টক্সিন: একটি নিরব ঘাতক

হঠাৎ করেই ওজন বেড়ে যাচ্ছে , অল্পতেই ক্লান্ত হয়ে পড়ছেন বা সারারত জেগে থাকতে হচ্ছে ঘুম না হবার কারণে অথবা কোন কারণ ছাড়াই প্রচুর ঘামছেন। সাম্প্রতিক সময়ে এ সমস্যাগুলোতে বেশিরভাগ মানুষ ভুগছেন। আর এই সমস্যা থেকে পরিত্রাণ পাবার জন্য একেক জন একেক পন্থা অবলম্বণ করছেন কিন্তু কিছুতেই যেন কোন কাজ হচ্ছে না!

কেন কাজ হচ্ছে না? একবার ও খতিয়ে দেখেছেন কি ?

এই সমস্যার পেছনে মূল কারণ হচ্ছে টক্সিন। টক্সিন শব্দটি অনেকেই শুনেছেন। কিন্তু এর ভয়াবহতা এবং এর সৃষ্টির পিছনের কারণ সম্পর্কে জানেন খুব কম সংখ্যক মানুষ ।

টক্সিন হচ্ছে এক ধরণের জৈব বিষ যা দীর্ঘ সময় নিয়ে শরীরে প্রবেশ করে অভ্যন্তরীণ বিভিন্ন অর্গানগুলোকে আক্রান্ত করে ফেলে। মানবদেহে প্রতি মুহূর্তে টক্সিন তৈরি হয় । শরীর থেকে টক্সিন বের হতে না পারলে তা আমাদের শরীরের প্রতিটি কোষকে আক্রমণ করে বসে যা পরবর্তীতে বিভিন্ন জটিল রোগের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। টক্সিন সাধারণত দূষিত পানি ,অপরিষ্কার – অপরিচ্ছন্নতা, বাসি খাবার,দূষিত বায়ু ইত্যাদির মাধ্যমে শরীরে প্রবেশ করে থাকে ।

টক্সিন কীভাবে তৈরি হয়?

আমাদের শরীরে যে বর্জ্য উৎপন্ন হয় তা মল, মুত্র, ঘাম, নিঃশ্বাস ইত্যাদির সাথে দেহ থেকে বের হয়ে যায়। যদি উৎপন্ন বর্জ্যের পরিমাণ নির্গত বর্জ্যের থেকে বেশি হয় তবে কিছু পরিমাণ এই দূষিত দেহে জমতে জমতে টক্সিনে পরিণত হয়। হজমে সমস্যা থাকলে, মলত্যাগে সমস্যা হলে, ঘাম না হলে ,পরিমিত পানি পান না করলে শরীরে টক্সিন জমতে শুরু করে বা টক্সিন উৎপন্ন হওয়া সহজ হয়ে যায়। এছাড়া কায়িক পরিশ্রমের অভাবেও শরীরে টক্সিন জমে। যারা শাক সবজি কম খান, জাংক ফুড বেশি খান এবং মদ বা সিগারেট পান করেন তাদের শরীরে টক্সিন উৎপন্ন হওয়ার মাত্রা বেশি ।মানবদেহে এমন কোন জায়গা নেই যেখানে টক্সিন জমতে পারে না। সামান্য সর্দি জ্বর থেকে শুরু করে স্ট্রোক, প্যারালাইসিস, ব্রংকাইটিস ছাড়াও বেশিরভাগ শারীরিক রোগের জন্য টক্সিন দায়ী ।

শরীরে টক্সিনের আধিক্য কীভাবে বুঝবেন?

শরীরে অত্যধিক টক্সিন জমা হলে তা শরীর নিজেই তা জানান দেয়। কিছু শারীরিক লক্ষণ রয়েছে যা দেখলে আপনি নিশ্চিত হতে পারবেন আপনার শরীরে টক্সিনের আধিক্য রয়েছে।

(১) কোষ্ঠকাঠিন্য

লারজ ইন্টেস্টাইন প্রত্যহ মলের সঙ্গে শরীরের টক্সিন বের করে দেয়। নিয়মিত মল ত্যাগ না হলে শরীরে টক্সিন জমে এবং ফলস্বরুপ কোষ্ঠকাঠিন্য হয়।

(২) ওজন বেড়ে যায়

কিছুই খাচ্ছেন না অথচ ওজন বেড়ে যাচ্ছে অথবা হঠাৎ করেই ওজনটা বেড়ে গেল এমনটা অনেকের ক্ষেত্রেই হয়ে থাকে। আবার অনেক চেষ্টা করেও ওজন কমাতে পারছেন না। এমন ক্ষেত্রে বুঝবেন শরীরে টক্সিন জমেছে। সাধারণত চিনি বেশি খেলে, রাসায়নিক খাবার, ক্যানবন্দি খাবার, জাংক ফুড বেশি খেলে এক সময় এই সমস্যার সম্মুখীন হতে হয় ।

(৩) একটুতেই ক্লান্ত

শরীরে টক্সিনের আধিক্যে একটুতে ক্লান্তি ভর করে। রোজকার সাধারণ কাজ করতেই হাপিয়ে উঠছেন, অফিস থেকে ফিরে বিছানা ছেড়ে উঠতে ইচ্ছে করছে না বা শুয়ে থাকলেই যেন ভালো লাগে। এমন হলে বুঝবেন টক্সিনের মাত্রা বেড়ে গেছে। টক্সিন শরীরের স্বাভাবিক রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমিয়ে দেয় বলেই এমনটি হয়।

(৪) চর্ম রোগ

চামড়া বা ত্বক আমাদের দেহ থেকে টক্সিন বের করে দিতে সহায়তা করে। অন্ত্র এবং লিভার যখন খাবারে থাকা টক্সিন বের করে দিতে পারে না , তখনই ত্বক সেই টক্সিন বের করার চেষ্টা করে এর ফলেই ফোঁড়া, র‍্যাশ, বিভিন্ন চর্ম রোগ হয় ।

