Kashmir and Srinogor Travel

আমরা ডিসেম্বরের ২৩, ২০১৭ তে ঢাকা থেকে কলকাতা যাই স্পাইস জেটে। কলকাতা একরাত থেকে পর, পরদিন ভোরে ইন্ডিগো এয়ারলাইন্সে দিল্লি হয়ে শ্রীনগর যাই। দিল্লিতে আমাদের ৪ ঘন্টার মত যাত্রা বিরতি ছিল। এয়ারপোর্টে বেশ ভালো সময় কেটে যায়।

শ্রীনগর আমরা বিকাল সাড়ে তিনটার দিকে পৌঁছাই, আবহাওয়া খারপ থাকায় প্রায় ৩০ মিনিট আমাদের বিমান আকাশে চক্কর মারে, সাথে বাম্পিং করে। এখানে বলে রাখা ভালো যে, শ্রীনগর ফ্লাইটে হ্যান্ড লাগেজ নেয়া যাবে না। কাজেই পাসপোর্ট এবং টাকা পয়সা সাথের ছোট পার্স বা একদম ছোট ব্যাগে ক্যারি করতে হবে। এইখানে কোন ভুল করা যাবে না, সাথের ব্যাগ যদি মাঝারি আকারের ও হয়, তাহলে ব্যাগ আপনাকে নিতে হবে লাগেজে, কেবিনের ভিতর আপনার সাথে নিতে দিবে না। শ্রীনগর এয়ারপোর্ট এ ছবি তোলা নিষিদ্ধ। ওদের চেকিং ও হয় কয়েকটা লেয়ারে।

এয়ারপোর্টে নেমে ইমিগ্রেশনের কাজ শেষ হয়ে, বাইরে বের হয়ে আসলেই আপনাকে ঘিরে ধরবে হোটেল, হাইজবোট আর কার সার্ভিস এর দালালেরা। তাদের এড়িয়ে যাওয়াই ভালো, কেননা তারা নিজের জন্য কমপক্ষে ৩০% থেকে ৫০% লাভ রেখে আপনাকে দাম অফার করবে।

এয়ারপোর্ট থেকে শহরে দুইভাবে যাবার রাস্তা আমি জানি। এক, প্রিপেইড ট্যাক্সি কাউন্টারে চলে যাবেন, কারোকে জিজ্ঞেস করলে দেখায় দিবে, যার ভাড়া ৭০০ রুপির কম নয়, পথ মাত্র ৮-১২ কিঃমিঃ। বলতে হবে ডালগেট যাবো, এম,এ, ব্রিজ এর অপর পাশে নামব।

আর কম খরচে যেতে চাইলে, এয়ারপোর্ট এর গেট থেকে বের হয়ে টুরিস্ট বাস এর খোঁজ করবেন, যা কিছুটা দূরে অবস্থান করে এবং যা ছাড়তে ১ ঘন্টা বা তার থেকে বেশি সময় নেয়।

আপনি বাসে গিয়ে বসে থাকবেন। এই খানেও কিছু দালাল আসবে, অফার করবে নানারকম। বাস ছাড়লে আপনি বলবেন, ডালগেট, এম,এ, ব্রিজ যাবেন। বাস আপনাকে কাছাকাছি কোথাও নামাবে, ভাড়া ৭০ রুপি পার পারসন। ওইখান থেকে হেঁটে বা ৪০ / ৫০ রুপি দিয়ে অটো নিয়ে আপনি চলে যেতে পারবেন এম,এ ব্রিজ এর অপর পাশে। আসলে এম,এ, ব্রিজ থেকে নেমে বামে যেতে হয়। তাহলে বামে পড়বে নয়নাভিরাম ডালগেট আর ডানে হোটেল এর সাড়ি। ডালগেটে অনেক হাইজবোটও পাবেন। হাউজবোট থেকে সাধারণত নৌকা করে আবার তীরে আসা লাগে। যা আমার কাছে সুবিধাজনক মনে হয় নাই।

রুম বা হাউজবোট আসলে দামাদামি করে নিতে হবে।
এম,এ, ব্রিজ এর কাছে হোটেল নিউ মমতা ভালো এবং নাম করা। যার ভাড়া ৭০০ থেকে ১৫০০ রুপির কাছাকাছি। আর হোটেল ইসফান আছে, যার ভাড়া ৫০০ থেকে ৭০০ রুপি পার নাইট, কিন্তু চাইবে ১,৫০০ রুপি। জানুয়ারী ২০১৮ তে এই ভাড়া ছিল, যা নাকি সুপার অফপিক সিজন ছিল।

কাশ্মীরে সব কিছুর দামাদামি করতে হয়, একমাত্র খাবার হোটেল ছাড়া। এমনি লোকজন খুব ভালো। তারা দাম বেশি চাইলেও বেসিকালী লোক ভালো, they will talk with you willingly but they mean only business. কোন বদমতলব নিয়ে নয়। ব্যতিক্রম থাকতে পারে।

আর যেকোন নতুন জায়গায়ই অন্তত ভাবসাব বোঝার আগে রাত ৯ টার পর বাইরে থাকার দরকার দেখি না।

আমরা ৫ রাত ৬ দিন ছিলাম মাত্র। হোটেল ইসফান থেকে আমাদের প্যাকেজ দেয় দুই জনের জন্য ১৪,০০০ রুপিস। এর মাঝে ৫ রাত হোটেল ছিল। সাথে ব্রেকফাস্ট থাকলেও আমরা তা বাইরে করি, ওদের খাবার পছন্দ না হবার কারণে। প্লাস সাথে পেহেলগাম, গুলমার্গ, সোনমার্গ এবং চতুর্থ দিনে লোকাল সাইট সিইং ছিল। শিকারা রাইড নিজেদের খরচে। তারা কার প্রভাইড করে সারাদিনের জন্য এই ৫ দিনে এবং ওই কারে আমরা হাজবেন্ড ওয়াইফ আর ড্রাইভার হিসাবে শাবির ভাই ছিল। উনিও ভালো মানুষ, উনি ব্রোকেন হার্ট, আমাদের বন্ধুত্ব হয়ে যাবার পর, ওনার লাইফ স্টোরি উনি আমাদের সাথে শেয়ার করেন। কিন্তু উনিও আর সব কাশ্মীরিদের মত, আমাদের বেশি খরচ করানোর জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করে বিফল হন। তবে তা আমাদের বন্ধুত্বে তেমন কোন প্রভাব ফেলে নাই বলে আমরা মনে করি।

শুধু কাস্মীর না, দুনিয়ার যেকোন প্রান্তেই যান না কেন, আমার মতে আপনার সাথে যদি শুধুমাত্র একটা ব্যাকপ্যাক থাকে, যা নিয়ে ২/৩ কিঃমিঃ হাঁটলেও ক্লান্ত বোধ করবেন না, তাহলে আপনার ভ্রমণ হবে আরামদায়ক এবং কম খরচের। এমনকি হোটেল আলারাও ভাবেন যে, এদের সাথে লাগেজ বেশি নাই, তাই এদের ছাড়লে এরা হোটেল খুঁজতেই থাকবে, পেয়েও যাবে। আমারা যাবার আগে শাহবাগ আজিজ সুপার মার্কেটের আন্ডারগ্রাউন্ড থেকে ব্যাকপ্যাক কিনি।

কাশ্মীরের এর ব্যাপারে আর একটা কথা হল, ধরেন আপনি পেহেলগাম যাবেন, ২০০০ টাকা দিয়ে সুজুকি সুইফট সেডান নিলেন, ভালো কথা। কিন্তু পেহেলগামে যাবার পর আপনাকে যেখানে নামিয়ে দিবে, ওইখান থেকে আপনাকে ঘোড়া ভাড়া করে বিভিন্ন স্পটে যেতে হবে, আর এইখানে তারা ইচ্ছামত দাম চায়, যার কাছে থেকে যেমন পারে আর কি। এই খানে টিপস হল, আপনাকে ট্যাক্সি স্ট্যান্ডে নামাবার পর, আপনি উঁচু রাস্তা দিয়ে আবার মেইন রোডে চলে আসবেন, ঠিক যে রোড দিয়ে নিচে নেমেছেন। এইখানেও ঘোড়া পাবেন, তবে এদের থেকে কম দামে ভাড়া করতে পারবেন।

এর বাইরে, আপনি কারো কাছে জিজ্ঞেস করে ট্যাক্সি স্ট্যান্ডে চলে যেতে পারবেন, যেখানে ভাড়ার তালিকা দেয়া আছে গাড়ির মডেল সহ, যে কয় স্পটে যাবেন এবং যে মডেলের গাড়ি নিবেন, সেই মত ভাড়া আসবে এবং তা ফিক্সড। এই খানে আবার দামাদামি করা যাবে না, সব ভাড়া রিটেন অবস্থায় আছে। তবে গাড়ি নিয়ে কিছু প্লেসে যাওয়া যাবে না, যেখানে ঘোড়া যায়, যার মধ্যে মিনি সুইজারল্যান্ড ও আছে। আপনার বাজেট কম থাকলে গাড়ি নিয়ে যান। পেহেলগামে রাতেও থাকা যায় কম খরচে। আর পরেরবার আমরা পেহেলগামে ২/৩ রাত থাকব বলে আশা রাখি। আর মনে রাখবেন, পেহেলগামের কোন প্লেসেই আপনার গাইডের কোন দরকার নাই।

এই নিয়ম আসলে কাশ্মীরের উল্লেখিত বাকি জায়গাগুলিতেও কাজ করে। আপনাকে যেখানে নামাবে ড্রাইভার, সেখানে ঘোড়াআলারা আপনাকে ঘিরে ধরবে, এরা আবার অনেক সময় ড্রাইভারের সাথে মিলিত হয়ে থাকে আগে থেকে, মানে এরা ড্রাইভারকে কমিশন দিয়ে থাকে। আপনাকে যা করতে হবে, আপনি নেমে ২০০ / ৩০০ গজ সামনে এগিয়ে যান, ঘোরেন, দেখেন, চা খান। আর ও সস্তায় আপনি অফার পাবেন। তারপর দামাদামি করে নিয়ে নেন একজনকে। যা চাইবে, তার ১/৩ বা ১/৪ ভাগ দাম বলতে পারেন। তবে এই ঘোড়াআলারা খুবই গরীব।

সোনমার্গ, গুলমার্গ, পেহেলগামে ৩ দিন চলে যায়, মানে একদিনে একটা স্পট কাভার করা যায়। লোকাল সাইট সিইং এ আছে, চাশমেশাহী, পারিমাহাল, নিশাদ গার্ডেন, শালিমার গার্ডেন এবং দরগাহ শরিফ হজরতবাল যেখানে হজরত মুহম্মদ (স:) এর দাড়ি মুবারক রক্ষিত আছে। এর বাইরে টিউলিপ গার্ডেন আছে, যা মে মাসের প্রথম ১০ দিন দেখা যায় সাধারণত।

এই দরগাহতে আবার একটা বিশেষ ব্যবস্থা আছে, কাশ্মীরে বেড়াতে এসে কারও টাকা শেষ হয়ে গেলে, চাদা তুলে সাহায্য করা হয় দেশে ফিরতে। তবে তারা অনেক রকম ভেরিফিকেশন করবে আগে।

ডালগেটের লেকে শিকারা রাইড আছে, যা দামাদামি করে ২/৩ ঘন্টার জন্য ভাড়া করে ঘুরে বেড়ানো যায়। তারা নানারকম মার্কেটে নিয়ে যাবার কথা বলে, তবে আমরা যাই নাই।

গুলমার্গে ঘোড়া না নিলেও চলে, সরাসরি ক্যাবেল কার বা গন্ডোলার কাউন্টারে চলে যাবেন পায়ে হেটে।

সোনমার্গে ঘোড়া নেয়ার দরকার পরে। স্লেজ নিলেও হয়, না নিলেও হয়। আর প্রতিটা জায়গায় আপনাকে ওভারকোর্ট এবং আইস বুট ভাড়া নিতে বলবে তারা। আমরা যদিও কোথাও তা নেই নাই। তবে নেয়াটা ভালো, অন্তত শুধুমাত্র বুট, তাহলে পা পিছলানোর সম্ভাবনা কিছুটা কমে।

এব্যাপারে low Cost Tour Suggestion এর ভিডিওগুলি দেখতে পারেন যার লিংক নিচে দিয়ে দিলামঃ

https://www.youtube.com/channel/UCQZ7ynsYwr8l1SJNfU9zSyQ

কাশ্মীরে আমরা ৩ জন মানুষের সাথে পরিচিত হয়েছি, যারা আমাদের বন্ধুত্ব অফার করে। যার মাঝে একজন বিখ্যাত কাশ্মীরি শাল বিক্রি করে, শওকত ভাই, যার দোকানের ঠিকানা আমি দিয়ে দিলাম নিচে। কাশ্মীরে আমরা এর থেকে কম দামে এত ভালো মানের শাল, থ্রিপিস, লেদার জ্যাকেট আর কোথাও পাই নাই। এইখানে দামাদামি খুব সীমিত আকারে হয়ে থাকে।

দোকানের নামঃ SHOWKAT ARTS & CRAFTS. Khayam Chowk, Nowpora, Srinagar (kmr).
Ph no: 9858 3238 30, 9086 0238 30.

