পর বাইরে থাকার দরকার দেখি না।

আমরা ৫ রাত ৬ দিন ছিলাম মাত্র। হোটেল ইসফান থেকে আমাদের প্যাকেজ দেয় দুই জনের জন্য ১৪,০০০ রুপিস। এর মাঝে ৫ রাত হোটেল ছিল। সাথে ব্রেকফাস্ট থাকলেও আমরা তা বাইরে করি, ওদের খাবার পছন্দ না হবার কারণে। প্লাস সাথে পেহেলগাম, গুলমার্গ, সোনমার্গ এবং চতুর্থ দিনে লোকাল সাইট সিইং ছিল। শিকারা রাইড নিজেদের খরচে। তারা কার প্রভাইড করে সারাদিনের জন্য এই ৫ দিনে এবং ওই কারে আমরা হাজবেন্ড ওয়াইফ আর ড্রাইভার হিসাবে শাবির ভাই ছিল। উনিও ভালো মানুষ, উনি ব্রোকেন হার্ট, আমাদের বন্ধুত্ব হয়ে যাবার পর, ওনার লাইফ স্টোরি উনি আমাদের সাথে শেয়ার করেন। কিন্তু উনিও আর সব কাশ্মীরিদের মত, আমাদের বেশি খরচ করানোর জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করে বিফল হন। তবে তা আমাদের বন্ধুত্বে তেমন কোন প্রভাব ফেলে নাই বলে আমরা মনে করি।

শুধু কাস্মীর না, দুনিয়ার যেকোন প্রান্তেই যান না কেন, আমার মতে আপনার সাথে যদি শুধুমাত্র একটা ব্যাকপ্যাক থাকে, যা নিয়ে ২/৩ কিঃমিঃ হাঁটলেও ক্লান্ত বোধ করবেন না, তাহলে আপনার ভ্রমণ হবে আরামদায়ক এবং কম খরচের। এমনকি হোটেল আলারাও ভাবেন যে, এদের সাথে লাগেজ বেশি নাই, তাই এদের ছাড়লে এরা হোটেল খুঁজতেই থাকবে, পেয়েও যাবে। আমারা যাবার আগে শাহবাগ আজিজ সুপার মার্কেটের আন্ডারগ্রাউন্ড থেকে ব্যাকপ্যাক কিনি।

কাশ্মীরের এর ব্যাপারে আর একটা কথা হল, ধরেন আপনি পেহেলগাম যাবেন, ২০০০ টাকা দিয়ে সুজুকি সুইফট সেডান নিলেন, ভালো কথা। কিন্তু পেহেলগামে যাবার পর আপনাকে যেখানে নামিয়ে দিবে, ওইখান থেকে আপনাকে ঘোড়া ভাড়া করে বিভিন্ন স্পটে যেতে হবে, আর এইখানে তারা ইচ্ছামত দাম চায়, যার কাছে থেকে যেমন পারে আর কি। এই খানে টিপস হল, আপনাকে ট্যাক্সি স্ট্যান্ডে নামাবার পর, আপনি উঁচু রাস্তা দিয়ে আবার মেইন রোডে চলে আসবেন, ঠিক যে রোড দিয়ে নিচে নেমেছেন। এইখানেও ঘোড়া পাবেন, তবে এদের থেকে কম দামে ভাড়া করতে পারবেন।

এর বাইরে, আপনি কারো কাছে জিজ্ঞেস করে ট্যাক্সি স্ট্যান্ডে চলে যেতে পারবেন, যেখানে ভাড়ার তালিকা দেয়া আছে গাড়ির মডেল সহ, যে কয় স্পটে যাবেন এবং যে মডেলের গাড়ি নিবেন, সেই মত ভাড়া আসবে এবং তা ফিক্সড। এই খানে আবার দামাদামি করা যাবে না, সব ভাড়া রিটেন অবস্থায় আছে। তবে গাড়ি নিয়ে কিছু প্লেসে যাওয়া যাবে না, যেখানে ঘোড়া যায়, যার মধ্যে মিনি সুইজারল্যান্ড ও আছে। আপনার বাজেট কম থাকলে গাড়ি নিয়ে যান। পেহেলগামে রাতেও থাকা যায় কম খরচে। আর পরেরবার আমরা পেহেলগামে ২/৩ রাত থাকব বলে আশা রাখি। আর মনে রাখবেন, পেহেলগামের কোন প্লেসেই আপনার গাইডের কোন দরকার নাই।