(৫) মাথা ব্যথা

টক্সিনের অন্যতম লক্ষ্য হল মস্তিষ্কের সেন্ট্রাল নার্ভাস সিস্টেমে বাসা বেঁধে যাওয়া । এর ফলে বিভিন্ন টিস্যু খুব অনুভূতি প্রবণ হয়ে পড়ে। তখন সামান্য কারণেই এই টিস্যুতে যন্ত্রণা দেখা দেয়। এর নাম হল মাইগ্রেন ।

(৬) মুড সুইং

প্রসেসড ফুড, এডিটিভ ফুড এবং কৃত্রিম উপায়ে তৈরি খাবার থেকে এক ধরণের টক্সিন শরীরে ঢোকে যাতে জেনোইস্ট্রোজেন থাকে। এ ধরণের টক্সিন এর প্রভাবে হঠাৎ হঠাৎ করেই মেজাজের পরিবর্তন ঘটে। শুধু তাই নয় এস্পারটেস নামক ধরণের টক্সিন শরীরে প্রবেশ করলে ডিপ্রেশন হয় ।যারা এসব খাবার বেশি খান তারা ডিপ্রেশনের শিকার হন ।

(৬) নিঃশ্বাসে দুর্গন্ধ

প্রসেসড ফুড খাওয়ার ফলে শরীরে অত্যধিক মাত্রায় শর্করা প্রবেশ করে। যাতে ক্ষতিকর ব্যাক্টেরিয়া তৈরি হয় এবং বাড়তে থাকে। তা পরিপাক তন্ত্র তো বটেই সঙ্গে মুখেও বাসা বাধে। ফলে মুখের দুর্গন্ধ থেকে মুক্তি পান না। এছাড়াও অত্যধিক ঢেকুর এবং হজমের সমস্যা হয়ে থাকে।

(৭) পেশিতে ব্যথা ও কালশিটে

কোন চোট লাগেনি কিন্তু শরীরে বিভিন্ন পেশিতে ব্যথা হচ্ছে। সঙ্গে রয়েছে কালশিটে। এটা অত্যধিক টক্সিনের লক্ষণ। খাবার, ঘর পরিষ্কার করার বিভিন্ন জিনিস প্রসাধনী ইত্যাদি ক্রমাগত ব্যবহারের ফলে আমাদের শরীরে স্ট্রেস পড়তে থাকে এবং ডিফেন্স সিস্টেম দুর্বল হয়ে পড়ে। এতে পেশিতে অক্সিজেনের জোগান কমে যায় ,তার ফলেই পেশিতে ব্যথা হয়। সঙ্গে কালশিটে পড়ে যায় ।

(৮) শরীরের তাপমাত্রা বেড়ে যাওয়া

শরীরে অত্যধিক টক্সিন জমে গেলে রক্তের সংগে তা লিভারে পৌছায় ।লভার তখন সেই টক্সিন মিশ্রিত রক্ত শোধন করতে অতিরিক্ত খাটে ।এর ফলেই দেহের তাপমাত্রা বেড়ে যায় ।সঙ্গে প্রচুর ঘাম হয় ।

(৯) অনিদ্রা

শরীরে তক্সিন বেড়ে গেলে ঘুমে ব্যাঘাত ঘটে বা ঘুম আসে না। কারণ টক্সিন শরীরের টিস্যুতে জমা হয়, ঠিক মতো ব্লাড সার্কুলেশন হতে দেয় না।

(১০) যকৃতে অসুবিধা

যকৃতে টক্সিন জমা হবার ফলে যকৃতে র মুখ বুজিয়ে দেয়। এতে করে জিহ্বাতে হলুদ দাগ পড়ে থাকে। যদি এমনটা হয় তবে বুঝবেন রক্তে টক্সিন বেড়ে গেছে।

(১১) পেটে অতিরিক্ত মেদ জমা

শরিরে ক্ষতিকারক টক্সিন বেড়ে গেলে শরীর গ্লুকোজ লেবেল ব্যালেন্সড থাকে না। এর সঙ্গে কোলেস্টেরলকে সঠিক ভাবে কাজে লাগাতে পারে না । ফলে পেটে মেদ জমে যায়।

আজ এই পর্যন্তই। পরের পর্বের জন্য একটু অপেক্ষা করতে হবে। খুব শীঘ্রই টক্সিন থেকে পরিত্রাণের উপায় নিয়ে হাজির হয়ে যাব।

জেনে রাখুন রাতে রুটি খাওয়া ভালো না খারাপ

শরীরকে সুস্থ ও রোগমুক্ত রাখতে রুটির বিকল্প হয় না বললেই চলে। রুটিতে থাকা একাধিক পুষ্টিকর উপাদান হার্টের স্বাস্থ্যের উন্নতি ঘটায়। তবে কেউ ওজন কমাতে, কেউবা অভ্যাসের কারণেই রাতে রুটি খেয়ে থাকেন। কিন্তু রাতে রুটি খাওয়ার অভ্যাস কি স্বাস্থ্যকর? একদল বলছেন অবশ্যই। আরেক দলের মত একেবারে ভিন্ন। এক্ষেত্রে পুষ্টিবিজ্ঞানীদের একাধিক গবেষণায় দেখা গেছে রাতে রুটি খেলে শরীরের অন্দরে নিচের পরিবর্তনগুলি ঘটে।

এনার্জির মাত্রা বৃদ্ধি পায়
একাধিক কেস স্টাডি এবং গবেষণায় দেখা গেছে রাতে রুটি খেলে শরীরে শক্তির মাত্রা চোখে পড়ার মতো বেড়ে যায়। ফলে ক্লান্তি দূর হয়ে শরীর একেবারে চাঙা হয়ে ওঠে।