দ্বিতীয়জন ইমরান মালিক, উনি কারসার্ভিস দিয়ে থাকেন, যার থেকে এত এত ইনফরমেশন পেয়েছি, কম খরচে কিভাবে কাশ্মীরের আরও রিমোট এলাকাগুলিতে যাওয়া যায়, তবে ২৫/৩০ দিনের ট্যুর হতে হবে। ইনি একমাত্র ড্রাইভার যাকে পেয়েছিলাম, যিনি আমাদের ট্যুরের খরচ কমানোয় সাহায্য করেছিল অনেক। ওনার ফেসবুক আই,ডি, এবং ফোন নাম্বার দিয়ে দিলাম। যারা বাংলাদেশ থেকে যাবেন, আগে থেকে ওনাকে ফোন করে রাখলে, উনি ওনার ইনোভা নিয়ে এয়ারপোর্টে হাজির থাকবেন।

https://www.facebook.com/profile.php?id=100019538358357
ফোন নাম্বারঃ +917006273342

তৃতীয়জন হলেন, আসিফ ভাই, ওনার ছোট একটা রেস্টুরেন্ট আছে, প্লাস উনি অনেক কম খরচে হোটেল এবং হাউজবোট ভাড়া করে দিতে পারেন। ওনার ওই হোটেলে আমরা জাফরানের চা খাই, করেকবার ডিনারও করি। আসার সময় দুই ডিব্বা জাফরানের চা কিনেও আনি, যা আসলেও অসাধারণ ছিল।
ওনার নাম্বারঃ 981888 7817

এনারা হিন্দি এবং ইংরেজীতে কথা বলতে পারেন। তবে কাশ্মীরের ভাষা কাশ্মীরি, যা নাকি পশতু ভাষার কাছাকাছি।

এইসব ক্ষেত্রে চাইলে আমার রেফেরেন্স ব্যবহার করতে পারেনঃ সৈয়দ সুদীপ আহমেদ নামে চিনবে। এনাদের মাধ্যমে বুক করতে চাইলে, কমপক্ষে ৭ – ১০ দিন আগে বুক করতে হবে। এনাদের সুনাম বেশ ভালো, যার ফলে, সারা বছর এনাদের বুকিং হয়ে থাকে। এনারা সীমিত লাভে ভালো সার্ভিস দিয়ে থাকেন।

আর ঢাকা থেকে বুক করতে চাইলে, হোটেল নিউ মমতা বেশ ভালো, এদের ট্রিপ অ্যাডভাইজার রিভিউ ও বেশ ভালো।

আমরা যে হোটেলে ছিলাম, হোটেল ইসফান, এইটা বাজেট হোটেল। ইসফান এবং নিউ মমতা, মেইন ডালগেট থেকে ২০-২৫ মিনিট হাঁটার দূরত্ব, যেই কারনে ভাড়া বেশ কম থাকে। তবে পরে বুঝতে পারি, এই দামে, আরও ভালো হোটেল পাওয়া সম্ভব ছিল।

ভালো হোটেল মানে, এটাচ বাথ, বেডে ব্লাংকেট হিটার থাকবে। রুম হিটার থাকলে ভালো। বাথরুমে গিজার থাকবে। আর হ্যা, রিসিপশনটা ভালো এবং রেসপনসিভ হবে।

ফোন নাম্বার হোটেল ইসফানঃ 7051432097, এইটা হোটেল ইসফানের সেকেন্ড ম্যান শাবির ভাই এর নাম্বার। কাশ্মীরে ফোনেই সব রকমের বুকিং করা যায়, তবে এই ক্ষেত্রে কথা রাখা জরুরী, কারণ বাংলাদেশীদের সুনাম আছে অনেক এই শ্রীনগরের মানুষের কাছে।

হোটেল ইসফানের মালিকের ফেসবুক আইডিঃ

https://www.facebook.com/newgousia.guesthouse

আমার ইউটিউব চ্যানেলের লিংক দিয়ে দিলাম, তবে চ্যানেলটি রেডি হতে আরও সময় লাগবেঃ

https://www.youtube.com/sayedsudipahmed

কাশ্মীরের ছেলে মেয়ে উভয়ই খুব সুন্দর। বিশেষ করে একজন সাধারন মেয়েও আমাদের দেশের ৯০% মেয়েদের থেকে বেশি সুন্দরী বলে মনে হয়েছে আমার কাছে, তাও মেকআপ ছাড়াই মলিন কাপড়েও।

কাশ্মীরের শিশুরা চকলেট পছন্দ করে। আমরা যেখানেই গেছি, আমার ওয়াযিফ তাদের চকলেট দেয়ার চেষ্টা করেছে। তাদের মায়েদের কাছে আমরা জানতে চেয়েছি, তারা কি খেতে পছন্দ করে, তারা বলেছে, তারা সব খেতে পছন্দ করে। হয়ত এই কারণে তারা ছোট বেলা থেকেই অনেক সুন্দর।

দরগাহ শরিফ হজরতবাল এ যাবার সময় আমরা অনেক পরিমাণে পাখির খাবার নিয়ে যাই, তারপরেও সব শেষ হয়ে যায় নিমিষেই। সেখানে অনেক অনেক পায়রা আছে।

সাধারণত যেসব অঞ্চলে বেশি ঠান্ডা পরে, ওইখানের কুকুরদের গায়ে পশম অনেক ঘন হয়, যেমনটা আমরা মানালিতে দেখি, কিন্তু কাশ্মীরে এর ব্যতিক্রম। তাই তারা ঠান্ডায় বেশ কষ্টে থাকে এবং ক্ষুদার্থ থাকে সবসময় আমরা দেখেছি, খাবার দিলেই খায়।

খাবারের দাম রিজনেবেল। ওদের ১:১ এ আমাদের ২ জনের আরামে হয়ে যায় বেশিরভাগ রেস্তরায়।

কাশ্মীরের জনগণ মনে করেন, মিডিয়াতে কাশ্মীরকে যেভাবে উপস্থাপন করা হয়ে থাকে, বাস্তব অবস্থা তার থেকে অনেক ভালো। আমাদের কাছেও তেমনটাই মনে হয়েছে। দিল্লি এয়ারপোর্টে একজন সেনা সদস্য আমাদের বলেন, আপনারা কাশ্মীর কেন যাচ্ছেন, এক গুলি এই দিক দিয়ে ঢুকে (ভেজামে) ওইদিক দিয়ে বের হবে।

এই খানে ৯০% লোক মুসলমান। এনাদের অনেকের সাথে রাজনীতি নিয়ে আমাদের দীর্ঘ আলাপ হয়।

তবে হ্যা, কাশ্মীরে ১১ লাখ সেনা সদস্য মোতায়েন আছে, রিজার্ভে আরও আছে। কাজেই অবস্থা যে একদম স্বাভাবিক, তা বলা যাবে না।

শ্রীনগর এয়ারপোর্টে ফর্মে ফিলাম করতে হয়, আমরা যদি ফিরে না আসি , তাহলে আমাদের পরিবারের কার সাথে যোগাযোগ করতে হবে।

আর সমস্ত শ্রীনগর জুড়ে চোখে পরবে সেনাসদস্যদের সসস্ত্র টহল।

শ্রীনগরের জন্য আলাদা সিম, যা আমরা শ্রীনগর থেকে সংগ্রহ করি।

সবশেষে বলতে চাই, কাশ্মীর একটা ভূস্বর্গ তাতে কোন সন্দেহ নাই, একই সাথে, জায়গাটা আরও ভালো লাগার কারণ এইখানের চমৎকার মানুষজন। মানালী থেকে শ্রীনগর আসলে আমাদের অনেক বেশি ভালো লাগে, যার কারণ আসলে শ্রীনগরের রূপ এবং এখানকার মানুষজন।

আন্দামান এন্ড নিকোবর আইল্যান্ড : ভ্রমন কথা

বংগোপসাগরের কোলে অবস্থিত আন্দামান এন্ড নিকোবর দ্বীপপুঞ্জ। ভারতের ভিসা নিয়েই আন্দামান যেতে হয়। তাই ভিসা পাওয়ার পরপরই প্রস্তুতি নেয়া শুরু করলাম। বাংলাদেশ থেকে সরাসরি বিমানে আন্দামানের রাজধানী পোর্ট ব্লেয়ার যাওয়া যায়। কিন্তু এতে খরচ পড়ে যায় অনেক বেশী। আবার কলকাতা থেকেও যাওয়া যায়। লোকাল রুট হওয়ায় এই পথে খরচ অনেক সাশ্রয়ী। তাই ঠিক করলাম আগে কলকাতায় যাব এবং এরপর কলকাতা থেকে লোকাল ফ্লাইট ধরে পোর্ট ব্লেয়ার।

সবার আগে ঢাকা থেকে কলকাতা মৈত্রী ট্রেনের টিকিট নিশ্চিত করলাম। এই টিকিট, ভ্রমনের ৩০ দিন আগ থেকেই নেয়া যায়। মৈত্রী ট্রেনের প্রচুর চাহিদা আছে। তাই যত আগে পারা যায় নিয়ে নেয়াই ভাল। ৪ ফেব্রুয়ারীর ট্রেনের টিকিট নিয়ে নিলাম। ট্রেনের সিটের ব্যবস্থা করে বিমানের সিটের দিকে নজর দিলাম। 🙂

ট্রেনের সিটের নির্দিষ্ট দাম থাকলেও বিমানের সিটের বেলায় তার উলটো। একেক সময় একেক রকম। যেহেতু আমি ৪ তারিখ কলকাতা পৌঁছাবো সেহেতু ৫ তারিখের ফ্লাইট ধরাই ভাল হবে। অনলাইনে দেখলাম ৫ তারিখ স্পাইস জেট (Spice Jet) সহনীয় রেইটে কলকাতা থেকে পোর্ট ব্লেয়ারের টিকিট দিচ্ছে। তাই আর দেরী না করে তাদের গুলশান অফিসে গিয়ে যাওয়ার টিকিট কিনে নিলাম।

এবার পোর্ট ব্লেয়ার থেকে আসার টিকিট ব্যবস্থা করার পালা। অনেকে ফিরতি টিকিট পরে কাটেন। কিন্তু আমি সেইফ সাইডে থাকতে চাইছিলাম। কারন টিকিটের দামের এবং প্রাপ্তির কোন নিশ্চয়তা নেই। তাই আন্দামানের মোটামুটি একটা ভ্রমন পরিকল্পনা করে ৯ ফেব্রুয়ারী কলকাতায় ফিরে আসব বলে ঠিক করি। ৯ তারিখের ফিরতি ফ্লাইটের জন্য ইন্ডিগোর (Indigo) রেইট ছিল বেষ্ট। এইবার আর তাদের অফিসে না গিয়ে আমি সরাসরি অনলাইনেই তাদের টিকিট নিয়ে নিই।

আন্দামানে ভ্রমনের জন্য অনেকেই ট্যুর এজেন্সির সাহায্য নেন। কলকাতা বা পোর্টব্লেয়ারে এমনকি আপনি বাংলাদেশ থেকেও অনলাইনে ট্যুর এজেন্সি বুকিং দিতে পারবেন। কিন্তু এতে খরচ অনেক বেশী পড়বে। তা ছাড়াও এজেন্সির সাথে গেলে নিজের মত করে উপভোগ করা যায় না বলে আমি মনে করি। তাই নিজেই যাব বলে সিদ্ধান্ত নিলাম।:) যে কথা না বললেই না, TOB’র কয়েকজন সদস্য আমাকে তথ্য দিয়ে অনেক সাহায্য করেছেন। তাদের জন্য আমার বুকভরা কৃতজ্ঞতা!