এই নিয়ম আসলে কাশ্মীরের উল্লেখিত বাকি জায়গাগুলিতেও কাজ করে। আপনাকে যেখানে নামাবে ড্রাইভার, সেখানে ঘোড়াআলারা আপনাকে ঘিরে ধরবে, এরা আবার অনেক সময় ড্রাইভারের সাথে মিলিত হয়ে থাকে আগে থেকে, মানে এরা ড্রাইভারকে কমিশন দিয়ে থাকে। আপনাকে যা করতে হবে, আপনি নেমে ২০০ / ৩০০ গজ সামনে এগিয়ে যান, ঘোরেন, দেখেন, চা খান। আর ও সস্তায় আপনি অফার পাবেন। তারপর দামাদামি করে নিয়ে নেন একজনকে। যা চাইবে, তার ১/৩ বা ১/৪ ভাগ দাম বলতে পারেন। তবে এই ঘোড়াআলারা খুবই গরীব।

সোনমার্গ, গুলমার্গ, পেহেলগামে ৩ দিন চলে যায়, মানে একদিনে একটা স্পট কাভার করা যায়। লোকাল সাইট সিইং এ আছে, চাশমেশাহী, পারিমাহাল, নিশাদ গার্ডেন, শালিমার গার্ডেন এবং দরগাহ শরিফ হজরতবাল যেখানে হজরত মুহম্মদ (স:) এর দাড়ি মুবারক রক্ষিত আছে। এর বাইরে টিউলিপ গার্ডেন আছে, যা মে মাসের প্রথম ১০ দিন দেখা যায় সাধারণত।

এই দরগাহতে আবার একটা বিশেষ ব্যবস্থা আছে, কাশ্মীরে বেড়াতে এসে কারও টাকা শেষ হয়ে গেলে, চাদা তুলে সাহায্য করা হয় দেশে ফিরতে। তবে তারা অনেক রকম ভেরিফিকেশন করবে আগে।

ডালগেটের লেকে শিকারা রাইড আছে, যা দামাদামি করে ২/৩ ঘন্টার জন্য ভাড়া করে ঘুরে বেড়ানো যায়। তারা নানারকম মার্কেটে নিয়ে যাবার কথা বলে, তবে আমরা যাই নাই।

গুলমার্গে ঘোড়া না নিলেও চলে, সরাসরি ক্যাবেল কার বা গন্ডোলার কাউন্টারে চলে যাবেন পায়ে হেটে।

সোনমার্গে ঘোড়া নেয়ার দরকার পরে। স্লেজ নিলেও হয়, না নিলেও হয়। আর প্রতিটা জায়গায় আপনাকে ওভারকোর্ট এবং আইস বুট ভাড়া নিতে বলবে তারা। আমরা যদিও কোথাও তা নেই নাই। তবে নেয়াটা ভালো, অন্তত শুধুমাত্র বুট, তাহলে পা পিছলানোর সম্ভাবনা কিছুটা কমে।

এব্যাপারে low Cost Tour Suggestion এর ভিডিওগুলি দেখতে পারেন যার লিংক নিচে দিয়ে দিলামঃ

https://www.youtube.com/channel/UCQZ7ynsYwr8l1SJNfU9zSyQ

কাশ্মীরে আমরা ৩ জন মানুষের সাথে পরিচিত হয়েছি, যারা আমাদের বন্ধুত্ব অফার করে। যার মাঝে একজন বিখ্যাত কাশ্মীরি শাল বিক্রি করে, শওকত ভাই, যার দোকানের ঠিকানা আমি দিয়ে দিলাম নিচে। কাশ্মীরে আমরা এর থেকে কম দামে এত ভালো মানের শাল, থ্রিপিস, লেদার জ্যাকেট আর কোথাও পাই নাই। এইখানে দামাদামি খুব সীমিত আকারে হয়ে থাকে।

দোকানের নামঃ SHOWKAT ARTS & CRAFTS. Khayam Chowk, Nowpora, Srinagar (kmr).
Ph no: 9858 3238 30, 9086 0238 30.