ওজন কমে সাহায্য করে
রুটিতে ক্যালরির পরিমাণ খুব কম থাকে। মাত্র ৭০। তাই রাতে রুটি খেলে ওজন বাড়ার কোনো আশঙ্কা নেই। তাই যারা ওজন কমাতে চান তারা রাতের খাবারে রুটি রাখতেই পারেন।

শরীরে জমা অতিরিক্ত ফ্যাট ঝরায়
একাধিক গবেষণা মতে, রাতে রুটি খেলে শরীরে জমে থাকা অতিরিক্ত ফ্যাট ঝরতে শুরু করে। ফলে ওজন কমে যায়। মূলত রাতে রুটি খেলে ওজন তো বাড়েই না, উল্টে কমতে শুরু করে।

হজমের উন্নতি ঘটে
রুটিতে থাকা ফাইবার শরীরে প্রবেশ করামাত্র হজম ক্ষমতা বাড়াতে শুরু করে। সেই সঙ্গে গ্যাস-অম্বল এবং বদ-হজমের মতো সমস্যাও কমিয়ে দেয়। এখানেই শেষ নয়, রাতে ভাতের চেয়ে রুটি তাড়াতাড়ি হজম হয়। ফলে বদ-হজমের আশঙ্কা কমে।

রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণ
রুটির গ্লাইসেমিক ইনডেক্স খুব কম হওয়ায় খাওয়ামাত্র রক্তে সুগারের মাত্রা বেড়ে যাওয়ার কোনো আশঙ্কা থাকে না। ফলে ডায়াবেটিকরা নিশ্চিন্তে সকাল-বিকেল রুটি খেতে পারেন।

মস্তিষ্কের ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা কমে
একাধিক গবেষণা মতে, রাতে নিয়মিত রুটি খেলে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে থাকে। ফলে হঠাৎ করে প্রেশার বেড়ে যাওয়ার কারণে হার্ট অ্যাটাক এবং স্ট্রোক হওয়ার আশঙ্কা কমে। সেই সঙ্গে রুটিতে উপস্থিত একাধিক উপকারি উপাদান ব্রেন পাওয়ার বাড়াতে বিশেষ ভূমিকা রাখে।

ত্বকের জন্য উপকারি
রুটিতে প্রচুর মাত্রায় জিঙ্ক রয়েছে। এটা ত্বকের সৌন্দর্য বৃদ্ধির পাশাপাশি বলিরেখা কমাতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। তাই রাতে রুটি খাওয়া ত্বকের জন্যও ভালো।

ক্যান্সার রোগ প্রতিরোধ
রুটিতে উপস্থিত সেলেনিয়াম ও ফাইবার একাধিক ক্যান্সার রোগের প্রকোপ কমাতে বিশেষ ভূমিকা রাখে। বিশেষত, যাদের পরিবারে এমন রোগের ইতিহাস আছে, তারা রাতে রুটি খেতেই পারেন।

দাঁড়িয়ে পানি খেয়ে নিজের অজান্তেই শরীরের যে মারাত্মক ক্ষতি ক্ষতি করছেন আপনি !

পানির অপর নাম জীবন। তাই পানি ছাড়া বেঁচে থাকাটা প্রায় অসম্ভব।আমাদের শরীরে প্রায় তিন ভাগের দুই ভাগই পানি। সুস্থভাবে বেঁচে থাকতে তাই পানি পানের বিকল্প নেই। কিন্তু কতটুকু পানি পান করব সারা দিনে? কখন বেশি আর কখন কম পানি পান করা উচিত? পর্যাপ্ত পানি পানের যেমন সুফল আছে, তেমনি অপর্যাপ্ত পানি পানের কারণে পড়তে হয় নানা সমস্যায়। কিন্তু আপনাদের কি জানা আছে পানি পানের সঠিক পদ্ধতি সম্পর্কে? পরিসংখ্যান বলছে, বিশ্বের প্রায় ৪৫-৫০ শতাংশ মানুষেরই এই বিষয়ে কোনও জ্ঞান নেই। ফলে পানি পান করে সবাই তৃষ্ণা তো মেটাচ্ছে কিন্তু সেই সঙ্গে শরীরেরও মারাত্মক ক্ষতি করে ফেলছে। যেমন ধরুন, কখনই দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে পানি পান করা উচিত নয়।

দাঁড়ানো অবস্থায় কখনও পানি পান করবেন না। কারণ এমনটা করলে শরীরে ভিতরে থাকা ছাকনিগুলি সংকুচিত হয়ে যায়। ফলে ঠিক মতো কাজ করতে পারে না। ফলে পানিতে উপস্থিত অস্বাস্থ্যকর উপাদানগুলি রক্তে মিশতে শুরু করবে। ফলে এক সময়ে গিয়ে শরীরে টক্সিনের মাত্রা এতটাই বেড়ে যাবে যে একাধিক অঙ্গের উপর তার খারাপ প্রভাব পরতে শুরু করে।

দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে পানি পান করলে শরীরে আরও নানাভাবে ক্ষতি হয়। চলুন আজ জেনে নিব সেই সম্পর্কে-

১। পাকস্থলীতে ক্ষত সৃষ্টি হয়ঃ দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে পানি পান করলে তা সরাসরি পাকস্থলীতে গিয়ে আঘাত করে। সেই সঙ্গে স্টমাকে উপস্থিত অ্যাসিডের কর্মক্ষমতাও কমিয়ে দেয়। ফলে বদ হজমের আশঙ্কা বৃদ্ধি পায়। সেই সঙ্গে পাকস্থলির কর্মক্ষমতা কমে যাওয়ার কারণে তলপেটে যন্ত্রণাসহ আরও নানা সব শারীরিক অসুবিধা দেখা দেয়।