তো, টিকিট পর্ব শেষ। এইবার তা কাজে লাগানোর পালা। ফেব্রুয়ারীর ৪ তারিখ ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট ষ্টেশন থেকে সকাল ৮ঃ১৫ তে ট্রেন ছাড়বে। কিন্তু ইমিগ্রেশনের জন্য সকাল ৬ টায় উপস্থিত হয়ে গেলাম। সংগে আছে বউ। 🙂 ইমিগ্রেশনের ফর্মালিটিস শেষ করে আমরা যখন ট্রেনে বসলাম তখন ৭ টা বেজে গেছে। এখন শুধু অপেক্ষা ট্রেন ছাড়ার!

ট্রেন ছেড়ে দিল এবং আমরা কলকাতা ষ্টেশনে পৌঁছেও গেলাম। 😉 তখন প্রায় সন্ধ্যা ৫ টা। আবারো ইমিগিশনের স্তর পার হয়ে যখন মার্কুইজ স্ট্রিটের হোটেলে পৌঁছালাম তখন খেয়ে দেয়ে ঘুম ছাড়া আর কোন কিছু মাথায় আসছিলো না। যদিও ইতিমধ্যেই আমার ক্যামেরা হারানো এবং তা ফিরে পাওয়ার মত ঘটনা ঘটে গেছে কিন্তু সেই গল্প এইখানে করছিনা।

পরদিন দুপুর ২ঃ৪০ মিনিটে ফ্লাইট। আমরা সকালেই উঠে গেলাম। প্রয়োজনীয় কাগজ ও টাকা-পয়সা চেক করে নিলাম। হটাৎ মনে হল বাংলাদেশে ফিরে যাওয়ার টিকেট তো নেয়া হয়নি। আর ট্রেনের টিকিট তো আগেই নিতে হবে। বিমানবন্দরে যাওয়ার আগেই ট্রেনের টিকিটের ব্যবস্থা করতে পারলে মন্দ কি? হোটেলের কাউন্টারে এই ব্যাপারে জিজ্ঞেস করতেই তিনি বললেন, টিকিট কাউন্টারে অনেক লম্বা লাইন হয় আবার বিমানবন্দরে যেতেও জ্যাম হতে পারে। ওনার এই কথায় দ্বিধায় পরে গেলাম। অবেশেষে ট্রেনের টিকেট ভাগ্যের হাতে ছেড়ে দিয়ে বিমানবন্দরের উদ্দেশ্যেই রওনা হলাম। পরবর্তীতে আমরা বুঝেছিলাম যে আগে ট্রেনের টিকেটের ব্যবস্থা করতে গেলে প্লেন আমাদের মাথার উপর দিয়ে চলে যেত। 😛 উল্লেখ্য, ভাগ্য আমাদের সহায় ছিল। আমরা আন্দামান থেকে ফিরে এসে ট্রেনের টিকেট পেয়েছিলাম।

বিমানবন্দরে পৌঁছে স্পাইস জেটের বোর্ডিং পাস নেয়ার সময় হল আরেক বিপত্তি। আন্দামানগামী বাংলাদেশি পাসপোর্টধারী দেখে বিমান এজেন্ট যেন হটাৎ ব্যস্ত হয়ে পড়লেন। আমাদের অপেক্ষা করতে বলে অন্য টেবিলে গিয়ে কি যেন কানাকানি করলেন। ঐদিকে আমরা ভাল মন্দ কিছু ভাবতে পারছিনা। তাকিয়ে শুধু ঐ এজেন্টের কর্মকান্ড দেখছি। ইতিমধ্যে তিনি এলেন এবং কোথায় যেন ফোন করে আমাদের আন্দামানে যেতে দেয়া যাবে কিনা তার অনুমতি চাইলেন। এবং অনুমতি মিলল!

এইবার শতভাগ রিল্যাক্স, মনে মনে ভাবলাম। ৪ তারিখ ভোর ৫টা শুরু হওয়া দৌড়াদৌড়ির পর এতক্ষণে একটু অবসর পাওয়া গেলো। জীবনে প্রথমবারের মত বিমানে উঠে বসলাম এবং যথাসময়ে বিমান আকাশে উড়লো। জানালা দিয়ে অপরিবর্তিত আকাশ দেখার বিরক্তি নিয়ে কখন যেন ঘুমিয়ে গেলাম। ঘুম ভাংগলে দেখলাম ল্যান্ডিং এর প্রস্তুতি চলছে। বাইরে তাকিয়ে দেখি, আকাশে কালো মেঘের বিশাল পাহাড়। পাশ কাটতেই নজরে এল, আন্দমানের ছোট অবয়ব! ক্রমশ বড় হয়ে আসছে। আমাদের বিমান জলরাশি পেরিয়ে ছুটে যাচ্ছে আন্দমানের দ্বীপে।

আন্দমান এবং নিকোবর দ্বীপপুঞ্জ প্রায় ৫০০ টিরও বেশি দ্বীপ আছে। তন্মোধ্যে, শুধুমাত্র আন্দমানেই পর্যটক যাওয়ার অনুমতি আছে। নিকোবর সংরক্ষিত এলাকা। আবার আন্দমানেও সব দ্বীপে পর্যটক যায়না বা নিয়ম নেই। তবে যে কয়টি দ্বীপে যাওয়া যায় তাতে আপনি মাস খানেক সময় হাতে নিয়ে গেলেও সব দেখা হবে কিনা তা আমি নিশ্চিত নই। তবে আমরা আদার ব্যাপারী হয়ে জাহাজের খবর না নিয়ে, প্রচলিত ৩/৪ টি দ্বীপ দেখবো বলে ঠিক করলাম। পোর্টব্লেয়ার,হেভলক, নীল আইল্যাণ্ড ও রস আইল্যান্ড। উল্যেখ্য এই সব দ্বীপে যাওয়ার জন্য দুই ধরনের ব্যবস্থা আছে – সরকারী ফেরী, যার ভাড়া কম কিন্তু টিকিট পাওয়া কঠিন এবং বেসরকারী ক্রুজ, যা ভাড়া বেশী এবং টিকিট পাওয়া তুলনামূলক সহজ।

ইতিমধ্যে আমাদের বিমানের ল্যান্ডিং হয়ে গেল। কলকাতা থেকে আন্দমান পৌঁছাতে ২ ঘণ্টা লাগলো। যে কোন বিদেশী নাগরিক আন্দামান ভ্রমন করতে হলে পোর্ট ব্লেয়ারে পৌঁছানোর পর বিশেষ অনুমতি নিতে হয়। এই তথ্য জেনেই গিয়েছিলাম। তাই বিমানবন্দরে নেমেই সেই অনুমতি পত্র নিতে চলে গেলাম। কিন্তু তা করতে গিয়ে দেখলাম এটা আসলে আরেকটা ইমিগ্রিশানের মতই। মানে আমাদের পাসপোর্টে ভারতের সিলতো বটেই পোর্ট ব্লেয়ারের সিলও পড়লো। সেই সাথে একটি ফর্ম পূরণ করতে হল এবং এরপর একটি অনুমতি পত্র দেয়া হল। উল্ল্যেখ্য, এই কাগজই এখন পাসপোর্টের সমতুল্য। আন্দামানের যতদিন থাকি, যেখানেই যাই, এমনকি ফেরত যাওয়ার সময়ও এই কাগজ অতি, অতি এবং অতি আবশ্যক। এই অনুমতি পত্র ছাড়া কোন হোটেলও আপনাকে জায়গা দিবেনা।

অনুমতি নিয়ে এয়ারপোর্ট থেকে বের হয়ে এলাম। কোন হোটেলে উঠবো এখনো জানিনা। প্রসঙ্গত বলে রাখি, আমি এই ট্যুরে কোন হোটেল বুকিং দিইনি। তবে সুবিধাজনক জায়গা বুঝে কলকাতা এবং পোর্ট ব্লেয়ারের ২/১ টা হোটেলের নাম টুকে নিয়েছিলাম। এতে মূলত দুটি সুবিধা হয়েছে ঃ ১) পোর্ট ব্লেয়ারের ইমিগ্রিশনের ফর্মে হোটেলের নাম দিতে পারা গেছে। ২) একটা হোটেল থাকা মানে তার আশে পাশে আরো হোটেল আছে। সুতারাং ঐখানে পৌঁছাতে পারলে নিজের পছন্দ মত হোটেলে বের করা যাবে।

বিমানবন্দর থেকে বের হতে ট্যাক্সি বা অটো ড্রাইভাররা আপনাকে পেয়ে বসবে। ভাড়ার ব্যাপারে আগেই কথা বলে নেয়া ভাল। ট্যাক্সি বলতে ওরা যা বুঝায় তা হল প্রাইভেট কার টাইপের বাহন। আর অটো হল আমাদের ব্যাবি ট্যাক্সি সদৃশ বাহন। চলা ফেরার জন্য অটোই সাশ্রয়ী। আমরা উঠলাম Hotel RNP তে। এয়ারপোর্টের কাছেরই একটি হোটেল। তখন প্রায় সন্ধ্যা।

ফ্রেশ হয়ে আবার বের হলাম। আন্দামানের সবচেয়ে বড় একটি বৈশিষ্ট্য হল নিরাপত্তা। আন্দামানের যে কয়টি দ্বীপেই গিয়েছি তার প্রমানও পেয়েছি। সবাই এইখানে নিশ্চিন্ত মনেই যে কোন জায়গায় চলাফেরা করতে পারে, যে কোন সময়ই। আমরা দুজনও বেশ খানিক্ষন ঘুরলাম । উদ্দেশ্য ছিল লোকালয় ঘুরে ফিরে দেখা। বেশ ছিমছাম, পরিচ্ছন্ন শহর পোর্ট ব্লেয়ার। উচুনিচু পাহাড়ী রাস্তা কোথাও কোথাও হটাৎ উঠে বা নেমে গেছে। পিচ ঢালা রাস্তার দুপাশেই গাছ। কোন কোন গাছে ফল ধরেছে। ভাল করে তাকাতেই দেখি, ফলের নাম আম। ফেরুয়ারিতে আম! পরে খবর নিয়ে জানতে পারলাম, আন্দমানের সারা বছরই গাছে আম থাকে। পরে আমরা পাকা আমও খেয়েছি। 🙂