দ্বিতীয়জন ইমরান মালিক, উনি কারসার্ভিস দিয়ে থাকেন, যার থেকে এত এত ইনফরমেশন পেয়েছি, কম খরচে কিভাবে কাশ্মীরের আরও রিমোট এলাকাগুলিতে যাওয়া যায়, তবে ২৫/৩০ দিনের ট্যুর হতে হবে। ইনি একমাত্র ড্রাইভার যাকে পেয়েছিলাম, যিনি আমাদের ট্যুরের খরচ কমানোয় সাহায্য করেছিল অনেক। ওনার ফেসবুক আই,ডি, এবং ফোন নাম্বার দিয়ে দিলাম। যারা বাংলাদেশ থেকে যাবেন, আগে থেকে ওনাকে ফোন করে রাখলে, উনি ওনার ইনোভা নিয়ে এয়ারপোর্টে হাজির থাকবেন।

https://www.facebook.com/profile.php?id=100019538358357
ফোন নাম্বারঃ +917006273342

তৃতীয়জন হলেন, আসিফ ভাই, ওনার ছোট একটা রেস্টুরেন্ট আছে, প্লাস উনি অনেক কম খরচে হোটেল এবং হাউজবোট ভাড়া করে দিতে পারেন। ওনার ওই হোটেলে আমরা জাফরানের চা খাই, করেকবার ডিনারও করি। আসার সময় দুই ডিব্বা জাফরানের চা কিনেও আনি, যা আসলেও অসাধারণ ছিল।
ওনার নাম্বারঃ 981888 7817

এনারা হিন্দি এবং ইংরেজীতে কথা বলতে পারেন। তবে কাশ্মীরের ভাষা কাশ্মীরি, যা নাকি পশতু ভাষার কাছাকাছি।

এইসব ক্ষেত্রে চাইলে আমার রেফেরেন্স ব্যবহার করতে পারেনঃ সৈয়দ সুদীপ আহমেদ নামে চিনবে। এনাদের মাধ্যমে বুক করতে চাইলে, কমপক্ষে ৭ – ১০ দিন আগে বুক করতে হবে। এনাদের সুনাম বেশ ভালো, যার ফলে, সারা বছর এনাদের বুকিং হয়ে থাকে। এনারা সীমিত লাভে ভালো সার্ভিস দিয়ে থাকেন।

আর ঢাকা থেকে বুক করতে চাইলে, হোটেল নিউ মমতা বেশ ভালো, এদের ট্রিপ অ্যাডভাইজার রিভিউ ও বেশ ভালো।

আমরা যে হোটেলে ছিলাম, হোটেল ইসফান, এইটা বাজেট হোটেল। ইসফান এবং নিউ মমতা, মেইন ডালগেট থেকে ২০-২৫ মিনিট হাঁটার দূরত্ব, যেই কারনে ভাড়া বেশ কম থাকে। তবে পরে বুঝতে পারি, এই দামে, আরও ভালো হোটেল পাওয়া সম্ভব ছিল।

ভালো হোটেল মানে, এটাচ বাথ, বেডে ব্লাংকেট হিটার থাকবে। রুম হিটার থাকলে ভালো। বাথরুমে গিজার থাকবে। আর হ্যা, রিসিপশনটা ভালো এবং রেসপনসিভ হবে।

ফোন নাম্বার হোটেল ইসফানঃ 7051432097, এইটা হোটেল ইসফানের সেকেন্ড ম্যান শাবির ভাই এর নাম্বার। কাশ্মীরে ফোনেই সব রকমের বুকিং করা যায়, তবে এই ক্ষেত্রে কথা রাখা জরুরী, কারণ বাংলাদেশীদের সুনাম আছে অনেক এই শ্রীনগরের মানুষের কাছে।