২। আর্থ্রাইটিসে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা বৃদ্ধি পায়ঃ দাঁড়িয়ে পানি খাওয়ার সঙ্গে আর্থ্রাইটিসের সাথে সরাসরি যোগ রয়েছে। এক্ষেত্রে শরীরের ভিতর থাকা কিছু উপকারি রাসায়নিকের মাত্রা কমতে শুরু করে। ফলে জয়েন্টের কর্মক্ষমতা কমে যাওয়ার কারণে এই ধরনের রোগে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা বৃদ্ধি পায়। যারা ইতিমধ্যেই এই রোগে আক্রান্ত হয়েছেন তারা ভুলেও দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে পানি পান করবেন না।

৩। মানসিক চাপ বেঁড়ে যায়ঃ একাধিক গবেষণায় দেখা গেছে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে পানি পান করলে একাধিক নার্ভে প্রদাহ সৃষ্টি হয়। ফলে কোনও কারণ ছাড়াই মানসিক চাপ বা অ্যাংজাইটি বাড়তে শুরু করে। অকারনে মানসিক চাপ কিন্তু শরীরের জন্য একেবারেই ভাল নয়।

৪। কিডনি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হয়ঃ দাঁড়িয়ে পানি পান করার সময় শরীরের ভিতর থাকা একাধিক ফিল্টার ঠিক মতো কাজ করতে পারে না। ফলে পানীয় জলের মধ্যে থাকা একাধিক ক্ষতিকর উপাদান প্রথমে রক্তে গিয়ে মেশে, তারপর সেখান থেকে কিডনিতে এসে জমা হতে শুরু করে। ফলে ধীরে ধীরে কিডনির কর্মক্ষমতা কমে গিয়ে এক সময় কিডনি ড্যামেজের সম্ভাবনা দেখা দেয়। তাই আজ থেকে ভুলেও দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে পানি পান করবেন না।

৫। জি ই আর ডিঃ দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় পানি পান তা সরাসরি ইসোফেগাসে গিয়ে ধাক্কা মারে। এমনটা হতে থাকলে এক সময়ে গিয়ে ইসোফেগাস এবং পাকস্থালীর মধ্যেকার সরু নালীটি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হয়। ফলে “গ্যাস্ট্রো ইসোফেগাল রিফ্লাক্স ডিজজ” বা ডি ই আর ডি-এর মতো রোগে আক্রান্ত হবার সম্ভাবনা বৃদ্ধি পায়।

ঘন ঘন প্রস্রাবের চাপ হলে যা খাবেন

বিশেষ করে দিনে যদি ৮-৯ বার প্রসাবের প্রয়োজন হয় এবং এরজন্য র্নিঘুম রাত কাটাতে হলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেয়া উচিত।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ব্লাডার যদি প্রয়োজনের অতিরিক্ত কাজ করা শুরু করে তাহলেই ঘন ঘন প্রস্রাবের চাপ আসে। আর এরকমটা নানা কারণে হতে পারে যেমন: অ্যালকোহল সেবন, ক্যাফিন, ডায়াবেটিস, ইউরিনারি ট্রাক্ট ইনফেকশন, পেলভিক রিজিয়ানে কোনো অসুবিধা, কিছু ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রয়া থেকেও হতে পারে।

চিকিৎসকের পরামর্শ ও আধুনিক নানা চিকিৎসার মাধ্যমে এ সমস্যা দূর করা যায় ঠিকই। তবে বোল্ডস্কাইয়ের প্রতিবেদনে বিশেষজ্ঞরা কিছু ঘরোয়া চিকিৎসা দিয়েছেন যা এক্ষেত্রে দারুন কাজ করে। এ ব্যপারে বিস্তারিত নিম্নে আলোচনা করা হলো :

পালংশাক : এই শাকে রয়েছে নানা রকমের পুষ্টিকর উপাদান, যা এই ধরনের রোগ সারাতে বেশ কার্যকরী ভূমিকা রাখে। এছাড়া ডাবের পানিতে পালংশাক চুবিয়ে খেলেও একই কাজ হয়।

চেরি : চেরিতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ফাইবার, যা ব্লাডারের অস্বাভাবিকতা কমায়। এতে ঘন ঘন প্রস্রাবের সমস্যা কমায় এবং কোষ্ঠকাঠিন্য সমস্যাও নিয়ন্ত্রণ করে।

মেথি বীজ : এটি ঘন ঘন প্রস্রাব চাপার অসুবিধা কমায় এবং যে কোনো ধরনের ইউরিনারি ডিজঅর্ডার সারাতে দারুন কাজ করে।

তিল বীজ : এতে রয়েছে প্রয়োজনীয় ফাইবার, মিনারেল, অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট এবং ভিটামিন, যা ঘন ঘন প্রস্রাবের বেগ আসা কমায়।

ছোলা : ছোলায় রয়েছে প্রচুর পরিমাণে পলিফোনোলস, আয়রন এবং ক্যালসিয়াম। এগুলো ব্লাডারের কাজকে স্বাভাবিক করে এই সমস্যা কমিয়ে ফেলে।

কুমড়ার বীজ: কুমড়োর বীজে প্রচুর পরিমাণে ফ্যাটি অ্যাসিড রয়েছে। ফ্যাটি অ্যাসিড, প্রস্টেট এবং ব্লাডারকে ভালো রাখতে সাহায্য করে। তাই এমন সমস্যা হলে এটি খাওয়া শুরু করতে পারেন।