হোটেলে ফিরে হেভলক যাওয়ার ব্যাপারে খবর নিয়ে যা জানা গেল তা সন্তোষজনক ছিলনা। আমাদের প্ল্যান ছিল বেসরকারী ক্রুজের অগ্রিম টিকিট নিয়ে নেয়া। কিন্তু টিকিট সন্ধ্যার পর আর দেয়া হয়না! তবে সকালে সরাসরি জেটিতে গেলে পাওয়া যেতে পারে। সেই ভরসায় রাতে খাওয়া শেষে ঘুমিয়ে পড়লাম। সকালে ৬ টার আগেই উঠে জেটিতে যেতে হবে। ঘড়িতে এলার্ম দেয়া ছিল। ঠিক সময়ে উঠে ঝটপট রেডি হয়ে গেলাম। একটা মজার তথ্য হল, আন্দামানে সকল হোটেলের চেক আউট টাইম সকাল ৮/৯ টা। 🙂

চেক আউট করে বের হতেই অটো পেয়ে গেলাম। ফিনিক্স জেটিতে পৌঁছাতে ১০ মিনিটের মত লাগলো। পৌঁছালাম বটে কিন্তু এরপর কোথায় যেতে হবে বা টিকিট কোথায় পাওয়া যাবে ইত্যাদি তো জানিনা। একজনকে সরকারী ফেরীর কথা জিজ্ঞেস করতেই একটি কাউন্টার দেখিয়ে দিল। গিয়ে জানা গেল হেভলকের টিকিট নেই। জানা কথা। এখন প্রাইভেট ক্রুজই ভরসা। আন্দামানে দ্বীপগুলোতে বেশ কয়েকটি প্রাইভেট ক্রুজ চলাচল করে। অনলাইনেই তাদের চলাচলের সময় ও রুট সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়।আমি আগেই Green Ocean 2 ও Makruz নামক দুইটি ক্রুজ বিকল্প হিসেবে নির্বাচন করে রেখেছিলাম। তাই সরকারী ফেরী যখন হাতছাড়া হয়ে যায় আমি Green Ocean 2 কাউন্টারের খুঁজতে থাকি। কিন্তু কোন হদীস পাওয়া গেল না।

ঐদিকে সময় বয়ে যাচ্ছে। নির্দিষ্ট সময় পর সকালের সকল নৌযান চলে যাবে আর দুপুরের আগ পর্যন্ত কোন ক্রুজ নেই। কয়েকজনকে জিজ্ঞেস করেও Green Ocean 2 কাউন্টার পেলাম না। পুরো ট্যুরে এই একবারই নিজেদের দিকবিদ্বিগশূন্য মনে হল। ইতিমধ্যে মনে মনে ভেবে নিয়েছি যে ক্রুজ না পেলে হোটেলেই ফিরে যাব এবং পরের দিনের টিকিট আগেই কেটে নিব। এই ক্ষেত্রে আমাদের একটি দ্বীপ কম ঘোরা হবে যেহেতু একটি দিন অপচয় হয়ে যাবে।

হঠাৎ একটি লাইন দেখতে পেলাম। এগিয়ে জিজ্ঞেস করতেই জানতে পারলাম এই লাইন ধরে গেলেই সকল ক্রুজের কাউন্টারের দেখা মিলবে। লাইনে দাঁড়িয়ে সামনে এগুলাম এবং একজন নিরাপত্তা প্রহরীর কাছ থেকে Green Ocean 2 এজেন্টের দেখা পেলাম। সময় নষ্ট না করে টিকিটে নিয়ে নিলাম। হাতে মাত্র ১০-১৫ মিনিট সময়। সকাল ৭ঃ১৫ মিনিটে হেভলকের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যাবে। ব্যাগ ও সিকিউরিটি চেক শেষে ক্রুজে চড়ে বসলাম।

হেভলকে পৌঁছাতে ২ ঘন্টার মত লাগলো। নামার পর জেটি গেইট থেকে বের হতেই অনেক ট্যাক্সি বা অটো ড্রাইভারের ভিড় কাটিয়ে অটো ষ্ট্যান্ডে চলে এলাম। ওইখানে সিরিয়াল থাকে। একজন অটো চালকের সাথে কথা বলে নিলাম। যেহেতু আমার কোন হোটেল বুকিং নেই তাই উনি আমাকে হোটেল দেখিয়ে দিবেন আমার পছন্দ হওয়ার আগ পর্যন্ত। এই ক্ষেত্রে আমি আমার বাজেট জানিয়ে দিলাম। কিছুদূর যেতেই হঠাৎ মনে হল আমার তো পরের দিন নীল আইল্যান্ড যাওয়ার কথা! ক্রুজের টিকিট আগেই নিয়ে নেয়া উচিত।

আবার এলাম জেটিতে। হেভলক থেকে নীল আইল্যান্ড যাওয়ার জন্য Green Ocean 2 এবং নীল আইল্যান্ড থেকে পোর্ট ব্লেয়ার ফিরে আসার Makruz এর টিকিট নিয়ে ফেললাম। এই বার নিশ্চিন্ত থাকা যাবে। 🙂 প্রসংগত বলে রাখি, ক্রুজের টিকিটের দাম দূরত্ব ও শ্রেনী অনুসারে গড়ে ১০০০-১২০০ রুপি জনপ্রতি।

যাই হোক আমরা আবার এসে অটোতে বসলাম। অটো চালক আমাদের হোটেল দেখাতে লাগলেন এবং ৩ নম্বর হোটলটি আমাদের পছন্দ হল। কথা বলে উঠে পড়লাম। ভাড়া ১৭০০ রুপি প্রতি রাত। অন্যান্য ট্যুরিষ্ট প্লেসের মত এইখানেও হোটেল ভাড়া ভাগ্যের উপরো নির্ভর করে। অনেক সময় কম টাকায়ও ভাল হোটেল পাওয়া যায়। আবার উল্টোটাও হতে পারে। আমরা যেখানে উঠেছি সেটা মূলত একটি রিসোর্ট টাইপের। সবার জন্য আলাদা আলাদা ঘর। ঘরের সামনে ছোট বারান্দামতন জায়গায় চেয়ার টেবিল পাতা। রিসোর্টের পুরো চত্বরটাই নারিকেল গাছে ঢাকা। আমাদের রুমের পাশ দিয়েই একটা পায়ে হাটা পথ চলে গেছে। সেই পথ ধরে ২/১ মিনিট হাটলেই সমূদ্র!

আন্দামানে খাবার খরচ ও গাড়ি ভাড়া একটু বেশি। তবে সকল জায়গার খাবার মেনু এবং দাম প্রায় একই ছিল। একটু ধারনা যদি পেতে চান তাহলে বলবো, প্লেইন রাইস ৭০-৮০ রুপি ( এর নিচে নেই এবং পরিমান যথেষ্ট) এবং মাছ ২০০-২৫০ রুপি থেকে শুরু। সব হোটেলের নিজস্ব ডাইনিং আছে। চাইলেই ওদের ডাইনিং বা বাইরেও খাওয়া যায়। আর গাড়ি ভাড়া ৩/৪ কিলো রাস্তার জন্যই ১০০/১৫০ রুপি চেয়ে বসে তারা। গাড়ি/অটোতে ওঠার আগে অবশ্যই দরদাম করে নিবেন।

হোটেলে wifi ও ব্যাবহার করতে পারবেন। তবে এই ক্ষেত্রে প্রতি ঘণ্টার জন্য স্থান ভেদে ১০০-১৫০ রুপি পড়ে। 🙂 তবে ১৫ মিনিট, ৩০ মিনিট এইভাবে বিভিন্ন ভাগে দাম নির্ধারন করা আছে। স্থানীয়দের মতে, কথা বলার জন্য এয়ারটেলের নেটওয়ার্ক ভাল। ২৪ ঘন্টা বিদ্যুৎ সরবরাহ আছে এবং সকল হোটেলেই এসি/নন-এসি দুই ধরনের রুমই আছে।

ফ্রেশ হয়েই বেরিয়ে পড়লাম। ঘরের কাছের সমুদ্র পাড়ে চলে এলাম। আকাশ মেঘলা ছিল ঐদিন। সমুদ্রে জোয়ার চলছিল। কিছু পর্যটক এদিক সেদিক অলস সময় কাটাচ্ছে। আমরাও নিজেদের মত করে উপভোগ করছি। হটাৎ মনে হল গুড়ি গুড়ি বৃষ্টি পড়ছে। সাথে বাতাসও ছিল ভালই। পরে জানতে পারলাম আমরা আসার আগের দুই দিন হেভলকে ভালই বৃষ্টি হয়েছে। আরো কিছুক্ষন থাকার পর ফিরে এলাম। দুপুরে খেয়েদেয়ে বের হওয়ার প্ল্যান আছে।

হেভলক হল আন্দামানের সবচেয়ে জনপ্রিয় দ্বীপ। প্রচুর পর্যটক এখানে আসেন। বেশীরভাগই ইউরোপীয়ান।স্কুবা ডাইভিং, সী-ওয়াকিং, মাছ ধরা সহ নানা রকম কর্মকান্ডের জন্য হেভলক জনপ্রিয়। এখানে চাইলে দিন প্রতি হিসেবে মোটরসাইকেল ভাড়া নেয়া যায়। এতে করে নিজের ইচ্ছা মত ঘুরে বেড়ানো যায়। তবে নিজের ড্রাইভিং লাইসেন্স আবশ্যক। পুরো দ্বীপ জুড়েই প্রচুর নারিকেল গাছ। তাই বলে, ১ টাকায় আট মণ নারিকেল পাওয়া যাবেনা। দাম হিসেব করলে আমাদের দেশের মতই পড়ে। বিজনেস ইজ বিজনেস, ইওর অনার। 🙂

আমরা একটা অটো ভাড়া করে ঘুরে আসি কালাপাথর বীচ থেকে। ঘোরার মত অনেক জায়গা আছে।সমুদ্রতটেই বালিতে ডেবে থাকা বড় বড় কালো পাথর দেখেই আমরা বুঝে নিলাম এই বীচের নামকরণের কারন। আকাশ তখনো মেঘাচ্ছন্ন। সাগরের নীল জলরাশি আছড়ে পড়ছে তীরে। সমূদ্রতীরে হরেক রঙের শামুক, কাঁকড়া নিজেদের মত করে ঘোরাফেরা করছে। এই প্রসংগে বলে রাখি, আন্দামানে ঝিনুক বা শামুক ইত্যাদি কুড়ানো নিষেধ আছে। তাই এর থেকে বিরত থাকাই ভাল।

দেখতে দেখতে সন্ধ্যা ঘনিয়ে এল। আমরা ফিরে এলাম আমাদের অস্থায়ী কুটিরে।রাতের খাওয়া শেষে রাতের সমুদ্র দেখার বাসনা মেটাতে চলে এলাম ঘরের পাশের বীচে। গিয়ে দেখি ভাটা পড়ে গেছে। পানি অনেক দূর চলে গেছে। দেখা যায় না! তখন রাত ১০ টা বা তারও বেশী। তারপরো, আন্দামান শতভাগ নিরাপদ, এই কথায় বিশ্বাস রেখে আমরা আরো কিছুক্ষণ এদিক-ওদিক হাঁটাহাঁটি করে ফিরে এলাম হোটেলে। পরের দিনের গন্তব্য নীল আইল্যান্ড।