হোটেল ইসফানের মালিকের ফেসবুক আইডিঃ

https://www.facebook.com/newgousia.guesthouse

আমার ইউটিউব চ্যানেলের লিংক দিয়ে দিলাম, তবে চ্যানেলটি রেডি হতে আরও সময় লাগবেঃ

https://www.youtube.com/sayedsudipahmed

কাশ্মীরের ছেলে মেয়ে উভয়ই খুব সুন্দর। বিশেষ করে একজন সাধারন মেয়েও আমাদের দেশের ৯০% মেয়েদের থেকে বেশি সুন্দরী বলে মনে হয়েছে আমার কাছে, তাও মেকআপ ছাড়াই মলিন কাপড়েও।

কাশ্মীরের শিশুরা চকলেট পছন্দ করে। আমরা যেখানেই গেছি, আমার ওয়াযিফ তাদের চকলেট দেয়ার চেষ্টা করেছে। তাদের মায়েদের কাছে আমরা জানতে চেয়েছি, তারা কি খেতে পছন্দ করে, তারা বলেছে, তারা সব খেতে পছন্দ করে। হয়ত এই কারণে তারা ছোট বেলা থেকেই অনেক সুন্দর।

দরগাহ শরিফ হজরতবাল এ যাবার সময় আমরা অনেক পরিমাণে পাখির খাবার নিয়ে যাই, তারপরেও সব শেষ হয়ে যায় নিমিষেই। সেখানে অনেক অনেক পায়রা আছে।

সাধারণত যেসব অঞ্চলে বেশি ঠান্ডা পরে, ওইখানের কুকুরদের গায়ে পশম অনেক ঘন হয়, যেমনটা আমরা মানালিতে দেখি, কিন্তু কাশ্মীরে এর ব্যতিক্রম। তাই তারা ঠান্ডায় বেশ কষ্টে থাকে এবং ক্ষুদার্থ থাকে সবসময় আমরা দেখেছি, খাবার দিলেই খায়।

খাবারের দাম রিজনেবেল। ওদের ১:১ এ আমাদের ২ জনের আরামে হয়ে যায় বেশিরভাগ রেস্তরায়।

কাশ্মীরের জনগণ মনে করেন, মিডিয়াতে কাশ্মীরকে যেভাবে উপস্থাপন করা হয়ে থাকে, বাস্তব অবস্থা তার থেকে অনেক ভালো। আমাদের কাছেও তেমনটাই মনে হয়েছে। দিল্লি এয়ারপোর্টে একজন সেনা সদস্য আমাদের বলেন, আপনারা কাশ্মীর কেন যাচ্ছেন, এক গুলি এই দিক দিয়ে ঢুকে (ভেজামে) ওইদিক দিয়ে বের হবে।

এই খানে ৯০% লোক মুসলমান। এনাদের অনেকের সাথে রাজনীতি নিয়ে আমাদের দীর্ঘ আলাপ হয়।

তবে হ্যা, কাশ্মীরে ১১ লাখ সেনা সদস্য মোতায়েন আছে, রিজার্ভে আরও আছে। কাজেই অবস্থা যে একদম স্বাভাবিক, তা বলা যাবে না।

শ্রীনগর এয়ারপোর্টে ফর্মে ফিলাম করতে হয়, আমরা যদি ফিরে না আসি , তাহলে আমাদের পরিবারের কার সাথে যোগাযোগ করতে হবে।

আর সমস্ত শ্রীনগর জুড়ে চোখে পরবে সেনাসদস্যদের সসস্ত্র টহল।

শ্রীনগরের জন্য আলাদা সিম, যা আমরা শ্রীনগর থেকে সংগ্রহ করি।

সবশেষে বলতে চাই, কাশ্মীর একটা ভূস্বর্গ তাতে কোন সন্দেহ নাই, একই সাথে, জায়গাটা আরও ভালো লাগার কারণ এইখানের চমৎকার মানুষজন। মানালী থেকে শ্রীনগর আসলে আমাদের অনেক বেশি ভালো লাগে, যার কারণ আসলে শ্রীনগরের রূপ এবং এখানকার মানুষজন।