ডালিম : ডালিমের কোয়াগুলি নিয়ে একটা পেস্ট বানিয়ে ফেলুন। এটি খেলে প্রায় সব ধরনের ইউরিনারি সমস্যা কমে যাবে। এতে রয়েছে নানা ধরনের ভিটামিন এবং অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট, যা ব্লাডারের প্রদাহ হ্রাস করে। ফলে স্বাভাবিকভাবেই আর ঘন ঘন প্রস্রাবের চাপ আসবে না। এছাড়া রাতে একাধিকবার ইউরিন চাপার অসুবিধা কমাতেও এটি দারুন কাজ করে।

পাকা কলা:যাঁরা বার-বার প্রস্রাব করেন বা অধিক মাত্রায় যাঁদের প্রস্রাব হয় বা প্রসাব করার সময় জ্বালা অনুভূত হয় তাঁরা দুপুরে খাওয়ার পর কিছুদিন দুটো করে পাকা কলা খেলে উপকার পাবেন।

আঙুর : নিয়মিত আঙুর খেলেও বহুমূত্র রোগে ফল পাওয়া যায়। আঙুর মিষ্টি হওয়া বাঞ্ছনীয়।

অকালে বুড়িয়ে যাওয়া প্রতিরোধে খেতে হবে ২৫টি খাবার

অনেকেরই হয়তো বয়স বেড়ে যাওয়ার পরও হৃদয়টা তরুণ থেকে যায়। ফলে তারা তাদের শারীরিক তারুণ্যও ধরে রাখতে চান। তাদের জন্যই রইল এমন কিছু খাবারের তালিকা যেগুলো ভিটামিন ও প্রোটিন সমৃদ্ধ। এই খাবারগুলো অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এবং নানা পুষ্টি উপাদানে সমৃদ্ধ হওয়ায় ত্বকের তারুণ্য ধরে রাখে। স্থিতিস্থাপকতাও বাড়ায়। ফলে আপনার বয়স বাড়লেও বুড়িয়ে যাওয়ার অনুভূতি খুব বেশি একটা হবে না। এখানে রইল এমন ২৫টি খাবারের তালিকা যেগুলো নিয়মিত খেলে অকালে বুড়িয়ে যাওয়া ঠেকানো সম্ভব।

১. গ্রিন টি
এতে আছে শক্তিশালী ফ্ল্যাভোনয়েড। এটি হাঁটুর জন্য খুবই উপকারী। এবং তরুণাস্থির যেকোনো ক্ষয় রোধ করে। এ ছাড়া এর রয়েছে বিস্তর বুড়িয়ে যাওয়া প্রতিরোধী উপকারিতা।

২. আঙুর
আঙুরে থাকা ফাইটোনিউট্রিয়েন্টও অকালে বুড়িয়ে যাওয়া প্রতিরোধে বেশ কার্যকর। এতে আরো আছে রেজভেরাট্রোল। বিশেষত লাল আঙুরে এই উপাদানটি বেশি থাকে। যা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট হিসেবে কাজ করে।

৩. ডার্ক চকলেট
চকলেটা থাকা কোকোয়া বলিরেখা ও ডার্ক সার্কেল থেকে ত্বককে রক্ষা করে।

৪. আখরোট
চুলের স্বাস্থ্যের জন্য খুবই উপকারী আখরোটে আছে কপার। যা চুলকে আরো স্বাস্থ্যবান ও শক্তিশালী করে। এতে আরো আছে ভিটামিন ই।

৫. আনারস
ব্রোমালেইন এর মতো এনজাইমে সমৃদ্ধ আনারস ত্বকের যত্নে বেশ উপকারী। এটি ব্রণ দূর করে এবং ত্বকের তারুণ্য ধরে রাখে।

৬. টমেটো
টমেটোতে থাকা ক্যারোটিনয়েড ত্বককে ক্ষতিকর অতিবেগুনি রশ্মি থেকে রক্ষা করে এবং ত্বকের তামাটে ভাব দূর করে।

৭.অ্যাভোকাডো
ত্বককে কোমল ও নমনীয় করে অ্যাভোকাডো। এতে থাকা ওমেগা ৯ ফ্যাটি এসিড ত্বকের শুষ্কতা প্রতিরোধ করে।

৮. ওট বা জই
এতে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ফ্রি র‌্যাডিকেলস এর বিরুদ্ধে লড়াই করে। এ ছাড়া ত্বকে বলিরেখা পড়াও ঠেকায় ওট।

৯. তরমুজ
এতেও রয়েছে প্রচুর অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট যা ত্বকে বলিরেখা পড়া ঠেকায়।

১০. গাজর
এতে থাকা ফাইটোনিউট্রিয়েন্ট দেহে ফ্রি র‌্যাডিকেলস এর মাধ্যমে ক্ষয় হওয়া প্রতিরোধ করে।

১১. ব্লুবেরি
এটি ভিটামিন সি এবং ই-তে ঠাসা। বেরির মধ্যে এটিই বুড়িয়ে যাওয়া প্রতিরোধে সবচেয়ে বেশি কার্যকর।

১২. লাল বাঁধাকপি
নিয়মিত লাল বাঁধাকপি খেলে অকালে বুড়িয়ে যাওয়া প্রতিরোধ করে। এতে থাকা ভিটামিন সি ত্বকের তারুণ্য ধরে রাখে।

১৩. কিউই
এটি হাড়ের স্বাস্থ্য উন্নত করে এবং স্বাস্থ্যকর গাড় গড়ে তোলে। এ ছাড়া দেহে ফ্রি র‌্যাডিকেল নিষ্ক্রিয় করতে ভুমিকা পালন করে।

১৪. মৌরি
আঁশসমৃদ্ধ এই খাদ্যটি দেহেকে বিষমুক্ত করতে এবং হজমে সহায়ক ভুমিকা পালন করে।