যথাসময় (সকাল ১১ঃ৩০ মিনিটে) ক্রুজ ছেড়ে দিল নীলের উদ্দেশ্যে। একঘন্টা লাগলো পৌঁছাতে। নীল আইল্যান্ডেই বেশী ভাল লেগেছে।নীল আইল্যান্ড হল আন্দামানের সবচেয়ে ছোট দ্বীপ। এখানকার পানির অনেক রং হয়। কিছুদূর পর পর রঙ পরিবর্তন চোখে পড়ে। জিজ্ঞেস করে জানা গেল, পানির নিচে থাকা কোরালের কারনেই এমনটা হয়। স্থান ভেদে কোরালের ভিন্নতার কারনে সূর্যের কিরনে পানির নানান রঙ দেখা যায়। যাই হোক, জেটি থেকে বের হয়ে আবারো ট্যাক্সি ও অটো চালকদের ভিড় কাটিয়ে সামনে চলে এলাম। একজন অটোচালকের সাথে কথা বলে উঠে গেলাম। এবারো আগের মতই চুক্তি হল। হোটেল পাওয়ার আগ পর্যন্ত তিনি থাকবেন সাথে। প্রথম হোটেলেই পছন্দ হয়ে গেলো।

নাম কালাপানি। 🙂 এটাও নারিকেল গাছে ঘেরা আংগিনা। ভাগ্যক্রমে আবারো সমুদ্র পেয়ে গেলাম রুমের পাশেই। ভাড়া ১০০০ রুপি প্রতি রাত। ফ্রেশ হয়ে এবং দুপুরের খাওয়া শেষ বের হলাম নীল দ্বীপ দর্শনে। একটি ইন্টারেষ্টিং তথ্য হল, আন্দামানে বাংলা ভাষাভাষী মানুষ প্রচুর। কথা বলে জানতে পারলাম, এনাদের পূর্বপুরুষরা বাংলাদেশেরই অধিভাষী ছিলেন।ততকালীন রাজনীতির পরিক্রমায় উনারা বাস্তুহারা হন এবং তখন থেকে আন্দামানে জ়ীবিকা নির্বাহ করেন।

নীল দ্বীপে বেশ কয়েকটি পর্যটন স্পট আছে। তবে আমরা গেলাম, ন্যাচারাল ব্রীজ, ধর্মতলা বীচ ও সানসেট বীচে। ন্যারাচাল ব্রীজ হল বড় একটা বৃত্তাকার কোরাল। স্থানীয়রা একে ন্যাচারাল ব্রীজ বলে। এখানে যাওয়ার আগে অনেক গাইড এসে ভীড় করলো। তাদের গাইড হিসেবে তাদের নেয়ার জন্য প্ররোরচিত করতে লাগলো। ওইসবে কান না দিয়ে নিজেই শেষ পর্যন্ত গিয়েছি এবং পরে বুঝেছি যে, ভালই করেছি।

সানসেট বিচে সূর্যাস্ত দেখে ফিরে এলাম। পরের দিন পোর্টব্লেয়ারে ফেরার পালা। নীল আইল্যান্ড থেকে পোর্টে ব্লেয়ারে যেতে অন্য সকল নৌযানে ২ ঘণ্টা লাগলেও Makruz সময় নেয় মাত্র ১ ঘন্টা! পোর্ট ব্লেয়ারে এসে আগের হোটেলেই উঠলাম। বিকেলে সেলুলার জেল ঘুরে এলাম। সন্ধ্যার পর সময় কাটালাম মেলানি পার্ক ও আশেপাশে ঘোরাফেরা করে। আন্দামান ভ্রমন প্রায় শেষের পথে। আন্দামানের প্রতিটি দ্বীপেই অনেক কিছু করার আছে, দেখার আছে। সবই নির্ভর করবে বাজেট ও সময়ের উপর। তাই শেষ হইয়াও হইল না শেষ মন নিয়ে পরের দিনের কলকাতার ফ্লাইট ধরতে হল আমাদের।

আমাদের বিমান যখন পোর্ট ব্লেয়ার ছেড়ে আসছিল ততক্ষণে আন্দমানে আরেকটি সুন্দর দিন শুরু হয়ে গেছে। আমরা ফিরে আসছি ইট-সিমেন্টের যান্ত্রিক জীবনে। আর আন্দামানের রঙ্গীন সমুদ্র ব্যস্ত রয়েছে নতুন অথিতিদের অভ্যর্থনা জানাতে!

খরচঃ ২ জনের একসাথে

আমরা চার রাত চার দিন ছিলাম।

হোটেল+খাওয়া+ঘোরাফেরা = ২০ হাজার রুপি (প্রায়)
বিমান ভাড়া > কলকাতা – পোর্টাব্লেয়ার – কলকাতা= ২৫ হাজার টাকা (আপ-ডাউন)
ঢাকা – কলকাতা বাই ট্রেন – ৫ হাজার টাকা
কলকাতা – ঢাকা বাই ট্রেন – ২৬২০ রুপি

টক্সিন: একটি নিরব ঘাতক

হঠাৎ করেই ওজন বেড়ে যাচ্ছে , অল্পতেই ক্লান্ত হয়ে পড়ছেন বা সারারত জেগে থাকতে হচ্ছে ঘুম না হবার কারণে অথবা কোন কারণ ছাড়াই প্রচুর ঘামছেন। সাম্প্রতিক সময়ে এ সমস্যাগুলোতে বেশিরভাগ মানুষ ভুগছেন। আর এই সমস্যা থেকে পরিত্রাণ পাবার জন্য একেক জন একেক পন্থা অবলম্বণ করছেন কিন্তু কিছুতেই যেন কোন কাজ হচ্ছে না!

কেন কাজ হচ্ছে না? একবার ও খতিয়ে দেখেছেন কি ?

এই সমস্যার পেছনে মূল কারণ হচ্ছে টক্সিন। টক্সিন শব্দটি অনেকেই শুনেছেন। কিন্তু এর ভয়াবহতা এবং এর সৃষ্টির পিছনের কারণ সম্পর্কে জানেন খুব কম সংখ্যক মানুষ ।

টক্সিন হচ্ছে এক ধরণের জৈব বিষ যা দীর্ঘ সময় নিয়ে শরীরে প্রবেশ করে অভ্যন্তরীণ বিভিন্ন অর্গানগুলোকে আক্রান্ত করে ফেলে। মানবদেহে প্রতি মুহূর্তে টক্সিন তৈরি হয় । শরীর থেকে টক্সিন বের হতে না পারলে তা আমাদের শরীরের প্রতিটি কোষকে আক্রমণ করে বসে যা পরবর্তীতে বিভিন্ন জটিল রোগের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। টক্সিন সাধারণত দূষিত পানি ,অপরিষ্কার – অপরিচ্ছন্নতা, বাসি খাবার,দূষিত বায়ু ইত্যাদির মাধ্যমে শরীরে প্রবেশ করে থাকে ।

টক্সিন কীভাবে তৈরি হয়?

আমাদের শরীরে যে বর্জ্য উৎপন্ন হয় তা মল, মুত্র, ঘাম, নিঃশ্বাস ইত্যাদির সাথে দেহ থেকে বের হয়ে যায়। যদি উৎপন্ন বর্জ্যের পরিমাণ নির্গত বর্জ্যের থেকে বেশি হয় তবে কিছু পরিমাণ এই দূষিত দেহে জমতে জমতে টক্সিনে পরিণত হয়। হজমে সমস্যা থাকলে, মলত্যাগে সমস্যা হলে, ঘাম না হলে ,পরিমিত পানি পান না করলে শরীরে টক্সিন জমতে শুরু করে বা টক্সিন উৎপন্ন হওয়া সহজ হয়ে যায়। এছাড়া কায়িক পরিশ্রমের অভাবেও শরীরে টক্সিন জমে। যারা শাক সবজি কম খান, জাংক ফুড বেশি খান এবং মদ বা সিগারেট পান করেন তাদের শরীরে টক্সিন উৎপন্ন হওয়ার মাত্রা বেশি ।মানবদেহে এমন কোন জায়গা নেই যেখানে টক্সিন জমতে পারে না। সামান্য সর্দি জ্বর থেকে শুরু করে স্ট্রোক, প্যারালাইসিস, ব্রংকাইটিস ছাড়াও বেশিরভাগ শারীরিক রোগের জন্য টক্সিন দায়ী ।

শরীরে টক্সিনের আধিক্য কীভাবে বুঝবেন?

শরীরে অত্যধিক টক্সিন জমা হলে তা শরীর নিজেই তা জানান দেয়। কিছু শারীরিক লক্ষণ রয়েছে যা দেখলে আপনি নিশ্চিত হতে পারবেন আপনার শরীরে টক্সিনের আধিক্য রয়েছে।

(১) কোষ্ঠকাঠিন্য

লারজ ইন্টেস্টাইন প্রত্যহ মলের সঙ্গে শরীরের টক্সিন বের করে দেয়। নিয়মিত মল ত্যাগ না হলে শরীরে টক্সিন জমে এবং ফলস্বরুপ কোষ্ঠকাঠিন্য হয়।

(২) ওজন বেড়ে যায়

কিছুই খাচ্ছেন না অথচ ওজন বেড়ে যাচ্ছে অথবা হঠাৎ করেই ওজনটা বেড়ে গেল এমনটা অনেকের ক্ষেত্রেই হয়ে থাকে। আবার অনেক চেষ্টা করেও ওজন কমাতে পারছেন না। এমন ক্ষেত্রে বুঝবেন শরীরে টক্সিন জমেছে। সাধারণত চিনি বেশি খেলে, রাসায়নিক খাবার, ক্যানবন্দি খাবার, জাংক ফুড বেশি খেলে এক সময় এই সমস্যার সম্মুখীন হতে হয় ।

(৩) একটুতেই ক্লান্ত

শরীরে টক্সিনের আধিক্যে একটুতে ক্লান্তি ভর করে। রোজকার সাধারণ কাজ করতেই হাপিয়ে উঠছেন, অফিস থেকে ফিরে বিছানা ছেড়ে উঠতে ইচ্ছে করছে না বা শুয়ে থাকলেই যেন ভালো লাগে। এমন হলে বুঝবেন টক্সিনের মাত্রা বেড়ে গেছে। টক্সিন শরীরের স্বাভাবিক রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমিয়ে দেয় বলেই এমনটি হয়।

(৪) চর্ম রোগ

চামড়া বা ত্বক আমাদের দেহ থেকে টক্সিন বের করে দিতে সহায়তা করে। অন্ত্র এবং লিভার যখন খাবারে থাকা টক্সিন বের করে দিতে পারে না , তখনই ত্বক সেই টক্সিন বের করার চেষ্টা করে এর ফলেই ফোঁড়া, র‍্যাশ, বিভিন্ন চর্ম রোগ হয় ।

(৫) মাথা ব্যথা

টক্সিনের অন্যতম লক্ষ্য হল মস্তিষ্কের সেন্ট্রাল নার্ভাস সিস্টেমে বাসা বেঁধে যাওয়া । এর ফলে বিভিন্ন টিস্যু খুব অনুভূতি প্রবণ হয়ে পড়ে। তখন সামান্য কারণেই এই টিস্যুতে যন্ত্রণা দেখা দেয়। এর নাম হল মাইগ্রেন ।

(৬) মুড সুইং

প্রসেসড ফুড, এডিটিভ ফুড এবং কৃত্রিম উপায়ে তৈরি খাবার থেকে এক ধরণের টক্সিন শরীরে ঢোকে যাতে জেনোইস্ট্রোজেন থাকে। এ ধরণের টক্সিন এর প্রভাবে হঠাৎ হঠাৎ করেই মেজাজের পরিবর্তন ঘটে। শুধু তাই নয় এস্পারটেস নামক ধরণের টক্সিন শরীরে প্রবেশ করলে ডিপ্রেশন হয় ।যারা এসব খাবার বেশি খান তারা ডিপ্রেশনের শিকার হন ।