১৫. লেবু এবং গরম পানি
প্রতিদিন সকালে খালি পেটে এক গ্লাস হালকা গরম পানি এবং লেবুর রস খেলে ত্বকের আর্দ্রতা বজায় থাকে। এবং ত্বকের ঔজ্জ্বল্য বাড়ে।

১৬. কিডনি বীন বা শিম
পটাশিয়াম এবং জিঙ্ক সমৃদ্ধ এই শিম হৃৎপিণ্ডের স্বাস্থ্যের জন্য বেশ উপকারী।

১৭. অলিভ অয়েল
এতে থাকা পলিফেনলস এবং ভিটামিন ই দুটোই বুড়িয়ে যাওয়া প্রতিরোধে বেশ কার্যকর।

১৮. নারকেলের পানি
একে বলা হয় বুড়িয়ে যাওয়া প্রতিরোধের সেরা পানীয়। এতে থাকা ভিটামিন এবং খনিজ পুষ্টি উপাদান ত্বককে সজীব রাখে।

১৯. স্ট্রবেরি
ভিটামিন সি-তে ঠাসা এটি। যা দেহে কোলোজেনের উৎপাদন বাড়ায়। আর এতে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট আপনার দেহ মনকে চনমনে করে তারুণ্যে অনুভূতি এনে দিবে।

২০. আপেল
ভিটামিন সি’র সমৃদ্ধ উৎস। যা ত্বকের কোষগুলোর জন্য খুবই উপকারী। প্রতিদিন একটি করে আপেল খেলে বুড়িয়ে যাওয়া ঠেকাবে এবং তারুণ্য বোধ করবেন।

২১. শ্বেতবীজ বা শণবীজ
এতে থাকা লিগনাস কোলোস্টেরল এর মাত্রা কমিয়ে রাখতে বেশ সহায়ক।

২২. দারুচিনি
এটি কোলোজেনের উৎপাদন বাড়ায় যা আবার ত্বকের স্থিতিস্থাপকতা বাড়ায়।

২৩. আদা
জিনজারোল সমৃদ্ধ আদার প্রদাহরোধী কার্যকারিতা বিশাল।

২৪. ব্রোকোলি
এটি ডায়াবেটিস ও স্থূলতায় আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি কমায়। কারণ এটি দেহে মাইটোকন্ড্রিয়াল ম্যালফাঙ্কশন প্রতিরোধ করে।

২৫. মাছ
ওমেগা-৩ ফ্যাটি এসিড সমৃদ্ধ মাছ হার্টের স্বাস্থ্যের জন্য বেশ উপকারী।
সূত্র : এনডিটিভি

অকালে বুড়িয়ে যেতে না চাইলে এই খাদ্যগুলো বর্জন করুন

আমাদের প্রায় সকলেই নিজের আসল বয়স লুকিয়ে দেখতে আরো তরুণ হতে চাই। এ জন্য নিজেদের চেহারা-সুরতের দেখভাল করা থেকে শুরু করে চুল ও ত্বকের যত্নও নিয়ে থাকি আমরা। এ ক্ষেত্রে আসলে আপনি প্রতিদিন কী খাচ্ছেন সেটাই বড় কথা। জেনটিক্স বা বংশগতি, ধূমপান, রোদের তাপ, পরিবেশ এবং নানা কারণে আপনি অকালে বুড়িয়ে যেতে পারেন।

আপনি প্রতিদিন যেসব খাবার খান সেসব আপনাকে দেখতে পাঁচ বছর বেশি তরুণও করে তুলতে পারে আবার পাঁচ বছর বেশি বুড়িয়েও দিতে পারে। এমন কিছু খাদ্য রয়েছে যেগুলো আপনার বুড়িয়ে যাওয়ার গতিকে দ্রুততর করতে পারে। এসব খাবার আপনার চেহারায় বলিরেখা পড়া, ত্বকের শুকিয়ে যাওয়া দ্রুততর করতে পারে এবং এমনকি ব্যথাও তৈরি করতে পারে।

এখানে এমন কিছু খাবারের তালিকা দেওয়া হলো যেগুলো আপনার বুড়িয়ে যাওয়ার গতিকে দ্রুততর করবে।

১. এনার্জি ড্রিঙ্কস
এনার্জি ড্রিঙ্কে উচ্চমাত্রায় সুগার থাকে। আর এতে থাকা এসিড দাঁতের ক্ষয় করে দ্রুত এবং দাগও ফেলে দেয়। এতে থাকা সোডিয়াম উপাদান দেহে পানি শূন্যতাও তৈরি করতে পারে।

আর এই পানিশূন্যতা ত্বককে দ্রুত বুড়িয়ে দেওয়ার একটি বড় কারণ।
২. সেঁকা পণ্য
বেকারিতে তৈরি খাদ্যপণ্য সব সময়ই দূরত্ব বজায় রাখতে হবে। সেঁকা পণ্যে থাকে উচ্চমাত্রার অ্যাডেড সুগার এবং ফ্যাট। যা খেলে ওজন বেড়ে যাওয়া এবং দাঁতের স্বাস্থ্য নষ্ট হয়ে যাওয়ার মতো সমস্যা তৈরি হতে পারে। এতে থাকা সুগার অস্বাস্থ্যকর জীবাণুদের উৎসাহ যোগায় এবং প্রদাহ সৃষ্টি করে। যা বুড়িয়ে যাওয়ার গতি দ্রুততর করতে পারে।

৩. চিনি
চিনি পুরো দেহের জন্যই ক্ষতিকর। এটি প্রদাহ তৈরি করে যা পরিষ্কার এবং সুন্দর ত্বক তৈরিতে বাধা সৃষ্টি করে। এ ছাড়া চিনি ত্বককে কোমল ও নমনীয় রাখার জন্য দায়ী কোলাজেন ও ইলাস্টিন ধ্বংস করে। যেসব খাবার আপনাকে দ্রুত বুড়িয়ে দেবে সেসব খাবারের মধ্যে এটি শীর্ষস্থানীয়।