(৬) নিঃশ্বাসে দুর্গন্ধ

প্রসেসড ফুড খাওয়ার ফলে শরীরে অত্যধিক মাত্রায় শর্করা প্রবেশ করে। যাতে ক্ষতিকর ব্যাক্টেরিয়া তৈরি হয় এবং বাড়তে থাকে। তা পরিপাক তন্ত্র তো বটেই সঙ্গে মুখেও বাসা বাধে। ফলে মুখের দুর্গন্ধ থেকে মুক্তি পান না। এছাড়াও অত্যধিক ঢেকুর এবং হজমের সমস্যা হয়ে থাকে।

(৭) পেশিতে ব্যথা ও কালশিটে

কোন চোট লাগেনি কিন্তু শরীরে বিভিন্ন পেশিতে ব্যথা হচ্ছে। সঙ্গে রয়েছে কালশিটে। এটা অত্যধিক টক্সিনের লক্ষণ। খাবার, ঘর পরিষ্কার করার বিভিন্ন জিনিস প্রসাধনী ইত্যাদি ক্রমাগত ব্যবহারের ফলে আমাদের শরীরে স্ট্রেস পড়তে থাকে এবং ডিফেন্স সিস্টেম দুর্বল হয়ে পড়ে। এতে পেশিতে অক্সিজেনের জোগান কমে যায় ,তার ফলেই পেশিতে ব্যথা হয়। সঙ্গে কালশিটে পড়ে যায় ।

(৮) শরীরের তাপমাত্রা বেড়ে যাওয়া

শরীরে অত্যধিক টক্সিন জমে গেলে রক্তের সংগে তা লিভারে পৌছায় ।লভার তখন সেই টক্সিন মিশ্রিত রক্ত শোধন করতে অতিরিক্ত খাটে ।এর ফলেই দেহের তাপমাত্রা বেড়ে যায় ।সঙ্গে প্রচুর ঘাম হয় ।

(৯) অনিদ্রা

শরীরে তক্সিন বেড়ে গেলে ঘুমে ব্যাঘাত ঘটে বা ঘুম আসে না। কারণ টক্সিন শরীরের টিস্যুতে জমা হয়, ঠিক মতো ব্লাড সার্কুলেশন হতে দেয় না।

(১০) যকৃতে অসুবিধা

যকৃতে টক্সিন জমা হবার ফলে যকৃতে র মুখ বুজিয়ে দেয়। এতে করে জিহ্বাতে হলুদ দাগ পড়ে থাকে। যদি এমনটা হয় তবে বুঝবেন রক্তে টক্সিন বেড়ে গেছে।

(১১) পেটে অতিরিক্ত মেদ জমা

শরিরে ক্ষতিকারক টক্সিন বেড়ে গেলে শরীর গ্লুকোজ লেবেল ব্যালেন্সড থাকে না। এর সঙ্গে কোলেস্টেরলকে সঠিক ভাবে কাজে লাগাতে পারে না । ফলে পেটে মেদ জমে যায়।

আজ এই পর্যন্তই। পরের পর্বের জন্য একটু অপেক্ষা করতে হবে। খুব শীঘ্রই টক্সিন থেকে পরিত্রাণের উপায় নিয়ে হাজির হয়ে যাব।

জেনে রাখুন রাতে রুটি খাওয়া ভালো না খারাপ

শরীরকে সুস্থ ও রোগমুক্ত রাখতে রুটির বিকল্প হয় না বললেই চলে। রুটিতে থাকা একাধিক পুষ্টিকর উপাদান হার্টের স্বাস্থ্যের উন্নতি ঘটায়। তবে কেউ ওজন কমাতে, কেউবা অভ্যাসের কারণেই রাতে রুটি খেয়ে থাকেন। কিন্তু রাতে রুটি খাওয়ার অভ্যাস কি স্বাস্থ্যকর? একদল বলছেন অবশ্যই। আরেক দলের মত একেবারে ভিন্ন। এক্ষেত্রে পুষ্টিবিজ্ঞানীদের একাধিক গবেষণায় দেখা গেছে রাতে রুটি খেলে শরীরের অন্দরে নিচের পরিবর্তনগুলি ঘটে।

এনার্জির মাত্রা বৃদ্ধি পায়
একাধিক কেস স্টাডি এবং গবেষণায় দেখা গেছে রাতে রুটি খেলে শরীরে শক্তির মাত্রা চোখে পড়ার মতো বেড়ে যায়। ফলে ক্লান্তি দূর হয়ে শরীর একেবারে চাঙা হয়ে ওঠে।

ওজন কমে সাহায্য করে
রুটিতে ক্যালরির পরিমাণ খুব কম থাকে। মাত্র ৭০। তাই রাতে রুটি খেলে ওজন বাড়ার কোনো আশঙ্কা নেই। তাই যারা ওজন কমাতে চান তারা রাতের খাবারে রুটি রাখতেই পারেন।

শরীরে জমা অতিরিক্ত ফ্যাট ঝরায়
একাধিক গবেষণা মতে, রাতে রুটি খেলে শরীরে জমে থাকা অতিরিক্ত ফ্যাট ঝরতে শুরু করে। ফলে ওজন কমে যায়। মূলত রাতে রুটি খেলে ওজন তো বাড়েই না, উল্টে কমতে শুরু করে।

হজমের উন্নতি ঘটে
রুটিতে থাকা ফাইবার শরীরে প্রবেশ করামাত্র হজম ক্ষমতা বাড়াতে শুরু করে। সেই সঙ্গে গ্যাস-অম্বল এবং বদ-হজমের মতো সমস্যাও কমিয়ে দেয়। এখানেই শেষ নয়, রাতে ভাতের চেয়ে রুটি তাড়াতাড়ি হজম হয়। ফলে বদ-হজমের আশঙ্কা কমে।

রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণ
রুটির গ্লাইসেমিক ইনডেক্স খুব কম হওয়ায় খাওয়ামাত্র রক্তে সুগারের মাত্রা বেড়ে যাওয়ার কোনো আশঙ্কা থাকে না। ফলে ডায়াবেটিকরা নিশ্চিন্তে সকাল-বিকেল রুটি খেতে পারেন।

মস্তিষ্কের ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা কমে
একাধিক গবেষণা মতে, রাতে নিয়মিত রুটি খেলে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে থাকে। ফলে হঠাৎ করে প্রেশার বেড়ে যাওয়ার কারণে হার্ট অ্যাটাক এবং স্ট্রোক হওয়ার আশঙ্কা কমে। সেই সঙ্গে রুটিতে উপস্থিত একাধিক উপকারি উপাদান ব্রেন পাওয়ার বাড়াতে বিশেষ ভূমিকা রাখে।

ত্বকের জন্য উপকারি
রুটিতে প্রচুর মাত্রায় জিঙ্ক রয়েছে। এটা ত্বকের সৌন্দর্য বৃদ্ধির পাশাপাশি বলিরেখা কমাতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। তাই রাতে রুটি খাওয়া ত্বকের জন্যও ভালো।

ক্যান্সার রোগ প্রতিরোধ
রুটিতে উপস্থিত সেলেনিয়াম ও ফাইবার একাধিক ক্যান্সার রোগের প্রকোপ কমাতে বিশেষ ভূমিকা রাখে। বিশেষত, যাদের পরিবারে এমন রোগের ইতিহাস আছে, তারা রাতে রুটি খেতেই পারেন।

দাঁড়িয়ে পানি খেয়ে নিজের অজান্তেই শরীরের যে মারাত্মক ক্ষতি ক্ষতি করছেন আপনি !

পানির অপর নাম জীবন। তাই পানি ছাড়া বেঁচে থাকাটা প্রায় অসম্ভব।আমাদের শরীরে প্রায় তিন ভাগের দুই ভাগই পানি। সুস্থভাবে বেঁচে থাকতে তাই পানি পানের বিকল্প নেই। কিন্তু কতটুকু পানি পান করব সারা দিনে? কখন বেশি আর কখন কম পানি পান করা উচিত? পর্যাপ্ত পানি পানের যেমন সুফল আছে, তেমনি অপর্যাপ্ত পানি পানের কারণে পড়তে হয় নানা সমস্যায়। কিন্তু আপনাদের কি জানা আছে পানি পানের সঠিক পদ্ধতি সম্পর্কে? পরিসংখ্যান বলছে, বিশ্বের প্রায় ৪৫-৫০ শতাংশ মানুষেরই এই বিষয়ে কোনও জ্ঞান নেই। ফলে পানি পান করে সবাই তৃষ্ণা তো মেটাচ্ছে কিন্তু সেই সঙ্গে শরীরেরও মারাত্মক ক্ষতি করে ফেলছে। যেমন ধরুন, কখনই দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে পানি পান করা উচিত নয়।

দাঁড়ানো অবস্থায় কখনও পানি পান করবেন না। কারণ এমনটা করলে শরীরে ভিতরে থাকা ছাকনিগুলি সংকুচিত হয়ে যায়। ফলে ঠিক মতো কাজ করতে পারে না। ফলে পানিতে উপস্থিত অস্বাস্থ্যকর উপাদানগুলি রক্তে মিশতে শুরু করবে। ফলে এক সময়ে গিয়ে শরীরে টক্সিনের মাত্রা এতটাই বেড়ে যাবে যে একাধিক অঙ্গের উপর তার খারাপ প্রভাব পরতে শুরু করে।

দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে পানি পান করলে শরীরে আরও নানাভাবে ক্ষতি হয়। চলুন আজ জেনে নিব সেই সম্পর্কে-

১। পাকস্থলীতে ক্ষত সৃষ্টি হয়ঃ দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে পানি পান করলে তা সরাসরি পাকস্থলীতে গিয়ে আঘাত করে। সেই সঙ্গে স্টমাকে উপস্থিত অ্যাসিডের কর্মক্ষমতাও কমিয়ে দেয়। ফলে বদ হজমের আশঙ্কা বৃদ্ধি পায়। সেই সঙ্গে পাকস্থলির কর্মক্ষমতা কমে যাওয়ার কারণে তলপেটে যন্ত্রণাসহ আরও নানা সব শারীরিক অসুবিধা দেখা দেয়।

২। আর্থ্রাইটিসে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা বৃদ্ধি পায়ঃ দাঁড়িয়ে পানি খাওয়ার সঙ্গে আর্থ্রাইটিসের সাথে সরাসরি যোগ রয়েছে। এক্ষেত্রে শরীরের ভিতর থাকা কিছু উপকারি রাসায়নিকের মাত্রা কমতে শুরু করে। ফলে জয়েন্টের কর্মক্ষমতা কমে যাওয়ার কারণে এই ধরনের রোগে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা বৃদ্ধি পায়। যারা ইতিমধ্যেই এই রোগে আক্রান্ত হয়েছেন তারা ভুলেও দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে পানি পান করবেন না।

৩। মানসিক চাপ বেঁড়ে যায়ঃ একাধিক গবেষণায় দেখা গেছে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে পানি পান করলে একাধিক নার্ভে প্রদাহ সৃষ্টি হয়। ফলে কোনও কারণ ছাড়াই মানসিক চাপ বা অ্যাংজাইটি বাড়তে শুরু করে। অকারনে মানসিক চাপ কিন্তু শরীরের জন্য একেবারেই ভাল নয়।

৪। কিডনি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হয়ঃ দাঁড়িয়ে পানি পান করার সময় শরীরের ভিতর থাকা একাধিক ফিল্টার ঠিক মতো কাজ করতে পারে না। ফলে পানীয় জলের মধ্যে থাকা একাধিক ক্ষতিকর উপাদান প্রথমে রক্তে গিয়ে মেশে, তারপর সেখান থেকে কিডনিতে এসে জমা হতে শুরু করে। ফলে ধীরে ধীরে কিডনির কর্মক্ষমতা কমে গিয়ে এক সময় কিডনি ড্যামেজের সম্ভাবনা দেখা দেয়। তাই আজ থেকে ভুলেও দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে পানি পান করবেন না।

৫। জি ই আর ডিঃ দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় পানি পান তা সরাসরি ইসোফেগাসে গিয়ে ধাক্কা মারে। এমনটা হতে থাকলে এক সময়ে গিয়ে ইসোফেগাস এবং পাকস্থালীর মধ্যেকার সরু নালীটি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হয়। ফলে “গ্যাস্ট্রো ইসোফেগাল রিফ্লাক্স ডিজজ” বা ডি ই আর ডি-এর মতো রোগে আক্রান্ত হবার সম্ভাবনা বৃদ্ধি পায়।

ঘন ঘন প্রস্রাবের চাপ হলে যা খাবেন

বিশেষ করে দিনে যদি ৮-৯ বার প্রসাবের প্রয়োজন হয় এবং এরজন্য র্নিঘুম রাত কাটাতে হলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেয়া উচিত।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ব্লাডার যদি প্রয়োজনের অতিরিক্ত কাজ করা শুরু করে তাহলেই ঘন ঘন প্রস্রাবের চাপ আসে। আর এরকমটা নানা কারণে হতে পারে যেমন: অ্যালকোহল সেবন, ক্যাফিন, ডায়াবেটিস, ইউরিনারি ট্রাক্ট ইনফেকশন, পেলভিক রিজিয়ানে কোনো অসুবিধা, কিছু ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রয়া থেকেও হতে পারে।

চিকিৎসকের পরামর্শ ও আধুনিক নানা চিকিৎসার মাধ্যমে এ সমস্যা দূর করা যায় ঠিকই। তবে বোল্ডস্কাইয়ের প্রতিবেদনে বিশেষজ্ঞরা কিছু ঘরোয়া চিকিৎসা দিয়েছেন যা এক্ষেত্রে দারুন কাজ করে। এ ব্যপারে বিস্তারিত নিম্নে আলোচনা করা হলো :

পালংশাক : এই শাকে রয়েছে নানা রকমের পুষ্টিকর উপাদান, যা এই ধরনের রোগ সারাতে বেশ কার্যকরী ভূমিকা রাখে। এছাড়া ডাবের পানিতে পালংশাক চুবিয়ে খেলেও একই কাজ হয়।

চেরি : চেরিতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ফাইবার, যা ব্লাডারের অস্বাভাবিকতা কমায়। এতে ঘন ঘন প্রস্রাবের সমস্যা কমায় এবং কোষ্ঠকাঠিন্য সমস্যাও নিয়ন্ত্রণ করে।

মেথি বীজ : এটি ঘন ঘন প্রস্রাব চাপার অসুবিধা কমায় এবং যে কোনো ধরনের ইউরিনারি ডিজঅর্ডার সারাতে দারুন কাজ করে।

তিল বীজ : এতে রয়েছে প্রয়োজনীয় ফাইবার, মিনারেল, অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট এবং ভিটামিন, যা ঘন ঘন প্রস্রাবের বেগ আসা কমায়।

ছোলা : ছোলায় রয়েছে প্রচুর পরিমাণে পলিফোনোলস, আয়রন এবং ক্যালসিয়াম। এগুলো ব্লাডারের কাজকে স্বাভাবিক করে এই সমস্যা কমিয়ে ফেলে।

কুমড়ার বীজ: কুমড়োর বীজে প্রচুর পরিমাণে ফ্যাটি অ্যাসিড রয়েছে। ফ্যাটি অ্যাসিড, প্রস্টেট এবং ব্লাডারকে ভালো রাখতে সাহায্য করে। তাই এমন সমস্যা হলে এটি খাওয়া শুরু করতে পারেন।

ডালিম : ডালিমের কোয়াগুলি নিয়ে একটা পেস্ট বানিয়ে ফেলুন। এটি খেলে প্রায় সব ধরনের ইউরিনারি সমস্যা কমে যাবে। এতে রয়েছে নানা ধরনের ভিটামিন এবং অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট, যা ব্লাডারের প্রদাহ হ্রাস করে। ফলে স্বাভাবিকভাবেই আর ঘন ঘন প্রস্রাবের চাপ আসবে না। এছাড়া রাতে একাধিকবার ইউরিন চাপার অসুবিধা কমাতেও এটি দারুন কাজ করে।

পাকা কলা:যাঁরা বার-বার প্রস্রাব করেন বা অধিক মাত্রায় যাঁদের প্রস্রাব হয় বা প্রসাব করার সময় জ্বালা অনুভূত হয় তাঁরা দুপুরে খাওয়ার পর কিছুদিন দুটো করে পাকা কলা খেলে উপকার পাবেন।

আঙুর : নিয়মিত আঙুর খেলেও বহুমূত্র রোগে ফল পাওয়া যায়। আঙুর মিষ্টি হওয়া বাঞ্ছনীয়।

অকালে বুড়িয়ে যাওয়া প্রতিরোধে খেতে হবে ২৫টি খাবার

অনেকেরই হয়তো বয়স বেড়ে যাওয়ার পরও হৃদয়টা তরুণ থেকে যায়। ফলে তারা তাদের শারীরিক তারুণ্যও ধরে রাখতে চান। তাদের জন্যই রইল এমন কিছু খাবারের তালিকা যেগুলো ভিটামিন ও প্রোটিন সমৃদ্ধ। এই খাবারগুলো অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এবং নানা পুষ্টি উপাদানে সমৃদ্ধ হওয়ায় ত্বকের তারুণ্য ধরে রাখে। স্থিতিস্থাপকতাও বাড়ায়। ফলে আপনার বয়স বাড়লেও বুড়িয়ে যাওয়ার অনুভূতি খুব বেশি একটা হবে না। এখানে রইল এমন ২৫টি খাবারের তালিকা যেগুলো নিয়মিত খেলে অকালে বুড়িয়ে যাওয়া ঠেকানো সম্ভব।

১. গ্রিন টি
এতে আছে শক্তিশালী ফ্ল্যাভোনয়েড। এটি হাঁটুর জন্য খুবই উপকারী। এবং তরুণাস্থির যেকোনো ক্ষয় রোধ করে। এ ছাড়া এর রয়েছে বিস্তর বুড়িয়ে যাওয়া প্রতিরোধী উপকারিতা।

২. আঙুর
আঙুরে থাকা ফাইটোনিউট্রিয়েন্টও অকালে বুড়িয়ে যাওয়া প্রতিরোধে বেশ কার্যকর। এতে আরো আছে রেজভেরাট্রোল। বিশেষত লাল আঙুরে এই উপাদানটি বেশি থাকে। যা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট হিসেবে কাজ করে।

৩. ডার্ক চকলেট
চকলেটা থাকা কোকোয়া বলিরেখা ও ডার্ক সার্কেল থেকে ত্বককে রক্ষা করে।

৪. আখরোট
চুলের স্বাস্থ্যের জন্য খুবই উপকারী আখরোটে আছে কপার। যা চুলকে আরো স্বাস্থ্যবান ও শক্তিশালী করে। এতে আরো আছে ভিটামিন ই।

৫. আনারস
ব্রোমালেইন এর মতো এনজাইমে সমৃদ্ধ আনারস ত্বকের যত্নে বেশ উপকারী। এটি ব্রণ দূর করে এবং ত্বকের তারুণ্য ধরে রাখে।

৬. টমেটো
টমেটোতে থাকা ক্যারোটিনয়েড ত্বককে ক্ষতিকর অতিবেগুনি রশ্মি থেকে রক্ষা করে এবং ত্বকের তামাটে ভাব দূর করে।

৭.অ্যাভোকাডো
ত্বককে কোমল ও নমনীয় করে অ্যাভোকাডো। এতে থাকা ওমেগা ৯ ফ্যাটি এসিড ত্বকের শুষ্কতা প্রতিরোধ করে।

৮. ওট বা জই
এতে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ফ্রি র‌্যাডিকেলস এর বিরুদ্ধে লড়াই করে। এ ছাড়া ত্বকে বলিরেখা পড়াও ঠেকায় ওট।

৯. তরমুজ
এতেও রয়েছে প্রচুর অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট যা ত্বকে বলিরেখা পড়া ঠেকায়।

১০. গাজর
এতে থাকা ফাইটোনিউট্রিয়েন্ট দেহে ফ্রি র‌্যাডিকেলস এর মাধ্যমে ক্ষয় হওয়া প্রতিরোধ করে।

১১. ব্লুবেরি
এটি ভিটামিন সি এবং ই-তে ঠাসা। বেরির মধ্যে এটিই বুড়িয়ে যাওয়া প্রতিরোধে সবচেয়ে বেশি কার্যকর।

১২. লাল বাঁধাকপি
নিয়মিত লাল বাঁধাকপি খেলে অকালে বুড়িয়ে যাওয়া প্রতিরোধ করে। এতে থাকা ভিটামিন সি ত্বকের তারুণ্য ধরে রাখে।

১৩. কিউই
এটি হাড়ের স্বাস্থ্য উন্নত করে এবং স্বাস্থ্যকর গাড় গড়ে তোলে। এ ছাড়া দেহে ফ্রি র‌্যাডিকেল নিষ্ক্রিয় করতে ভুমিকা পালন করে।

১৪. মৌরি
আঁশসমৃদ্ধ এই খাদ্যটি দেহেকে বিষমুক্ত করতে এবং হজমে সহায়ক ভুমিকা পালন করে।

১৫. লেবু এবং গরম পানি
প্রতিদিন সকালে খালি পেটে এক গ্লাস হালকা গরম পানি এবং লেবুর রস খেলে ত্বকের আর্দ্রতা বজায় থাকে। এবং ত্বকের ঔজ্জ্বল্য বাড়ে।

১৬. কিডনি বীন বা শিম
পটাশিয়াম এবং জিঙ্ক সমৃদ্ধ এই শিম হৃৎপিণ্ডের স্বাস্থ্যের জন্য বেশ উপকারী।

১৭. অলিভ অয়েল
এতে থাকা পলিফেনলস এবং ভিটামিন ই দুটোই বুড়িয়ে যাওয়া প্রতিরোধে বেশ কার্যকর।

১৮. নারকেলের পানি
একে বলা হয় বুড়িয়ে যাওয়া প্রতিরোধের সেরা পানীয়। এতে থাকা ভিটামিন এবং খনিজ পুষ্টি উপাদান ত্বককে সজীব রাখে।

১৯. স্ট্রবেরি
ভিটামিন সি-তে ঠাসা এটি। যা দেহে কোলোজেনের উৎপাদন বাড়ায়। আর এতে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট আপনার দেহ মনকে চনমনে করে তারুণ্যে অনুভূতি এনে দিবে।

২০. আপেল
ভিটামিন সি’র সমৃদ্ধ উৎস। যা ত্বকের কোষগুলোর জন্য খুবই উপকারী। প্রতিদিন একটি করে আপেল খেলে বুড়িয়ে যাওয়া ঠেকাবে এবং তারুণ্য বোধ করবেন।

২১. শ্বেতবীজ বা শণবীজ
এতে থাকা লিগনাস কোলোস্টেরল এর মাত্রা কমিয়ে রাখতে বেশ সহায়ক।

২২. দারুচিনি
এটি কোলোজেনের উৎপাদন বাড়ায় যা আবার ত্বকের স্থিতিস্থাপকতা বাড়ায়।

২৩. আদা
জিনজারোল সমৃদ্ধ আদার প্রদাহরোধী কার্যকারিতা বিশাল।

২৪. ব্রোকোলি
এটি ডায়াবেটিস ও স্থূলতায় আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি কমায়। কারণ এটি দেহে মাইটোকন্ড্রিয়াল ম্যালফাঙ্কশন প্রতিরোধ করে।