৪. উচ্চ গ্লিসেমিক ইনডেক্সযুক্ত কার্বোহাইড্রেটস
ওটস, পাস্তা এবং শস্যদানাজাতীয় খাদ্য ত্বকের বুড়িয়ে যাওয়ার গতি দ্রুততর করে। এছাড়া ব্রণ এবং রক্তের শিরা-উপশিরায় স্ফীদি ঘটিয়েও এটি ত্বকের বারোটা বাজাতে পারে। সার্বিকভাবে আপনার বুড়িয়ে যাওয়ার গতিও বাড়াতে এসব খাবার।

৫. অ্যালকোহল
অতিরিক্ত মদপানের ফলে দেহে ফ্রি র‌্যাডিকেল সৃষ্টি হয়। যা ত্বকের বুড়িয়ে যাওয়ার গতি দ্রুততর করে।

৬. উচ্চ লবণযুক্ত খাদ্য
উচ্চ-সোডিয়ামযুক্ত খাবার দেহে পানি জমাতে এবং স্ফীতি ঘটাতে পারে। দেহে পানি বেড়ে গেলে ত্বক ফোলা এবং ক্লান্তির ছাপ পড়তে পারে। আবার লবণাক্ত খাবার দেহের আর্দ্রতা কমিয়ে বুড়িয়ে যাওয়ার গতি দ্রুততর করতে পারে। এই ধরনের খাবার আপনাকে দেখতে বুড়ো করে তুলতে পারে।

৭. প্রক্রিয়াজাতকৃত খাবার
উচ্চ প্রক্রিয়াজাত খাবার আমাদের স্বাস্থ্য ধ্বংস করতে পারে। এসব খাবারে ভিটামিন, খনিজ পুষ্টি এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের ঘাটতি থাকে প্রচুর। ফলে বুড়িয়ে যাওয়ার গতি সহজেই দ্রুততর করে।

৮. কফি
সকালে ঘুম থেকে উঠেই কফি পান করলে বুড়িয়ে যাওয়ার গতি বেড়ে যাবে। সুতরাং প্রতিদিন এক বা দুই কাপের বেশি কফি খাবেন না। আর পানি খাবেন বেশি বেশি।

জালিয়ার দ্বীপ হবে দেশের প্রথম ট্যুরিজম পার্ক

jalia-dip

পাহাড় আর নদী ঘেরা নয়নাভিরাম প্রাকৃতিক সৌন্দর্ষের আঁধার নাফ নদীর জালিয়া দ্বীপটিকে ঘিরে গড়ে উঠছে দেশের প্রথম বিশেষায়িত ট্যুরিজম পার্ক। ২৯১ একর ভূমির এই দ্বীপকে আন্তর্জাতিকমানের ট্যুরিজম পার্কে রুপ দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

দেশে একশ’ বিশেষায়িত অর্থনৈতিক অঞ্চল (এসইজেড) গড়ে তোলার মহাপরিকল্পনার অংশ হিসেবে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা)এই পর্যটন কেন্দ্র গড়ে তুলছে। ২০১৮ সালে দ্বীপটিতে পর্যটকদের যাওয়ার উপযোগী করতে চায় বেজা।

ট্যুরিজম পার্কে পাঁচ তারকা হোটেল, ঝুলন্ত সেতু, ৯ দশমিক ৫ কিলোমিটার ক্যাবল কার নেটওয়ার্ক, রিসোর্ট, ভাসমান জেটি, শিশু পার্ক, ইকো-কটেজ, ওসানেরিয়াম, ওয়াটার রেস্টুরেন্ট,ভাসমান রেস্টুরেন্টসহ বিনোদনের বিভিন্ন আয়োজন রাখার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। এ বিষয়ে বেজার নির্বাহী চেয়ারম্যান পবন চৌধুরী বাসসকে বলেন,নাফ ট্যুরিজম পার্কটি হবে বাংলাদেশের প্রথম ট্যুরিজম পার্ক,যা বিনোদন জগতে নতুন দিগন্ত উম্মোচন করবে এবং এখানে থাকবে সুস্থ বিনোদনের সব ব্যবস্থা।

ট্যুরিজম পার্কটি সফলভাবে বাস্তবায়ন হলে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ মিলে প্রায় ২০ হাজার মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে বলে তিনি জানান। ২০১৮ সালের মধ্যে একটি ঝুলন্ত সেতু নির্মাণ এবং চলতি বছরেই ভূমি উন্নয়ন কাজ শেষ হবে বলে আশা প্রকাশ করেন পবন চৌধুরী।

বেজার নির্বাহী চেয়ারম্যান বলেন, নাফ ট্যুরিজম পার্ক দেশি-বিদেশি পর্যটকদের ভ্রমণকে পূর্ণাঙ্গ রূপ দেবে। থাইল্যন্ড, মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুরের পর্যটন স্পটে যে ধরনের বিনোদন সুবিধা রয়েছে, তার তুলনায় আরো উন্নতমানের অবকাঠামো সুবিধা এখানে রাখা হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন। নাফ ট্যুরিজম পার্ক উন্নয়নে আড়াই হাজার কোটি টাকার ওপরে বিনিয়োগ করার পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানান তিনি।

উল্লেখ্য, নাফ ট্যুরিজম পার্কের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের জন্য গত বছর জার্মানিভিত্তিক ইউনিকনসাল্ট নামের একটি কোম্পানিকে দিয়ে সমীক্ষা করিয়েছিল বেজা। ওই সমীক্ষায় বলা হয়েছে,২০১৯-২০ অর্থবছরে কক্সবাজারে কমপক্ষে ২৫ লাখ পর্যটক ভ্রমণে যাবে। এর মধ্যে কমপক্ষে ৩০ শতাংশ যাবে নাফ ট্যুরিজম পার্কে। সম্প্রতি জালিয়া দ্বীপ ঘুরে দেখা গেছে সেখানে শোভা বর্ধন বাড়াতে বৃক্ষ রোপন করা হচ্ছে। বিদ্যুতায়নের কাজ শুরু হয়েছে।

এছাড়া ভূমি উন্নয়নের কাজ শুরু করতে ঠিকাদারকে কার্যাদেশ প্রদান করেছে বেজা। দ্বীপের চারদিকের বাঁধ নির্মাণের নকশা সম্পন্ন হয়েছে। শিগগিরই এই কাজের দরপত্র আহবান করা হবে।

ঢাকা থেকে জালিয়ার দ্বীপের দূরত্ব ৪৫৬ কিলোমিটার এবং চট্টগ্রাম থেকে ১৮৫ কিলোমিটার। তবে কক্সবাজার বিমানবন্দর থেকে এর দূরত্ব ৬০ কিলোমিটার। এই দ্বীপ থেকে সেন্ট মার্টিনস দ্বীপে যেতে এক ঘণ্টা সময় লাগে।

জালিয়ার দ্বীপটি নাফ নদীর মাঝখানে অবস্থিত। এর একপাশে মিয়ানমার,অপর পাশে বাংলাদেশের নেটং পাহাড়। এই দ্বীপে দীর্ঘদিন স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তিরা মাছের চাষ করতেন। তবে বেজার নির্বাহী চেয়ারম্যান পবন চৌধুরীর উদ্যোগে দ্বীপটি দখলমুক্ত করা হয়। এখন সেখানে রাস্তাঘাট ও দ্বীপে যাওয়ার জন্য একটি সেতু নির্মাণ করা হয়েছে।

কক্সবাজার শহরের কলাতলী থেকে টেকনাফের সাবরং পর্যন্ত সাগরের কোলঘেষে ৮০ কিলোমিটার মেরিন ড্রাইভ (বিশ্বমানের সড়ক) ধরে পর্যটকরা সাগরের উত্তাল ঢেউ এবং পাহাড়ের সৌন্দর্ষ উপভোগ করতে করতে নাফ ট্যুরিজম পার্কে পৌঁছাতে পারবেন।

কোন প্রকার ব্যায়াম কিংবা ডায়েট বাদে দেহের মেদ ঝরাতে প্রতিদিন ঘুমাতে যাবার আগে এই মিশ্রনটি খান

খাওয়া কমিয়েছেন, রোজ ব্যায়ামও করছেন। তবু ভুঁড়ি কমাতে পারছেন না? তলপেটে চেপে বসা থলথলে চর্বির বোঝা কী করে কমাবেন, তা নিয়ে ভেবে অস্থির? চিন্তা নেই। আমরা দিলাম সহজ টিপস। নিয়মিত মেনে চললেই কাজ হবে ম্যাজিকের মতো।

আমাদের প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় যে পরিমাণ রাসায়নিক থাকে, তা আমাদের শরীর খারাপ করার পক্ষে যথেষ্ট। পাশাপাশি রয়েছে বর্তমানের সেডেন্টারি লাইফস্টাইল। দুইয়ে মিলে কমে যায় শরীরের মেটাবলিজম রেট। ফলস্বরূপ দেখা দেয় শরীরের অবাঞ্ছিত মেদ। বাড়ে টক্সিন সঞ্চয়।

এ সবের থেকে মুক্তি দিতে পারে শুধুমাত্র একটা পানীয়। রোজ রাতে শোওয়ার আগে এই পানীয় নিয়ম করে খেলে মেদ কমবেই কমবে। নিয়ন্ত্রণে থাকবে হাইপারটেনশন, ডায়াবেটিস, ভালো থাকবে হৃদযন্ত্রও।

উপাদানঃ দারুচিনি 1 টেবিল চামচ, আপেল সিডার ভিনেগার এক টেবিল চামচ, লেবুর রস এবং পানি…।।

 

চুলের যত্নজেনে নিন কিভাবে আলু দিয়ে সাদা চুলকে কালো করবেন?

এ সমস্যার সমাধান করতে পারে খুবই সাধারণ একটি প্রাকৃতিক উপাদান, আর তা হলো আলু! কীভাবে আলুর সাহায্যে সাদা চুল কালো করে ফেলবেন, তার বিস্তারিত মেটা গার্লি ওয়েবসাইটের এই পরামর্শ একবার দেখে নিতে পারেন।

যেভাবে তৈরি করবেন

প্রথমে পাঁচটি আলুর খোসা ছাড়িয়ে নিন। এবার একটি প্যানে দুই গ্লাস পানি নিন। এখন এতে আলুর খোসা দিয়ে গরম করুন। পানি ফুটতে শুরু করলে পাঁচ মিনিট রান্না করুন। এবার চুলা থেকে নামিয়ে ঠান্ডা করুন। এর পর একটি বাটিতে এই মিশ্রণ ছেঁকে আলুর খোসা ফেলে দিন। আপনি চাইলে এর মধ্যে দুই-এক ফোঁটা রোজমেরি অথবা ল্যাভেন্ডার অয়েল দিতে পারেন।

যেভাবে ব্যবহার করবেন

প্রথমে চুল ভালো করে ধুয়ে নিন। এবার এই মিশ্রণ দিয়ে মাথায় হালকাভাবে ম্যাসাজ করুন। আধা ঘণ্টা রেখে দিন। এরপর পানি দিয়ে চুল ধুয়ে ফেলুন। দেখবেন, কয়েক দিন ব্যবহারেই আপনার সাদা চুল কালো হয়ে যাবে।