২৫. মাছ
ওমেগা-৩ ফ্যাটি এসিড সমৃদ্ধ মাছ হার্টের স্বাস্থ্যের জন্য বেশ উপকারী।
সূত্র : এনডিটিভি

অকালে বুড়িয়ে যেতে না চাইলে এই খাদ্যগুলো বর্জন করুন

আমাদের প্রায় সকলেই নিজের আসল বয়স লুকিয়ে দেখতে আরো তরুণ হতে চাই। এ জন্য নিজেদের চেহারা-সুরতের দেখভাল করা থেকে শুরু করে চুল ও ত্বকের যত্নও নিয়ে থাকি আমরা। এ ক্ষেত্রে আসলে আপনি প্রতিদিন কী খাচ্ছেন সেটাই বড় কথা। জেনটিক্স বা বংশগতি, ধূমপান, রোদের তাপ, পরিবেশ এবং নানা কারণে আপনি অকালে বুড়িয়ে যেতে পারেন।

আপনি প্রতিদিন যেসব খাবার খান সেসব আপনাকে দেখতে পাঁচ বছর বেশি তরুণও করে তুলতে পারে আবার পাঁচ বছর বেশি বুড়িয়েও দিতে পারে। এমন কিছু খাদ্য রয়েছে যেগুলো আপনার বুড়িয়ে যাওয়ার গতিকে দ্রুততর করতে পারে। এসব খাবার আপনার চেহারায় বলিরেখা পড়া, ত্বকের শুকিয়ে যাওয়া দ্রুততর করতে পারে এবং এমনকি ব্যথাও তৈরি করতে পারে।

এখানে এমন কিছু খাবারের তালিকা দেওয়া হলো যেগুলো আপনার বুড়িয়ে যাওয়ার গতিকে দ্রুততর করবে।

১. এনার্জি ড্রিঙ্কস
এনার্জি ড্রিঙ্কে উচ্চমাত্রায় সুগার থাকে। আর এতে থাকা এসিড দাঁতের ক্ষয় করে দ্রুত এবং দাগও ফেলে দেয়। এতে থাকা সোডিয়াম উপাদান দেহে পানি শূন্যতাও তৈরি করতে পারে।

আর এই পানিশূন্যতা ত্বককে দ্রুত বুড়িয়ে দেওয়ার একটি বড় কারণ।
২. সেঁকা পণ্য
বেকারিতে তৈরি খাদ্যপণ্য সব সময়ই দূরত্ব বজায় রাখতে হবে। সেঁকা পণ্যে থাকে উচ্চমাত্রার অ্যাডেড সুগার এবং ফ্যাট। যা খেলে ওজন বেড়ে যাওয়া এবং দাঁতের স্বাস্থ্য নষ্ট হয়ে যাওয়ার মতো সমস্যা তৈরি হতে পারে। এতে থাকা সুগার অস্বাস্থ্যকর জীবাণুদের উৎসাহ যোগায় এবং প্রদাহ সৃষ্টি করে। যা বুড়িয়ে যাওয়ার গতি দ্রুততর করতে পারে।

৩. চিনি
চিনি পুরো দেহের জন্যই ক্ষতিকর। এটি প্রদাহ তৈরি করে যা পরিষ্কার এবং সুন্দর ত্বক তৈরিতে বাধা সৃষ্টি করে। এ ছাড়া চিনি ত্বককে কোমল ও নমনীয় রাখার জন্য দায়ী কোলাজেন ও ইলাস্টিন ধ্বংস করে। যেসব খাবার আপনাকে দ্রুত বুড়িয়ে দেবে সেসব খাবারের মধ্যে এটি শীর্ষস্থানীয়।

৪. উচ্চ গ্লিসেমিক ইনডেক্সযুক্ত কার্বোহাইড্রেটস
ওটস, পাস্তা এবং শস্যদানাজাতীয় খাদ্য ত্বকের বুড়িয়ে যাওয়ার গতি দ্রুততর করে। এছাড়া ব্রণ এবং রক্তের শিরা-উপশিরায় স্ফীদি ঘটিয়েও এটি ত্বকের বারোটা বাজাতে পারে। সার্বিকভাবে আপনার বুড়িয়ে যাওয়ার গতিও বাড়াতে এসব খাবার।

৫. অ্যালকোহল
অতিরিক্ত মদপানের ফলে দেহে ফ্রি র‌্যাডিকেল সৃষ্টি হয়। যা ত্বকের বুড়িয়ে যাওয়ার গতি দ্রুততর করে।

৬. উচ্চ লবণযুক্ত খাদ্য
উচ্চ-সোডিয়ামযুক্ত খাবার দেহে পানি জমাতে এবং স্ফীতি ঘটাতে পারে। দেহে পানি বেড়ে গেলে ত্বক ফোলা এবং ক্লান্তির ছাপ পড়তে পারে। আবার লবণাক্ত খাবার দেহের আর্দ্রতা কমিয়ে বুড়িয়ে যাওয়ার গতি দ্রুততর করতে পারে। এই ধরনের খাবার আপনাকে দেখতে বুড়ো করে তুলতে পারে।

৭. প্রক্রিয়াজাতকৃত খাবার
উচ্চ প্রক্রিয়াজাত খাবার আমাদের স্বাস্থ্য ধ্বংস করতে পারে। এসব খাবারে ভিটামিন, খনিজ পুষ্টি এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের ঘাটতি থাকে প্রচুর। ফলে বুড়িয়ে যাওয়ার গতি সহজেই দ্রুততর করে।

৮. কফি
সকালে ঘুম থেকে উঠেই কফি পান করলে বুড়িয়ে যাওয়ার গতি বেড়ে যাবে। সুতরাং প্রতিদিন এক বা দুই কাপের বেশি কফি খাবেন না। আর পানি খাবেন বেশি বেশি।

জালিয়ার দ্বীপ হবে দেশের প্রথম ট্যুরিজম পার্ক

jalia-dip

পাহাড় আর নদী ঘেরা নয়নাভিরাম প্রাকৃতিক সৌন্দর্ষের আঁধার নাফ নদীর জালিয়া দ্বীপটিকে ঘিরে গড়ে উঠছে দেশের প্রথম বিশেষায়িত ট্যুরিজম পার্ক। ২৯১ একর ভূমির এই দ্বীপকে আন্তর্জাতিকমানের ট্যুরিজম পার্কে রুপ দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

দেশে একশ’ বিশেষায়িত অর্থনৈতিক অঞ্চল (এসইজেড) গড়ে তোলার মহাপরিকল্পনার অংশ হিসেবে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা)এই পর্যটন কেন্দ্র গড়ে তুলছে। ২০১৮ সালে দ্বীপটিতে পর্যটকদের যাওয়ার উপযোগী করতে চায় বেজা।

ট্যুরিজম পার্কে পাঁচ তারকা হোটেল, ঝুলন্ত সেতু, ৯ দশমিক ৫ কিলোমিটার ক্যাবল কার নেটওয়ার্ক, রিসোর্ট, ভাসমান জেটি, শিশু পার্ক, ইকো-কটেজ, ওসানেরিয়াম, ওয়াটার রেস্টুরেন্ট,ভাসমান রেস্টুরেন্টসহ বিনোদনের বিভিন্ন আয়োজন রাখার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। এ বিষয়ে বেজার নির্বাহী চেয়ারম্যান পবন চৌধুরী বাসসকে বলেন,নাফ ট্যুরিজম পার্কটি হবে বাংলাদেশের প্রথম ট্যুরিজম পার্ক,যা বিনোদন জগতে নতুন দিগন্ত উম্মোচন করবে এবং এখানে থাকবে সুস্থ বিনোদনের সব ব্যবস্থা।

ট্যুরিজম পার্কটি সফলভাবে বাস্তবায়ন হলে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ মিলে প্রায় ২০ হাজার মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে বলে তিনি জানান। ২০১৮ সালের মধ্যে একটি ঝুলন্ত সেতু নির্মাণ এবং চলতি বছরেই ভূমি উন্নয়ন কাজ শেষ হবে বলে আশা প্রকাশ করেন পবন চৌধুরী।

বেজার নির্বাহী চেয়ারম্যান বলেন, নাফ ট্যুরিজম পার্ক দেশি-বিদেশি পর্যটকদের ভ্রমণকে পূর্ণাঙ্গ রূপ দেবে। থাইল্যন্ড, মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুরের পর্যটন স্পটে যে ধরনের বিনোদন সুবিধা রয়েছে, তার তুলনায় আরো উন্নতমানের অবকাঠামো সুবিধা এখানে রাখা হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন। নাফ ট্যুরিজম পার্ক উন্নয়নে আড়াই হাজার কোটি টাকার ওপরে বিনিয়োগ করার পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানান তিনি।

উল্লেখ্য, নাফ ট্যুরিজম পার্কের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের জন্য গত বছর জার্মানিভিত্তিক ইউনিকনসাল্ট নামের একটি কোম্পানিকে দিয়ে সমীক্ষা করিয়েছিল বেজা। ওই সমীক্ষায় বলা হয়েছে,২০১৯-২০ অর্থবছরে কক্সবাজারে কমপক্ষে ২৫ লাখ পর্যটক ভ্রমণে যাবে। এর মধ্যে কমপক্ষে ৩০ শতাংশ যাবে নাফ ট্যুরিজম পার্কে। সম্প্রতি জালিয়া দ্বীপ ঘুরে দেখা গেছে সেখানে শোভা বর্ধন বাড়াতে বৃক্ষ রোপন করা হচ্ছে। বিদ্যুতায়নের কাজ শুরু হয়েছে।

এছাড়া ভূমি উন্নয়নের কাজ শুরু করতে ঠিকাদারকে কার্যাদেশ প্রদান করেছে বেজা। দ্বীপের চারদিকের বাঁধ নির্মাণের নকশা সম্পন্ন হয়েছে। শিগগিরই এই কাজের দরপত্র আহবান করা হবে।

ঢাকা থেকে জালিয়ার দ্বীপের দূরত্ব ৪৫৬ কিলোমিটার এবং চট্টগ্রাম থেকে ১৮৫ কিলোমিটার। তবে কক্সবাজার বিমানবন্দর থেকে এর দূরত্ব ৬০ কিলোমিটার। এই দ্বীপ থেকে সেন্ট মার্টিনস দ্বীপে যেতে এক ঘণ্টা সময় লাগে।

জালিয়ার দ্বীপটি নাফ নদীর মাঝখানে অবস্থিত। এর একপাশে মিয়ানমার,অপর পাশে বাংলাদেশের নেটং পাহাড়। এই দ্বীপে দীর্ঘদিন স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তিরা মাছের চাষ করতেন। তবে বেজার নির্বাহী চেয়ারম্যান পবন চৌধুরীর উদ্যোগে দ্বীপটি দখলমুক্ত করা হয়। এখন সেখানে রাস্তাঘাট ও দ্বীপে যাওয়ার জন্য একটি সেতু নির্মাণ করা হয়েছে।

কক্সবাজার শহরের কলাতলী থেকে টেকনাফের সাবরং পর্যন্ত সাগরের কোলঘেষে ৮০ কিলোমিটার মেরিন ড্রাইভ (বিশ্বমানের সড়ক) ধরে পর্যটকরা সাগরের উত্তাল ঢেউ এবং পাহাড়ের সৌন্দর্ষ উপভোগ করতে করতে নাফ ট্যুরিজম পার্কে পৌঁছাতে পারবেন।